BYLC Blog

Survival of the fittest: Insights from Abrar Anwar, CEO, Standard Chartered Bank-Malaysia.

1920 1080 Roshni Shamim

Young people aged 15-24 in Bangladesh were already facing a challenging transition into the labor market when COVID-19 happened. The condition aggravated further as the pandemic brought in the demand for a new set of skills that fresh graduates need currently, in addition to traditional education. Today, the focus of employers has shifted to skills on adaptability, resilience, technology, and remote communication for contributing to organizational growth. In regards to this rising influx of the skills demand, how are these challenges being tackled by Bangladeshi youth? Will the outlook of employers remain the same as before, post-pandemic, or bring in new expectations from young professionals? 

To find key answers on these prevailing questions and to train young people with skills relevant to the job market, BYLC has organized a month-long Career Bootcamp from November 21, 2020 to December 19, 2020. The bootcamp features sessions taken by industry experts of the country who have been sharing their experiences and insights on various aspects of professional development with graduating students and young professionals. Through the bootcamp, BYLC is aiming to prepare the participants for the 21st century job market and meet the existing skills gap.

The opening session of the BYLC Career Bootcamp 2020 was inaugurated by Abrar Anwar, Managing Director & CEO, Standard Chartered Bank, Malaysia, and Yasir Azman, CEO, Grameenphone, and moderated by Ejaj Ahmad, Founder & President, Bangladesh Youth Leadership Center.

The main highlight of the session revolved around issues of youth employment in South Asia and the added damage that COVID-19 has brought on from this year. Abrar Anwar shared his insights to questions about where the future demand is headed on the skills set of youth in Bangladesh, the significance of soft skills in the workplace, and being passionate about your job. 

 

  1. What kind of future skill sets are employers looking for in youth? How is the definition of future resources changing?

The two aspects that youth need to always focus on are soft skills and hard skills; both of them are essential. In today’s job market, being digitally savvy is a huge advantage. Currently, data analysis has huge potential; e-commerce has skyrocketed, artificial intelligence is developing rapidly, and all aspects of cyber-including defense, security and risk are becoming more and more popular. Naturally, all of these aforementioned traits fall under additional skills. At the same time, soft skills have also become very critical. Mental health, resilience, agility, adaptability, and holding a positive attitude have all become significant for the growth of a person and an organization. We are now looking for people who have the winning combination of both hard and soft skills. The foremost concern in every organization with a sustainable approach to its future is focusing on the kind of people they want in that future.

  1. What aspects do you focus on when recruiting youth?

A lot of the weight in the recruitment process depends on the candidate’s attitude. We don’t learn everything from scratch by simply studying the theoretical elements of becoming the ‘ideal candidate’. A crucial life lesson to always remember is that a leader is only as good as his or her team; only inclusive leaders can drive the organization forward, otherwise it can be a disaster. The sooner we understand that we are incomplete leaders without our teams, the better it will be for our progressive growth. Inclusive leadership is critical to an organization’s survival and growth, as each individual brings their unique talents to the table. 

Additionally, we need people who are well-versed in technology. However, one should never forget that there will always be demand for people for all kinds of jobs within the organization. So, when we recruit, the first and foremost basic skill that we try to note is the depth of discipline in an individual, along with their potential to be collaborative and inclusive. The primary question after preliminary assessment usually is: are they positive about self-learning from seniors, juniors, and peers?Therefore, never choose to willingly settle. What is important to remember is that our earlier mistakes are now in the past. The bigger question thus remains: how do I improve myself for the better?

Furthermore, maintaining mental and physical fitness is very critical. If an individual is unfit, he or she cannot think properly. It is difficult and unrealistic to always recruit exactly the right person. There can be a disconnect or even some misunderstandings further down the line. However, individuals willing to learn can go much further than those who are reluctant to venture into new territories. 

  1. What drives youth to switch jobs? 

If anyone feels like their current job no longer serves its purpose, he or she should leave that job right away. You have to feel like, “Yes, it is another day. I can feel the passion to do my work today.” The moment one finds their routine mundane and monotonous, they must simply leave that job, as it will become impossible to prosper there. Standard Chartered Bank focuses on organizational values and internal motivation for our employees. Our purpose is to drive commerce and prosperity through our unique diversity. After all, it is the people that make the organization.

  1. In what functions do you see automation turning jobs redundant at Standard Chartered?

A lot of jobs are already becoming redundant due to the pandemic, forcing many services to shift online. It is therefore an evolution. Providing services personally may be omitted altogether in the coming years. Many services are transitioning toward self-servicing. Many companies, therefore, are rescaling where other aspects of their staff’s skills can be used, such as in wealth management advisory, investment banking, etc.

The ones that can be transferred to technology are the jobs that won’t go redundant. Technology will play a major role in the future job market. People will stay but will be reallocated to other roles in their jobs.

  1. If you had to guess five sectors with the highest job growth in Bangladesh post the pandemic, which ones would you choose?

Manufacturing will remain a major sector with the highest job growth, considering the demographics and shifts of supply chain globally. Evolution is happening where the gap portfolio is changing. Therefore, industries which are heavily exports-oriented and involve sectors of import substitution and domestic consumption will entail tremendous opportunities for young graduates.

ভালো থাকুন!

1920 1280 মুতাসিম বিল্লাহ

আপনার প্রিয় কোন জিনিষ যদি আপনার অজান্তেই হারিয়ে যায় কেমন লাগে আপনার? হারিয়ে যাওয়া যদি বেশি হয়ে যায় তাহলে একবার চিন্তা করে দেখুন প্রিয় সেই জিনিষটি যদি ভালো না থাকে তবেই বয়া কেমন লাগে আপনার?

আচ্ছা মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় কিছু কি আমাদের আছে? সম্পর্কের সীমারেখা যদি মুছেও ফেলি তবুও এই মানুষের অস্তিত্ব ছাড়া আর কিইবা আছে আমাদের?

গত কয়েক বছর ধরেই হতাশা এবং তার জের ধরে আত্মহত্যা আমাদের তরুণদের জন্য এক বিশাল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জীবনের কাছে আত্মসমর্পণ করা অনেকগুলো খবর আমাদের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছে।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি বেশ কিছু আত্মহত্যার কথা জানি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আলোড়িত হয়েছি কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের আফরা আনিকা মৈত্রীর আত্মহত্যার খবরে। মৈত্রী আমার খুবই পছন্দের, কাছের ছোট বোন। বিওয়াইএলসিতেই পড়ানোর সুবাদে ওর সাথে পরিচয় হয়েছিল, পরে একসাথে কাজও করেছিলাম। এই ঘটনার কিছু আগে পরেই আমার পরিচিত আরেকজনের ছোটভাই কে সকালে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনা দুটি আমার ভিতর থেকে এমন ভাবেই নাড়া দিয়েছিল আমি অনেকটা সময় বাকরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। অনেক হিসাব মিলছিল না।

আচ্ছা মানুষ আত্মহত্যা কেন করে? শুধু কি মানসিক ভাবে দুর্বল মানুষজনই আত্মহত্যা করে? কিভাবে এই প্রাণগুলোকে বাঁচানো জায়? এই প্রশ্নগুলো আমাকে অনেক রাত ঘুমাতে দেয়নি। আমার আসে পাশের মানুষ মাত্রই কিছুটা জানে আমি কখনোই এই মরে যেতে ইচ্ছা হয়, মাঝে মধ্যে ভাবি মরে যাবো ধরণের কথা শুনতে কতটা বিব্রত বোধ করি।

মানুষের আত্মহত্যার অনেক ধরণের কারণ থাকতে পারে। সে কারণগুলো কে মোটা দাগে ২টি ভাগে ভাগ করা যায়।

১। কারো কাছ থেকে অবহেলা পাওয়া ও অনুসুচনায় ভোগা

২। নিজের অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যাওয়া

অনেকটা কাছাকাছি হলেও আত্মহত্যার সবগুলো ঘটনাকে এই দুই ভাগে মোটামোটি ফেলা যায়। এই দুটি গণ্ডীর মধ্যে থেকেই আত্মহত্যার ব্যাপারে চিন্তা করা মানুষ ও আমাদের করনীয় কিছু বলার প্রয়াস করছি।

অধিকাংশ আত্মহত্যার ঘটনাগুলো দেখলে জানা যায় যে আত্মহত্যাকারী মানুষটি তার কাছের কোন মানুষ থেকে বেশ ভালো ধরণের অবহেলার শিকার। এ ক্ষেত্রে হতে পারে তাদের চাওয়া পাওয়ার মিল হয় নি। অথবা এমনও অনেক সময় হয় কেউ কাউকে নিদারুণ কষ্ট দিয়ে ফেলেছে, অপরাধবোধ থেকে অনেকেই আত্মহত্যার পথে পা বাড়ায়। যে কষ্ট পাওয়া বা অপরাধ বোধ হয়ত সামান্য কিছু আলোচনার মাধ্যমেই মীমাংসা করা যেত।

হতাশ মানুষের সাথে কথা বলার অভিজ্ঞতা আমার দীর্ঘদিনের। সব ক্ষেত্রেই যে কথাটি আমাকে সবচেয়ে বেশি শুনতে হয় তা হল, আপনার কি মনে হয় আমি ইচ্ছা করে এমন করছি কিংবা আপনার বেলায় হলে বুঝতেন কি কষ্ট এমন অনুভূতির জায়গায়। তাদের আমি যেটা সব সময়ই বলি তা হল কেউ কখনোই সজ্ঞানে নিজেকে কষ্ট দেয় না। উল্টা মানুষ যখন যুক্তি থেকে আবেগের দিকে অনেক বেশি ভারি হয়ে যায় তখন আসলে মানুষ সজ্ঞানে থাকেই না। তাই নিজেকে কষ্ট দেয়। এবং দ্বিতীয় কথাটির সাথে মিল রেখে যেটা বলি তা হল আমি ঐ জায়গা তে নেই দেখেই আমি আসলে বের হওয়ার পথটা দেখতে পাচ্ছি। যেমন কেউ যদি একটা গোলক ধাঁধার মধ্যে থাকে সে তখন সেখান থেকে বের হতে পারে না, কারণ সে সামনের রাস্তাটা দেখতে পায় না। কিন্তু বাইরে যারা থাকে তারা একটু উপর থেকে দেখতে পারে বলেই তারা জানে যে বের হওয়ার রাস্তা আসলে কোনদিকে। এতে যে ধাঁধায় হারিয়ে গেছে তাকে অবহেলার করার অথবা বাইরে দাঁড়িয়ে পথ বলে দেয়া লোকটাকে অবজ্ঞা করার কিছু নেই।

মনে রাখা দরকার যে কেউ যদি আত্মহত্যার কোন কারণ হিসেবে যুক্তি দেখায় তখন তাকে আবেগ দিয়ে বুঝাতে হয় অপরদিকে যদি কারণ হিসেবে আবেগ দেখায় তাহলে তাকে যুক্তি দেখাতে হয়। এটাই এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার এক মাত্র উপায়। তাতে মাঝে মাঝে অন্যকে নির্দয় কিংবা উপদেশ দেয়া সহজ ধরণের মানুষ মনে হতে পারে, কিন্তু উপায় এটাই।

এবার আপনারা যারা আপনাদের হতাশা থেকে বের হওয়ার জন্য সম্ভাব্য উপায় হিসেবে আত্মহত্যাকে দেখতে পাচ্ছেন তারা একটু মন দিয়ে পড়তে পারেন।

এমন যদি হয় আপনি অপরাধবোধে ভুগছেন, কিংবা কেউ আপনাকে অবহেলা কষ্ট দিয়েছে তাহলে আপনার জন্য একটা সহজ উপায় আছে যা অন্তত মরে যাওয়া থেকে সব দিক থেকেই উত্তম।

Adaptive Leadershipর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে কনভারসেশন বা আলোচনা করা। এই আলোচনা করাকে আমরা ৪টি ভাগে ভাগ করতে পারি, তার মধ্যে একটি হল Courageous Conversation. এ ধরণের আলোচনাকে Courageous বলা হয় কারণ এই ধরণের আলোচনার জন্য অনেক সাহস প্রয়োজন হয়। দরকার পড়ে নিজের আমিত্বকে একটু ছেড়ে দেয়ার। কিন্তু এটা অনেকটাই জাদুকরী একটা ব্যপার। এ ধরণের আলোচনা অনেক ধরণের সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে দেখেই হয়ত আমাদের সমাজে এ ধরণের আলোচনার সংখ্যা খুব কম।

এ ধরণের আলোচনার জন্য দুই পক্ষকেই এক সাথে দাঁড়াতে হয়। যেখানে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি আমাদের অবস্থানের কারণে আরেকজনের যে ক্ষতি হচ্ছে সেটা মেনে নেই। ব্যাস, এটুকুই। এখানে আমরা ওপর পক্ষ কে বলতে শিখি যে দেখে আমি জানি আমি যা করছি তাতে তোমার এই ক্ষতি টা হচ্ছে কিন্তু আসলে আমি কাজ টা করছি এই কারণে, এখানে যে লাভটা আছে টা হল এই। এতে যা হয় তা হল ওপরপক্ষের প্রতি এক ধরণের সহমর্মিতা প্রকাশ পায়। পৃথিবীতে আপনি এগিয়ে যেতে চাইলে আপনাকে অনেক সময়ই আরেকজনকে পিছনে ফেলে আসতে হবে। খুব কম সুযোগই আপনি পাবেন যেখানে সবাই এক সাথেই এগিয়ে যাওয়া যায়। তো অন্যের এই ক্ষতিটুকু স্বীকার করতে সমস্যাটা কোথায়? অনেক সময় আপনার হয়ত কিছু করার নেই, তাহলে দোষ কোথায় এটা মেনে নিতে, বলতে যে আপনি সহমর্মি এই ক্ষতির জন্য।

যার সাথে অন্যায় করেছেন, যাকে কষ্ট দিয়েছেন তার সাথে একবার বসুন, বলুন কেন আপনি বাধ্য কিংবা অনেক সময় সাময়িক ক্ষতি উপেক্ষা করলে যে সুন্দর ভবিষ্য পাওয়া যায়। এ ধরণের আলোচনা মূলত হয় হৃদয়ের সাথে। যেখানে দুই পক্ষই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন আলোচনায় জেতার জন্য নয় বরং আলোচনায় সফল হতে যেন ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। চেষ্টা করে দেখুন নিজে এধরনের আলোচনা করতে এবং অপরদিকে কেউ যদি আপনার সাথে কথা বলতে চায় তাকেও একটু সুযোগ করে দিন। নিজের মনের ভেতর থেকেই অনেক সাহস পাবেন, হালকা লাগবে। কষ্ট কতটা কমবে আমার জানা নেই তবে আর মরে যেতে ইচ্ছা করবে না এতটুকু নিশ্চিন্তেই বলা যায়।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে নিজের অস্তিত্বের সংকটে ভুগতে থাকা কে দায়ী করা যায়। সত্যি বলতে আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা এ সংকট তৈরিতে বেশ তপর। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে অন্য মানুষের কথিত সাফল্য অপরদিকে নিজের আকাঙ্ক্ষিত পর্যায় পৌঁছাতে না পারা এই সংকটের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করা, চাকরীর বাজারে গুণের চেয়ে রূপের, অনেক সময় প্রতিভার চেয়ে ফলাফলের কদর বেশি হওয়া এই সংকটের আগুনে জ্বালানির মত কাজ করে। সহজ ভাষায় নিজের সঠিক মূল্যায়ন না হলেই আমরা ভাবতে থাকি আমাদের সব শেষ।

মানুষের জীবন অনেকটা পর্দায় অভিনয় করা একজন শিল্পীর মত। একজন শিল্পী যেমন তার জীবনে অনেক ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে বাস্তবেও কিন্তু তাই হয়। কিন্তু যত ভালো শিল্পীই হোক না কেন কেউ কিন্তু সবগুলো চরিত্রে একদম শতভাগ সেরা অভিনয় করতে পারে না। আমাদের পছন্দের নায়ক নায়িকাদের দিকে তাকালেই কিন্তু এর খুব ভালো উদাহরণ পাওয়া যায়। একজন নেতিবাচক চরিত্রের অভিনেতা যদি ভালবাসায় পরিপূর্ণ একজন প্রেমিকের ভূমিকায় অভিনয় করে তখন সেটি তার জন্য ঝুঁকির বিষয়, এবং সে যদি সেই ভূমিকাটি যথার্থভাবে চিত্রায়ন করতে না পারে তা কিন্তু তাকে তার নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করার জন্য অযোগ্য করে তুলে না।

এই যদি হয় অবস্থা তবে কেন সাধারণ জীবনে হাজারো চরিত্রে অভিনয় করা আমরা আমাদের কোন একটি ভূমিকা ঠিক ভাবে চিত্রায়ন না হলেই জীবন শেষ ভেবে বসে থাকি? ছাত্র হিসেবে আপনি বাজে হতে পারেন, তবে তা কেন একজন দায়িত্ববান সন্তান হিসেবে আপনাকে অযোগ্য করে তুলবে? একজন অসফল প্রেমিক অথবা একজন স্থূলকায় কর্মচারী হিসেবে কেন আপনি একজন আদর্শ বোন কিংবা সাহায্যকারী বন্ধু হতে পারেন না?

জীবনে কোন মানুষই নিজের সর্ব ক্ষেত্রে সমান সফল হতে পারে না, আবার একবার অথবা হাজার বার ব্যর্থ হওয়াটাও তেমনি ভাবে কোন সফল হতে না পারার প্রমাণ হতে পারে না। চেষ্টা এবং আগ্রহ আপনাকে যেকোনো পর্যায় থেকেই আপনার কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। সব মানুষের জন্য সফলতার মাপকাঠি সমান নয়। এর কোন জাগতিক নিয়ম নেই। আপনার কাছে সম্পদ হতে পারে সফলতা আরেকজনের কাছে খ্যাতি, আবার অন্যজনের কাছে ভালবাসা। যদি তাই হয় তবে তুলনা করারই বা প্রয়োজন কি?

যখনই কোন বিষয়ে নিজের অস্তিত্বের সংকটে ভুগতে থাকবেন, চেষ্টা করুন আপনি কোন দিক থেকে ভালো সেই দিক গুলো খুঁজে বের করতে, যদি না পান তাহলে দেখুন কোন বিষয় ভালো করাটা আপনার জন্য সহজ। নিজেকে বলতে শিখুন যে পৃথিবীর সব কিছু আপনাকে পারতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি আপনার মত। আপনি যা পারেন তা চেষ্টা করেন এমন ভাবে করতে যে এর চেয়ে ভালভাবে আর সম্ভবই না। প্রতিযোগিতাটা রাখার চেষ্টা করুন নিজের সাথে। এতে জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস সবই বাড়বে।

সর্বোপরি, আপনার আসে পাশের মানুষজনকে ভালো রাখার চেষ্টা করুন, দেখবেন তারাও আপনাকে ভালো রাখার চেষ্টা করবে। নিজেকে, নিজের পরিবার প্রিয়জনকে সময় দিন, যারা আপনাকে মূল্যায়ন করে না, তাচ্ছিল্য করে তাদের থেকে কিছুটা দূরত্বও রাখতে পারেন।

মনে রাখবেন, ভালো রাখার জন্য ভালো থাকা প্রয়োজন।

বিওয়াইএলসি ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ২০১৮: আমার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

1000 668 Sherazoom Monira Hasib

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি)’র আয়োজনে শেষ হয়ে গেল পঞ্চম ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট। যেহুতু বিওয়াইএলসি’তে থাকা অবস্থায় আমার জন্য এটাই প্রথম সামিট, শুরু থেকেই সামিট ঘিরে ছিল অন্যরকম প্রত্যাশা। সারা দেশ থেকে বাছাই করা ৪০০ তরুণ আসবে ইয়ুথ ম্যানিফেস্টো তৈরি করতে যা ছিল এক অন্যরকম আনন্দের ব্যাপার। তাই অপেক্ষাটা ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ন।

২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় সামিটের আনুষ্ঠানিকতা। বিওয়াইএলসি’র সবাই পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী ৭ টার মধ্যেই উপস্থিত হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। আর তার কিছুক্ষন পরেই আসতে শুরু করে সামিট ডেলিগেটরা। সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা শুরু করে রেজিস্ট্রেশন। দীর্ঘ সারি থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে ছিল নতুন কিছু শেখার উৎসাহ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন শেষ করে সবাই প্রস্তুতি নেয় প্রথম সেশনের জন্য।

প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা

সকাল ৯ টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠে ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ২০১৮’র। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিওয়াইএলসি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইজাজ আহমেদ। এ সময় তিনি দীর্ঘ দশ বছর ধরে তরুণদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এর পর পর ই কথা বলেন নাগরিক টিভির সিইও আব্দুন নূর তুষার। তিনি সামিট ডেলিগেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা যে ধরনের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতাম বাংলাদেশটা ঠিক তেমনই হয়েছে।” তিনি তরুণদের কে আরও বেশি দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। সামিট ডেলিগেটদের উদ্দেশ্যে আরও কথা বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ড. গওহর রিজভী। তিনি তরুণদের পরামর্শ দেন পারস্পরিক মত বিনিময় করতে যার মাধ্যমে তাদের জানার পরিধি বাড়বে। এই ব্যাপারটা আমাদের সবার জন্যই প্রযোজ্য। হয়তো আমরা বিভিন্ন বিষয়ে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু পরস্পরের মতামতের ব্যাপারে সম্মান প্রদর্শন করে যুক্তির মাধ্যমে আসলে সুন্দর একটা সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব। প্রত্যকের যে একটা আলাদা মতামত থাকতে পারে সেটার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাটাও প্রয়োজনীয়।

প্রথম সেশনের পরে ছিল চা বিরতি আর তার পরেই বহু আকাঙ্ক্ষিত প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সেশন, যেখানে তিনি কথা বলেছেন তরুণদের বক্তব্য কেন গুরুত্বপূর্ন সে বিষয়ে। সব সময়ের মতই তাঁর মনোমুগ্ধকর বক্তব্য দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করে রাখেন। বিভিন্ন গল্পে গল্পে তিনি তুলে ধরেন কিভাবে প্রাত্যাহিক জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করা যায়। এ সময় তিনি বলেন, “নেতা হতে হলে সবার আগে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। এমন একজন যার নির্দেশ শোনামাত্রই সবাই তা মেনে নেয়।” আমরা যদি বর্তমান পরিস্থিতির সাথে একটু তুলনা করি, দেখতে পাব বিশ্বাসযোগ্যতা আসলে সবাই অর্জন করতে পারে না। আর যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে আমরা কিন্তু সহজেই তাদের যে কোনও পরামর্শ মেনে নিচ্ছি। এর পিছনে কারণ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্য একজন ব্যক্তি কখনও না জেনে কোনও ব্যাপারে পরামর্শ বা নির্দেশ দেন না। আমাদের প্রায় সবার মধ্যে একটা ব্যপার কাজ করে, আর সেটা হলো যে কোনও সমস্যায় কর্তৃপক্ষ এগিয়ে না আসলে আমরা হয়তো সমস্যার সমাধান করতে পারব না। কিন্তু সামান্য উদ্যোগী হলে যে খুব সহজেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে সেটা আমরা ভাবি না। এ ব্যাপারে প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ জোর দেন এবং সবাইকে যার যার জায়গা থেকে সঠিক কাজটি করার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে আইস ব্রেকিং ও নেটয়ার্কিংসহ বেশ কিছু সেশন ছিল। প্রথম দিনের শেষ সেশনটি ছিল বিওয়াইএলসি প্রেসিডেন্ট ইজাজ আহমেদের। এ সময় তিনি কঠিন পরিস্থিতে পড়লেও কিভাবে নেতৃত্ব চর্চা করা যায় সে ব্যাপারে বক্তব্য দেন।

প্রথম দিনের শিক্ষা ছিল সব সময় কেউ না কেউ এসে কাজটা করে দিবে এটা না ভেবে বরং নিজে একটু উদ্যোগী হলে খুব সহজেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। আর কোনও কিছুতে নিজে নেতৃত্ব দিতে চাইলে আগে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। অথবা আমাদের এমন কাউকেই নেতা নির্বাচন করা উচিত যাকে প্রশ্নাতীতভাবে বিশ্বাস করা যায়।

দ্বিতীয় দিনের অভিজ্ঞতা

দ্বিতীয় দিনের শুরুটা হয় প্রফেশনাল ডেভেলাপমেন্ট সেশনের মধ্য দিয়ে যেখানে বিওয়াইএলসি অফিস অফ প্রফেশনাল ডেভেলাপমেন্ট এর ডেপুটি ম্যানেজার ফারাহ চৌধুরী তরুণরা নিজের মতামত কিভাবে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ দেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং গুছিয়ে নিজের যে কোন বক্তব্য উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। অনেকেই হয়তো নিজের মতামত কিভাবে তুলে ধরতে হবে বা কোন উপায়ে তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিবে তা বুঝতে পারে না। আমার নিজের ক্ষেত্রেও যে ব্যাপারটি অনেকবার ঘটেছে। এই সেশনটি আসলে মনে যে ভয়গুলো ছিল সেগুলো দূর করতে সহায়তা করেছে।

দিতীয় দিনের চা বিরতির পর দুটি ভিন্ন সময়ে মোট চারটি সেশন ছিল। ডেলিগেটদের সামনে সুযোগ ছিল প্রথম ভাগের ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা’ ও ‘সার্বিক অন্তর্ভুক্তিকরন’ থেকে একটি এবং দ্বিতীয় ভাগের ‘ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান’ ও ‘তরুণদের জন্য নিরাপদ স্থান’ এ দুটি থেকে একটি করে মোট দুটি সেশন বেছে নেয়ার। প্রতিটি সেশনে আলোচনায় অংশ নেন বিষয় সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ।

এই সেশনগুলোর মধ্য থেকে আমার থাকার সুযোগ হয়েছিল ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা’ ও ‘তরুণদের জন্য নিরাপদ স্থান’ এ দুটি সেশনে। প্রথম সেশনটিতে কথা বলেন, টিচ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মায়মুনা আহমেদ, ১০ মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক, ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশনাল ডেভেলাপমেন্ট (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়) এর প্রভাষক শামনাজ আরিফিন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হুমায়রা আহমেদ। বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে আমাদের গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সাথে তারা গুরুত্ব দেন শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উপর। ১০ মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক বলেন, “ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশের তরুণদের জন্য এক বিশাল সুযোগ তাদের নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য।” এই সুযোগটি আসলে আমাদের আরও বেশি করে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা ভেবে দেখা জরুরি। নিজের স্মার্টফোনটা কাজে লাগিয়েও এখন অনেক কিছু শিখে ফেলা সম্ভব। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে অনেক বেশি ফ্রি রিসোর্স রয়েছে যা আমরা দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে পারি। একই সাথে নিজে থেকে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়াটাও জরুরি। আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের কিছু সময় বাঁচিয়েই আসলে আমরা দক্ষতা বাড়াতে পারি। এমনকি সেটার জন্য নির্ধারিত কোন সময় মেনে চলা জরুরি নয়। বরং আমাদের সুবিধাজনক সময়েই অনেক কিছু শিখে ফেলা সম্ভব।

দিনের অন্য সেশন যেটিতে ছিলাম তা হচ্ছে তরুণদের জন্য নিরাপদ স্থান। এই সেশনে কথা বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, দ্যা লিগ্যাল সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা আনীতা গাজী ইসলাম, এবং একশন এইড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর। এই সেশনটি সঞ্চালনা করেন বিওয়াইএলসি গভর্নর বডির সদস্য ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস এন্ড জাস্টিস এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মানজুর হাসান ওবিই। তরুণদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তারা সবাইকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন। সামিট ডেলিগেটরাও স্বীকার করে যে সবাই ই বিভিন্ন সময়ে আইন ভঙ্গ করি। অথচ আমাদের উচিত ছিল নিজে আগে আইন মেনে চলা। উদাহরণ হিসেবে বক্তারা পাইরেটেড সফটওয়্যারসহ বেশ কিছু জিনিসের কথা বলেন। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “নিরাপদ সড়কের জন্য পথচারীদের আইন মানা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “কাউকে পরামর্শ দেয়ার আগে নিজে সেটা ঠিকভাবে পালন করতে হবে, তাহলেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।” নিজেরা আইন না মেনে শুধু চালকদের দোষারোপ করে আসলেই সমস্যার সমাধান কখনও সম্ভব নয়। এমনকি বেশিরভাগ সরক দুর্ঘটনা পথচারীরা আরেকটু সাবধান থাকলে এড়ানো যেতো।

এ দিনই প্রথম তরুণরা ইয়ুথ ম্যানিফেস্টো তৈরির কাজ শুরু করে এবং এর রূপরেখা কেমন হতে পারে তা নির্ধারন করে। সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সামিটের দ্বিতীয় দিন। তবে আমার জন্য দিনটি ছিল নিজেকে শোধরানোর প্রতিজ্ঞা করার। কেননা জেনে হোক না জেনে হোক প্রায় প্রতিটি দিন বিভিন্ন আইন ভঙ্গ করে চলেছি। অথচ এই আমিই হয়তো প্রতিদিন কাউকে না কাউকে দোষারপ করে চলেছি আইন না মেনে চলার জন্য। এই উপলব্ধিটা কাজ করে যে আমার নিজের কারনেও হয়তো কারও না কারও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আর তাই প্রতিজ্ঞা ছিল নিজেকে শোধরাতে হবে আগে।

শেষ দিনের অভিজ্ঞতা

শেষ দিনটি ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততাময়। দিনের শুরুটা হয় দেশের সেবা করার শপথের মধ্য দিয়ে। প্রায় চারশত তরুণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সাথে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার প্রতিশ্রুতি জানায়। এরপরেই তারা ব্যস্ত হয়ে উঠে ইয়ুথ ম্যানিফেস্টোর চূড়ান্ত রূপ দেয়ার কাজে এবং তা দিনের মধ্যভাগের মধ্যেই শেষ হয়। এরপর বিওয়াইএলসি এক্স এর প্রোডাক্ট ম্যানেজার খালেদ সাইফুল্লাহ কথা বলেন একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী কর্মদক্ষতা নিয়ে। যেখানে তিনি একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে বিওয়াইএলসি এক্স এর তৈরি করা কোর্সগুলোর সাথে সবাইকে পরিচিত করিয়ে দেয়।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দের অংশগ্রহনে অন্যতম উল্লেখযোগ্য সেশন। সে সেশনে প্রত্যেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় তাঁরা তরুণদের কল্যাণে কাজ করবেন। এরপর তাঁরা ডেলিগেটদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তাঁরা তরুণদের আরও বেশি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা মতামত দেন রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই আসলে আরও বেশি তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। যে রাজনীতিকে অনেক সময় আমরা নোংরা বলে ফেলি সেটা ঠিক করতে হলেও তরুণদের আরও বেশি যুক্ত করা প্র সেশন শেষে রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দের সামনে তরুণদের তৈরি করা চূড়ান্ত ইয়ুথ ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করা হয় এবং প্রত্যেকের হাতে সেটির একটি করে কপি তুলে দেয়া হয়। এ সময় তাঁরা জানান এই ম্যানিফেস্টো তাঁরা নিজেদের দলের কাছে পৌঁছে দিবেন যেন তা তরুণদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

তিনদিনব্যাপী সামিটের সমাপনী বক্তব্য দেন দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজ আনাম। তাঁর সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে সামিট ডেলিগেটদের সামনে তিনি বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সম্মান পাবার প্রথম শর্ত হচ্ছে অন্যকে সম্মান করা। তুমি যদি কাউকে সম্মান কর দেখবে তারচেয়ে অনেক বেশি সম্মান তুমি পাবে।”  তাঁর এই একটি উক্তিই যদি বর্তমান সময়ে মেনে চলা হয় তাতেও আসলে আমাদের সমাজে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব। কেননা পারস্পরিক সম্মান থাকলে যে কোনও কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব। উনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে তিন দিনের এই তরুণদের মিলনমেলার।

সামিট হয়তো শেষ, কিন্তু এর শিক্ষাগুলো যদি মনে রাখা যায় এবং প্রয়োগ করা হয় তবেই আসলে সমাজে পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এই সম্মেলন তরুণদের মধ্যে এক বন্ধন তৈরি করে দেয়। তারা যখন বিদায় নিচ্ছিল তখনও চোখে মুখে ছিল প্রাপ্তির আনন্দ। কেননা তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, তারা তাদের দাবিগুলো সঠিক জায়গায় তুলে ধরতে পেরেছে। মাত্র তিন দিনের মাঝেই তাদের মাঝে এসেছে আমূল পরিবর্তন। তারা প্রত্যকেই এক একজন বদলে যাওয়া তরুণ যারা দেশের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ।

বাংলাদেশের তরুণরা মনে করে বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামের সংশোধন প্রয়োজন

1000 668 Sherazoom Monira Hasib

একটি দেশ গড়ার জন্য ও এর উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে দেশের তরুণ সমাজ। তাদের মতামত কে অগ্রাহ্য করে দেশের সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব নয়। ২৭, ২৮, ও ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পঞ্চম ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট কে সামনে রেখে ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে’র মাধ্যমে বিওয়াইএলসি জানতে চেষ্টা করেছিল, দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভাবনাগুলো। তারা স্বাধীনভাবে সেখানে তাদের মতামত জানায় এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক তরুণ মতামত প্রকাশ করে উন্নত দেশ গড়তে সবার আগে প্রয়োজন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলামের সংশোধন প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছয়টি শিক্ষা কমিশন গঠন হয়েছে এবং মোট দুটি শিক্ষা নীতি প্রণীত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গঠিত ছয়টি কমিশনে মধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন (ড. কুদরত-ই-খুদা) রিপোর্ট ১৯৭৪ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর শিক্ষা নীতি দুটি প্রণীত হয় ২০০০ সালে ও ২০১০ সালে। সর্বশেষ প্রণীত শিক্ষা নীতি ২০১০ অনুযায়ী, সবার শিক্ষার জন্য সমান সুযোগ থাকতে হবে। সেখানে প্রতিটি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমানভাবে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার কথা বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। যে কারনে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের মাঝে যে ধরনের প্রত্যাশা আছে তা অনেকাংশেই পূরণ হয়নি।

শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমনা পরিস্থিতি বুঝতে হলে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। এই পর্যায় টা হচ্ছে যে কারো শিক্ষা গ্রহনের মূল ভিত্তি। অথচ প্রাথমিক পর্যায়েই অনেকগুলো ধারা রয়েছে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে। যেমন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, ‘ইংলিশ ভার্সন’, মাদ্রাসা ইত্যাদি। যে কারনে শিশুদের মধ্যেই শিক্ষার তারতম্য হচ্ছে। আর এর ফলাফলস্বরূপ সবার মেধার বিকাশ সমানভাবে হচ্ছে না। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই শুধুমাত্র ফলাফলমুখী। অর্থাৎ, এখানে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে সবাই একটি ভালো ফলাফলের ব্যপারেই বেশি আগ্রহী। আর তার ফলশ্রুতিতে শিক্ষার মূল  উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রেই ব্যহত হচ্ছে। এটা বুঝানোর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের কথা বলা যেতে পারে। প্রতি বছর অনেক বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ ফলাফল অর্জন করলেও ভর্তি পরীক্ষায় তারা ভালো করতে পারছে না। যদিও সেই একই সিলেবাস থেকে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে, কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীরা ভালো করতে পারছে না।

কেন তরুণরা কারিকুলাম পরিবর্তন করার কথা বলছে?

একইভাবে যে সকল তরুণ ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভেতে অংশ নিয়েছে, তারা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করার পরেও তাদের চাকরি পেতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা মৌলিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছে তাদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। তারা জানিয়েছে যথেষ্ট ভালো ফলাফল থাকার পরেও তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডাকা হচ্ছে না। আবার অপেক্ষাকৃত খারাপ ফলাফল নিয়েও কেউ কেউ ভালো কোথাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এর পিছনে তরুণরা দায়ী করছে বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতির বিভিন্ন পর্যায়ের কারিকুলাম কে। কেননা তারা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে তার সাথে চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার সাথে মিল থাকছে না।

এর পিছনে প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম  অনেক আগের এবং বর্তমান সময়ের সাথে সাথে তা পরিবর্তন করা হয় নি। কিন্তু একই সাথে চাকরির বাজারে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন চাকরির জন্য একাডেমিক পড়াশোনার বাইরেও অনেক কিছু জানা থাকা জরুরি যা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্যি বেশিরভাগ শিক্ষার্থী চাকরির জন্য দরকারি বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত থাকে না এবং অনেকটাই মুখস্থ নির্ভর পড়াশোনায় অভ্যস্থ। শুধুমাত্র চাকরির আবেদন করতে গেলেই তারা অনুধাবন করতে পারে যে তাদের একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে অনেক কিছু জানা প্রয়োজন। এছাড়াও অন্যান্য স্তরের কারিকুলাম নিয়েও তরুণরা চিন্তিত। তারা মনে করে শুধু মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম পরিবর্তন করেই সামগ্রিক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব নয়। বরং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই সব কিছুতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।

কারিকুলামে কি ধরনের পরিবর্তন আনা যেতে পারে?

কারিকুলাম পরিবর্তনের একটি বড় অংশ হতে পারে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে তোলার উপযোগী করে কারিকুলাম প্রণয়ন। যদিও মাধ্যমিক পর্যায়ে এখন সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেটাকে আরও বেশি উন্নত করা প্রয়োজন। একই সাথে শিক্ষকদের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে যেন শিক্ষার্থীরা সজবোধ্যভাবে সব কিছু শিখতে পারে। পরিবর্তন টা সেখান থেকে শুরু হলে খুব সহজেই অন্যান্য পর্যায়েও শিক্ষার মানের পরিবর্তন অবশ্যাম্ভাবী।

আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান চাকরির অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ভবিষ্যতে কি ধরনের চাহিদা থাকতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কারিকুলামে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে শিক্ষার্থীদের লিডারশিপ, পাবলিক স্পিকিং, কমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয়ের উপরে সঠিক প্রশিক্ষন তাদেরকে চাকরি থেকে শুরু করে সব ব্যাপারেই সহযোগিতা করতে পারে। এছাড়াও যে সকল বিষয় পড়ানো হচ্ছে সেগুলোর প্রয়োগের ব্যাপারেও বাস্তব প্রশিক্ষন জরুরি।

 

যে ৭টি উপায়ে কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস কমাতে পারেন খুব সহজেই

1000 668 Sherazoom Monira Hasib

কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস অন্যতম একটি সমস্যা। যখন আপনি স্ট্রেসে থাকবেন, স্বাভাবিক কাজগুলো অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হবে, যার কারনে অফিসে আপনার সামগ্রিক পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যেতে পারে এবং চাকরিতে আপনার উন্নতি বাধাগ্রস্থ হতে পারে। অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না ঠিক কিভাবে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠা যায়। এর সমাধান কিন্তু খুব বেশি কঠিন নয়। আপনাকে শুধু কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে, আর মনে রাখতে হবে কাজের ব্যাপারে স্ট্রেস নেয়া কোনও সমাধান নয়। চলুন দেখে নেয়া যাক কিছু উপায় যা কাজের ক্ষেত্রে স্ট্রেস থেকে আপনাকে দূরে রাখবে।

১. কেন স্ট্রেস হচ্ছে তা খুঁজে বের করুন

কাজের ক্ষেত্রে স্ট্রেস হোক আর অন্য কোনও ক্ষেত্রে হোক, সবার আগে এর পিছনের কারনটা খুঁজে বের করা জরুরি।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় খুব ছোট ছোট ব্যাপার থেকে স্ট্রেস এর উতপত্তি। যেমন, আপনি হয়তো অফিসের কাজগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে পারছেন না আর তাই স্ট্রেস হয়ে যাচ্ছে। আবার এমন হতে পারে রাতে আপনার ভালো ঘুম হয়নি তাই সকালে অফিসে অনেক স্ট্রেস হচ্ছে কিন্তু আপনি হয়তো দায়ী করছেন অফিসের কাজের চাপকে। তাই কারণগুলো আগে খুঁজে বের করুন আর তারপরে এর সমস্যার ব্যাপারে মনোযোগ দিন।

২. রুটিন তৈরি করে কাজ করুন

প্রায় প্রত্যেকেরই একটা সাধারণ সমস্যা রয়েছে আর তা হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারা।  কখনও কি ভেবে দেখেছেন কেন এই ব্যাপারটা হয়ে থাকে? এর পিছনে প্রধানত যে কারনটা দায়ী তা হচ্ছে, আমরা কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই রুটিন মেনে চলি না। যে কোনও কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রধান উপায় হচ্ছে কাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা করে ফেলা। এর সুবিধা হচ্ছে, যখনই একটি করে কাজ শেষ হবে, আপনি অনেক বেশি আনন্দ পাবেন। এতে করে পরের কাজটা আপনি পূর্ণ উদ্যোমে শুরু করতে পারবেন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে সে রুটিনে যেন সময়ের ব্যাপারটা ভালো করে মানা হয়। এমনভাবে রুটিনটা করুন যাতে করে বিশ্রামের কিছু সময় পান। এই অভ্যাসটা একবার করে ফেলতে পারলে আপনার কাজগুলো নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে।

৩. আপনার সুপারভাইজরের সাথে কথা বলুন

আপনি হয়তো অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারনে কোনও কাজই করতে পারছেন না। ব্যপারটা যদি এমন হয়ে থাকে যে কাজের চাপ অনেক বেশি আর আপনি সময়ের মধ্যে সব শেষ করতে পারছেন না, সুপারভাইজরের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন কোন ব্যাপারগুলোতে আপনার সমস্যা হচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ দিনের পর দিন স্ট্রেস নিয়েই কাজ করে আর তা আরও খারাপ ফলাফল বয়ে আনে। শুরুতেই যদি আপনি এ ব্যাপারে সতর্ক না হোন তা আপনার কাজের মূল্যায়নে অনেক প্রভাব  ফেলবে। তাই স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই সেটা নিয়ে আপনাকে কথা বলতে হবে। চেষ্টা করুন নির্দিষ্ট একটা তালিকা করে ফেলতে যেখানে আপনি উল্লেখ করতে পারবেন ঠিক কোন বিষয়গুলো নিয়ে আপনার স্ট্রেস হচ্ছে। আরও ভালো হয় যদি আপনার কোনও সাজেশন থাকে আপনার সুপারভাইজরের কাছে যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে।

৪. নিজেকে অর্গানাইজড রাখুন

স্ট্রেস অনেকটাই মনের সাথে যুক্ত। আপনার মন যদি ফুরফুরে থাকে, স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রেস থেকে আপনি মুক্ত থাকতে পারবেন। আর মনকে ফুরফুরে রাখতে নিজেকে গুছিয়ে রাখার কোনও বিকল্প নেই। খেয়াল রাখুন যেন আপনার ডেস্ক সব সময় ই সুন্দর করে গুছানো থাকে। ব্যাপারটা যদি এমন হয় যে অনেক কাগজ এবং অফিসের আনুষঙ্গিক জিনিস টেবিলে পড়ে আছে, আপনার কাজে মন দিতে সমস্যা হবে। দিনের শুরুতেই আপনার ডেস্ক কে ভালোভাবে গুছিয়ে নিন যেন তাতে কোনও জিনিস এলোমেলোভাবে না পরে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ছোট ছোট টুল ব্যবহার করতে পারেন যা আপনাকে অরগানাইজড থাকতে সাহায্য করবে। কাজের লিস্ট তৈরি করার জন্য স্টিকি নোট ব্যাবহার করতে পারেন। যদি একটু ভিন্নতা আনতে চান, চেষ্টা করুন বিভিন্ন রঙয়ের স্টিকি নোট ব্যবহার করতে। ভিন্ন ভিন্ন কালারের কম্বিনেশন কাজের জায়গাটাকে একটি চমৎকার সাজ এনে দিবে যা নিঃসন্দেহে আপনার পছন্দ হবে।

৫. মাল্টিটাস্কিং থেকে দূরে থাকুন

বেশিরভাগ মানুষের স্ট্রেস শুরু হয় কাজ সঠিক সময়ে শেষ না করতে পারা থেকে। আর এর পিছনে অন্যতম কারন হচ্ছে একই সাথে অনেক গুলো কাজ করার চেষ্টা করা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে একসাথে দুইটা বা তিনটা কাজ করতে পারলে সেগুলো দ্রুত শেষ হবে। বাস্তবিকভাবে সেটা আসলে সম্ভব নয়। একসাথে একটার বেশি কাজ করতে গেলে আসলে কোনও কাজই পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে করা হয় না। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২.৫% মানুষ মাল্টিটাস্কিং করতে সক্ষম যা খুবই নগণ্য সংখ্যক। অর্থাৎ সব মানুষের এই ক্ষমতা নেই। কারন মানুষের ব্রেইন একসাথে দুটো কাজ করতে সক্ষম নয়। আর এর প্রেক্ষিতে সবগুলো কাজেই কিছু কিছু ভুল থেকে যায়। সেই একই কাজ আবার করতে হয় ভুলগুলো শোধরানোর জন্য। অথচ আপনি যদি কাজগুলো সময় অনুযায়ী ভাগ করে নিতেন, ব্যাপার টা অনেক সহজ হয়ে যেত। একটা করে কাজ শেষ হতো এবং আপনি মানসিক প্রশান্তি লাভ করতেন। তাই মাল্টিটাস্কিং থেকে সব সময় ই দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

৬. পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার

অফিস স্পেসে বেশিরভাগ মানুষ সবচেয়ে বেশি যে ব্যাপারটা অবহেলা করে তা হচ্ছে, পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার। অথচ সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ না করলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। একই সাথে সঠিক খাবার গ্রহণ না করলে তা আপনাকে অলস করে দিতে পারে। আমরা অনেকেই হয়তো জানি, টেক জায়ান্ট গুগল তাদের কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর খাবারের ব্যবস্থা রাখে। আর এটা করার কারন হলো তারা জানে কর্মীদের কর্মক্ষম রাখতে হলে তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার প্রয়োজন। আপনার অফিসে হয়তো সে রকম ব্যবস্থা না থাকতে পারে, কিন্তু চাইলেই কিন্তু আপনি স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিজেই করে নিতে পারেন। এতে করে শরীর কর্মক্ষম থাকবে আর কাজের প্রতিও মনোযোগ থাকবে। আর আপনার মেজাজও নিয়ন্ত্রণে থাকবে যা স্ট্রেস থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে। আর এর পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করুন।

৭. পরিমিত বিশ্রাম

একটানা লম্বা সময় কাজ করলে আপনি অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে যাবেন আর নিজেকে অবসাদগ্রস্ত মনে হবে। অনেকেরই একটা ভুল ধারণা আছে যে একটানা কাজ করলে সেটা দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, লম্বা সময় ধরে এক ই কাজ করতে গেলে খুব দ্রুতই তাতে বিরক্তি চলে আসবে। আর তাতে করে কাজটি যে ঠিকভাবে সম্পন্ন হবে না তা নিশ্চিত। তাই কাজের মাঝখানে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে। সে জন্য খুব বেশি সময়ের দরকার নাই। সম্ভব হলে প্রতি ২০ মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ড এর একটি ব্রেক নিতে পারেন। অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী সময় হয়তো একটু বেশিও লাগতে পারে। আর সে ২০ সেকেন্ড সময়ের মাঝে আপনি হালকা ব্যায়াম করতে পারেন বা চোখ বন্ধ করে চোখকে কিছুক্ষন বিশ্রাম দিতে পারেন। যে কোন কাজ সঠিক সময়ে শেষ করতে চাইলে আসলে এর বিকল্প নেই।

মনে রাখতে হবে কাজে স্ট্রেস থাকে মানে সেখানে আপনার পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই খারাপ হবে। তাই এ ব্যাপারে যত দ্রুত সচেতন হওয়া যায় ততই ভালো।

 

Do young graduates of Chattogram have enough opportunities in terms of education, extracurricular activities and career?

2016 1512 Maliha Shamsun

BYLC Chattogram organized its first BYLC Social on August 2, 2018, which discussed the question, “Do young graduates of Chattogram have enough opportunities in terms of education, extracurricular activities and career?”. The discussion was followed by music over tea and snacks.

Before the discussion took full form, a key problem that was identified uniformly by all was that irrespective of the number of opportunities available, young people don’t utilize the existing opportunities. The issue that graduate Abdullah Al Kaisar, co-founder of notable youth organizations like Team Chittagong and Traffic Chittagong, pointed out, “the core problem lies within institutions where they cannot understand the nature of the rapid change, which is why they are reluctant take new initiatives.  Youth also fail to utilize the opportunities they get on their way. This happens because even if they are given the exposure of attending programs or meeting resourceful people, they tend to move away from the purpose of their work. Because to them, “network” has a wrong connotation, they think networking is getting connected with high-profile people in Facebook, chatting and spending time online without being productive.”

Towhid Khan, Manager of BYLC Office of Professional Development (OPD), added, “the youth themselves don’t know what they are capable of doing. They have built their own barrier where they limit themselves from exploring; from knowing what they can get if they explored a totally different field. This leads them to limit themselves.”

Murshedul Alam, pioneer of Campaign Red, feels that culture also has to play a strong role in this matter. In comparison to Dhaka, due to geographical location, climate and the variation in lifestyle, there is less diversity. Another factor is where people fall behind and miss out on opportunities due to family barriers. Samsia Sifat, Assistant Manager of Operations, BYLC Chattogram, expressed concern that this protective nature of families causes the young people of Chattogram to be less confident.

When discussing solutions, the graduates along with the BYLC team concluded that young people must adopt three habits- appreciation, commitment and preparation. As our Assistant Manager of OPD, Arnab Saha mentioned, “Each of us has a role to play. The road towards success is not easy. In this journey of creating ourselves we should not give up. Rather create ourselves every day in a different way by building networks, and using our access to information”.

তরুণদের মতে বাংলাদেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব-এ সমস্যার প্রতিকার কি?

1000 525 Sherazoom Monira Hasib

যদি জিজ্ঞেস করা হয় বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি, নিশ্চিতভাবেই প্রত্যেকের উত্তর ভিন্ন হবে। কিন্তু তরুণরা কি ভাবছে দেশ নিয়ে আর তাদের কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? এসব ভাবনা জানতে বিওয়াইএলসি আয়োজন করেছিল ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে। সেখানে তরুণদের কাছ থেকে যে উত্তরগুলো পাওয়া গিয়েছে তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের মতে বাংলাদেশের সামনে এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বেকারত্ব সমস্যা। তথ্য ও পরিসংখ্যান একই কথা বলছে, অর্থাৎ বাংলাদেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের উপযুক্ত কাজ পাচ্ছে না। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের হারের দিক থেকে বাংলাদেশ তৃতীয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী হচ্ছে তরুণ। আর তাদের একটা বড় অংশই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না। আর এ ব্যাপারে ভয়াবহ তথ্যটি হচ্ছে, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩০%। অর্থাৎ উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করার পরেও মিলছে না কাজের সুযোগ বরং তাদের মাঝেই বেকারত্বের হার বেশি। এর পিছনের কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের প্রধান কারণ হচ্ছে শুধুমাত্র ফলাফল কেন্দ্রিক চিন্তা ভাবনা। আর যে কারনে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত অসংখ্য শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের মধ্যে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট ধারণা থাকে না। একই সাথে অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করে আসলেও তার প্রয়োগ সম্পর্কে যথাযত জ্ঞানের অভাব রয়ে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে একাডেমিক পড়াশোনার খুব বেশি দরকার না হলেও নির্দিষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন হয়। আর এক্ষেত্রেই বেশিরভাগ তরুণ পিছিয়ে পড়ে। দেখা গেল কারো একডামিক ফলাফল অনেক ভালো কিন্তু যে ন্যূনতম দক্ষতার প্রয়োজন তা তাদের নেই। এসব ব্যাপারে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মন্তব্য হলো, তাদের অনেক দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী তারা দক্ষ লোকবল পাচ্ছেন না। অর্থাৎ চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে একটা ‘গ্যাপ’ থেকে যায়। তবে এর পরেও চাকরির নতুন ক্ষেত্র যে খুব বেশি তা নয়। যে পরিমাণ তরুণ প্রতি বছর গ্রাজুয়েশন করে বের হচ্ছে সে পরিমাণ কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। সাউথ এশিয়ান নেটয়ার্ক ফর ইকোনোমিক মডেলিং এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান এখন যথেষ্ট ভালো হলেও, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি।

এ সমস্যা থেকে উত্তোরনের ব্যাপারে তরুণদের মধ্যে বেশ কিছু মতামত রয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মনে করে তাদের আসলে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে কিছু করার নেই। কেননা, বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কারিকুলাম আছে তা বেশ পুরাতন আর যুগোপোগী নয়। আর সে কারিকুলামের বাইরে কিছু করার চেষ্টা অনেক শিক্ষার্থীর মাঝেই থাকে না। কিন্তু একডেমিক পড়াশোনা শেষ করার পর তারা বুঝতে পারে শুধু গতানুগতিক নিয়মে শিক্ষাজীবন শেষ করে আসলে কর্মজীবনে ভালো করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে মোলিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার সুযোগ খুব ই কম। আবার চাকরি ক্ষেত্রে মৌলিক বিষয়ের চেয়ে ব্যবহারিক বা কর্মমুখী শিক্ষা বেশি প্রয়োজনীয়। এই উভয়মুখী সমস্যার কারনে বেকারত্বের হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ সমস্যা থেকে উত্তোরনের উপায় কি?

বেকারত্বের এই সমস্যা থেকে উত্তোরনের জন্য বেশ কিছু নেয়া পদক্ষেপ জরুরি যার অন্যতম হচ্ছে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নতি করা। একই সাথে তরুণদের জন্য এমন কিছু কিছু দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাতে করে তারা নতুন কাজগুলোর জন্য উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারে। চাকরিদাতা ও চাকরি প্রত্যাশীদের মাঝের এই গ্যাপ দূর করার জন্য বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কাজ করছে। যেখানে ৫ টি ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যম ও বয়সের তরুণদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে থাকে বিভিন্ন সেশন যেখানে তরুণদের ‘সফট স্কিলস’ বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হয়। এরকম আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তরুণদের জন্য কাজ করছে কিন্তু তা সবার জন্য যথেষ্ট নয়। আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণরা সরকারের পক্ষ থেকেও বেশি কিছু পদক্ষেপ আশা করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আরও বেশি সরকারি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশা হলো শিক্ষাব্যবস্থার বা কারিকুলামের উন্নতি সাধন করা।

তরুণদের এ সকল প্রত্যাশা ও বক্তব্যগুলো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে ২৭, ২৮, ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিওয়াইএলসির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট। যেখানে তরুণদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশা ও মতামত অনুযায়ী তৈরি হবে ‘ইয়ুথ ম্যনিফেস্টো’।

বিওয়াইএলসি প্রোগ্রাম ইন্টারভিউ-তে অংশগ্রহনের জন্য কি কি জানা জরুরী?

960 640 Sherazoom Monira Hasib

বিভিন্ন সময়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটা সাধারণ জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হয় আর তা হচ্ছে, বিওয়াইএলসি’র কোনও প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য কিভাবে নিজেকে ইন্টারভিউ-এর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ইন্টারভিউতে আমরা আসলে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় জানতে চাই যার একটা বড় অংশ জুড়েই থাকে লিডারশিপ সম্পর্কিত বিভিন্ন জিজ্ঞাসা। যদিও প্রোগ্রাম ভেদে ইন্টারভিউ-তে প্রশ্নের ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা কাছাকাছি ধরনের। আজকে আমি আলোচনা করব এমনই কিছু সাধারণ বিষয় যা আপনাকে বিওয়াইএলসি প্রোগ্রাম ইন্টারভিউ এর জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।

কি ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়?

নিজের সম্পর্কে বলুনঃ সর্ব প্রথম যে বিষয় টা আমরা আবেদনকারীদের কাছ থেকে জানতে চাই তা হচ্ছে তার কি ধরনের অভিজ্ঞতা আছে নেতৃত্ব বিষয়ক। এখানে মনে রাখতে হবে, এই প্রশ্নের উত্তরে কোনও ব্যক্তিগত তথ্য আশা করা হচ্ছে না। বরং, আমরা জানতে চাচ্ছি আপনি নিজের সম্পর্কে কি ভাবেন এবং কি ধরনের ধারণা আছে বিভিন্ন বিষয়ে। এছাড়াও আপনি কি ধরনের কাজ করছেন এখন এবং আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা। তাছাড়াও আপনি কোন বিষয়গুলোতে নিজেকে দক্ষ মনে করেন এবং কোন কোন বিষয়ে আপনার নিজেকে দুর্বল মনে হয় সেগুলো সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হতে পারে।

আবেদনের কারণঃ এই ধাপে জানতে চাওয়া হয় আপনি কেন আমাদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে চান? এখানে আপনি গুছিয়ে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন আপনি এই প্রোগ্রাম থেকে কি প্রত্যাশা করছেন বা এই প্রোগ্রাম আপনার পরবর্তি জীবনে কিভাবে প্রভাব রাখবে। বা এর উত্তরে আপনি এটাও বলতে পারেন আপনি লিডারশিপ শিখে কিভাবে তা প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগাবেন।

নেতৃত্ব বিষয়ক উদ্যোগঃ আপনি কি নেতৃত্ব বিষয়ক কোনও উদ্যোগ কখনও নিয়েছেন? বা নিজে নেতৃত্ব দিয়ে কোনও বাস্তব সমস্যা সমাধান করেছেন? এই প্রশ্নটির মাধ্যমে জানতে চাওয়া হচ্ছে আপনার নেতৃত্ব বিষয়ক পূর্ব অভিজ্ঞতা। আমরা সব সময়ই প্রাধান্য দেই সে সকল আবেদনকারীকে যাদের কিছু না কিছু নেতৃত্ব চর্চার অভিজ্ঞতা আছে। যদি আপনার কোনও ছোট অভিজ্ঞতাও থেকে থাকে, তা ইন্টারভিউতে শেয়ার করুন।

প্রোগ্রামটি সম্পর্কে জ্ঞানঃ আপনি যে প্রোগ্রামটিতে আবেদন করেছেন সেটি সম্পর্কে কি জানেন? এই প্রশ্নটি অবধারিতভাবেই জিজ্ঞাসা করা হয়, কেননা আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে আপনি যে প্রোগ্রামটি করতে চান তা সম্পর্কে অল্প বিস্তর ধারণা রাখেন। আর সে জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে, আপনি যে প্রোগ্রামেই আবেদন করেন না কেন, সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। সে জন্য আপনি আমাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন যেখানে সবগুলো প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত দেয়া আছে।

ইন্টারভিউতে ভালো করার ব্যাপারে কিছু টিপস

ইন্টারভিউতে ভালো করার জন্য আপনার উচিত কিছু জিনিস খেয়াল রাখা। এখানে তেমন কিছু ব্যাপার আমি উল্লেখ করেছি।

প্রাসঙ্গিক উত্তর দিনঃ আপনাকে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে সেটির সঠিক উত্তর দিন ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দিন। অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিলে তা প্রোগ্রামটিতে আপনার অংশগ্রহণের সুযোগ নষ্ট করতে পারে। ধরুন আপনার কোনও একটা নেতৃত্ব বিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়েছে, তাহলে ঠিক সে ধরনের উত্তরই দিন।

সময় সম্পর্কে সচেতন থাকুনঃ আপনাকে যে সময়টা দেয়া হয়েছে ইন্টারভিউ এর জন্য, চেষ্টা করুন তার কিছুটা আগেই পৌঁছে যেতে, যা আপনাকে মানসিক প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।

উত্তর দিন সততার সাথেঃ কোন প্রশ্নের জন্য অসত্য তথ্য ব্যবহার করবেন না। বরং, সত্য তথ্য ব্যবহার করলে আপনার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

উপরোল্লিখিত ব্যপারগুলো অনুসরণ করলে আপনার জন্য ইন্টারভিউতে ভালো করা সহজ হবে বলে আশা করা যায়। আপনার অন্য কোনও জিজ্ঞাসার জন্য নিচে কমেন্ট করুন।

Are we prepared to face a volatile job market?

643 364 Towhid Khan and Sanjida Chowdhury

The global economic outlook of Bangladesh looks positive due to its high GDP growth rate, political stability, and geopolitical support. Yet even after having a booming economy, millions of youth are struggling with unemployment. According to the World Bank’s 2017 statistics, unemployment rate in our neighbouring countries such as India and China were 3.5 percent and 4.05 percent, respectively, whereas in Bangladesh, it was 11.4 percent. This alarming percentage deserves immediate attention from the government and private sector. It is time we dig deep into this perennial problem and look for solutions to the challenges responsible for creating a jobless generation.

Before opting for solutions, one must understand that the issue is not simply that of creating jobs for young people, but to mobilise their skills in support of sustainable solutions. According to global youth chapter of the UN Sustainable Development Solutions Network, youth across the world are struggling with capacity building, communication, fund raising, and scaling of their efforts. Employers are looking for people with complex and adaptive thinking abilities who can cope with a multifaceted, volatile, and unpredictable job environment. In a modern labour market, youth are expected to recognise the interconnectedness of business communities. The breach between what is taught in class and what skills the recruiters are looking for points out the gaps to work upon. Bangladesh, having a large number of unemployed youth, is struggling with additional challenges as well. The absence of quality education and skilled labour force have been identified as the auxiliary causes of this predicament. In a roundtable discussion jointly organised by The Daily Star and Bangladesh Youth Leadership Center, a number of renowned CEOs of reputed companies had pointed out that the most common factor behind unemployment in Bangladesh is the existing skill gap between employers’ demands and employees’ capabilities. Ironically, while there are so many people looking for suitable jobs, employers lament the scarcity of skilled graduates who can foresee the future leadership trends.

Reflecting the changes in the environment, competencies that will be most valuable to the future leaders appear to be changing. The essential qualities that future leadership entails are adaptability, creativity, ability to think strategically, and openness to ambiguity. Different leadership organisations are working relentlessly to equip graduates with these qualities. A number of institutions have introduced leadership programmes to fill the analytical void by equipping our youth with critical thinking, problem solving, and communication skills. Students learn to think critically about leadership through participating in the experiential learning model of the training programmes. By practicing community services, participants translate their learning into action and complete the curriculum. To enhance the job search abilities of the youth, a number of professional organisations help graduates learn professional skills and place them in different organisations. Understanding the global perspective, prospective organisations prepare eligible workforce who are adjustable to adverse work environment and flexible to team management.

With the aim of having a better society, some Bangladeshi youth have brought solutions to different social challenges. Innovators like Osama Bin Noor, Co-founder of Youth Opportunities, Ayman Sadiq, Founder of 10 Minute School and Zaiba Tahyya, Founder and CEO of Female Empowerment Movement, have proved that leadership is a collective development process spread through networks of people. They experimented with new approaches and combined diverse ideas for implementation. Their aim for collective development not only made them competent enough to fight social odds but also rewarded them with prestigious recognitions.

Compared to the social challenges, only a small number of Bangladeshi innovators have found solutions through democratising leadership. However, it is certainly not enough. We still are limited to organising roundtables, identifying the skill gaps and discussing the discrepancies whereas by 2018 we should already have youth engagement in the policy making process. Our country having already attained the prerequisites to be a developing one, requires policy efforts to equip youth with leadership skills and create scopes for placement at different organisations.

Depending completely on some institution to curb unemployment is not an ideal option. If a student wants to secure a suitable job right after graduation, an interdisciplinary knowledge over business, economics, corporate strategy, and technology is a must. Only a bachelor’s degree in one concentrated curriculum does not make him proficient to cope with the volatile working environment. Along with regular studies, one should opt for online tutorials and professional courses to mitigate the skill gaps prevalent in the 21st Century. A graduate, efficient in data management, design thinking, scrum skills, case solving, blog writing will always remain one step ahead from his less informed contemporaries. Using technological advances, different international universities are offering free courses to students across the globe. These courses are designed to help them learn more than what the textbooks can offer. Labour market in the 21st Century highly recommends students to participate in online and offline skills development courses and be aware of the demands of the future job market.

কোটা নিয়ে ভাবনার পাশাপাশি তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়েও ভাবতে হবে

1920 1280 Sherazoom Monira Hasib

দেশের তরুণ সমাজ এ মুহূর্তে কিছু অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য তরুণরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতার পথও বেছে নিচ্ছে। যাতে করে সামগ্রিকভাবে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এসব ব্যাপার নিয়ে তরুণরা কি ভাবছে তা নিয়েই ১২ জুলাই, ২০১৮ তে-বিওয়াইএলসি হেডকোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত হয় নিয়মিত আয়োজন ‘বিওয়াইএলসি স্যোশাল’। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিওয়াইএলসি মার্কেটিং এন্ড আউটরিচ বিভাগের নির্বাহী সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিওয়াইএলসি’র চারজন গ্র্যাজুয়েট।

প্রসঙ্গত, কোটা ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭২ সালের পর থেকে। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের তথা তাদের পরিবারের উন্নয়নের জন্য কোটা ব্যবস্থা প্রচলন করা হয়। তারপর থেকে বিভিন্ন সময়ে কোটার পরিমাণ কখনও হ্রাস আবার কখনও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ কোটা ব্যবস্থাতে সংযোজন করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্মের জন্যও কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তরুণদের থেকে দাবি আসে যে, কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। তখন সরকারিভাবে এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এর মধ্যেই কিছু তরুণ আবারো আন্দোলন করতে থাকে যাতে কিছু অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ব্যাপার নিয়ে তরুণরা কি ভাবছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম তাদের কাছে।

প্রথমেই তরুণরা এ ব্যপারে একমত পোষণ করে যে কোটা একেবারে বাতিল করা  উচিত হবে না। বরং যৌক্তিকভাবে কোটার পরিমাণ হ্রাস করা যেতে পারে। শুরুতেই ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকার সাংবাদিক, মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, “যে কোনও আন্দোলনের সময়ই আমরা একটা দ্বন্ধে থাকি যে আন্দোলনটা আসলে কে পরিচালনা করছে বা কে করবে। যেকোন আন্দোলনের দায়িত্ব এমন কারো হাতে তুলে দেয়া উচিত নয় যে নিরপেক্ষভাবে দাবি উত্থাপন করতে পারে না। যে ব্যাপারটা কোটার দাবি আদায়ের আন্দোলনে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।”

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সব সময়ই পরিলক্ষিত হয়, যে কোনও আন্দোলন থেকেই কেউ না কেউ সুবিধা আদায় করতে চায়। আর তাতে করে অনেক সময়ই মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই তরুণদের উচিত, যে কোন দাবি উত্থাপনের সময় খেয়াল রাখা যেন কেউ তাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে না পারে। একই সাথে কর্তৃপক্ষের উচিত হবে তরুণদের কথা এবং তরুণরা দেশ নিয়ে কি ভাবছে তা শোনার চেষ্টা করা।

কোটা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী তাসনিম মোস্তাকিম বলেন, আমাদের আসলে বুঝতে হবে কোটা ব্যবস্থা কি ধরনের সুবিধা দিতে পারছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে এখনও পর্যন্ত কালোদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। এর পিছনে কারন হচ্ছে, এক দুই জেনারেশনে আসলে কোনও একটা জাতি বা গোষ্ঠীর খুব বেশি সামাজিক পরিবর্তন হয় না। সে কারনে আমাদের ভাবতে হবে আসলে কোটা ব্যবস্থার কি ধরনের পরিবর্তন হওয়া উচিত। তবে একই সাথে তিনি এটাও বলেন যে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করেই আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তাসনিমের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখতে হবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী আসলে ঠিক কি ধরনের সংস্কার দরকার। সরাসরি কোটা বাতিল করে দেয়া কখনও সুষ্ঠু সমাধান নিয়ে আসবে না। কর্তৃপক্ষকে তরুণদের এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী দুই পক্ষের কথা ভেবেই একটা সুষ্ঠু সমাধান নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে সরকারী চাকরিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব অবশ্যই নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি আমাদেরকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবে না যাতে করে তাদের অসম্মান করা হয়। তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

গত দুই তিন বছরে দেখা গেছে, যে কোনও ন্যায্য দাবি আদায়ে তরুণরা আন্দোলন করছে। বিশেষ করে শাহবাগে তরুণদের গণজাগরণ আমাদেরকে ইঙ্গিত দেয় যে তরুণরা দেশ নিয়ে ভাবছে। সাম্প্রতিক সময়ে কোটা আন্দোলন করতে গিয়ে তরুণদের মধ্যে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সে সূত্র ধরে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা আমরা দেখতে পাই। এ ব্যাপারে তরুণদেরকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। তরুণদের উন্নয়নের স্বার্থেই তাদেরকে একসাথে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা না করলে সামগ্রিক  উন্নয়ন কখনও সম্ভব হবে না।

“ফাল্গুনী দেব বলেন, কর্তৃপক্ষ কে বুঝতে হবে যে এই ধরনের আন্দোলন আসলে তাদের বিপক্ষে নয়। তাই তরুণদের কথা বলার সুযোগ দিয়ে তাদের মনের কথা বুঝার চেষ্টা করতে হবে।” এটা সত্যি যে কর্তৃপক্ষের সব দাবি মেনে নেয়া সম্ভব হবে না। তাদের অনেক কিছু বিশ্লেষন করে দেখতে হবে আর এর জন্য সময় দরকার। তাই দুই পক্ষের ধৈর্য এখানে খুবই জরুরি।

এর পাশাপাশি আহমেদ সাব্বির যোগ করেন, “সরকারি চাকরির উপরে তরুণদের নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কেননা শুধু সরকারি চাকরিতে এই বিশাল অংশের তরুণদের চাইলেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।”

তরুণদের উন্নতিতে একবিংশ শতাব্দীর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের কোনও বিকল্প নেই। পাশাপাশি তরুণদের উচিত হবে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসা। এতে করে তারা আরও নতুন নতুন তরুণদের কাজের ব্যবস্থা করতে পারবে। কর্তৃপক্ষকেও ভাবে দেখতে হবে কিভাবে তরুণদের সুন্দর সুন্দর আইডিয়া গুলোকে বাস্তবিক রূপ দেয়া যায়।

বিভিন্ন পর্যায়ের তরুণদের কাছ থেকে মতামত নেয়ার পরে যেটা বোঝা যায় তা হচ্ছে, কেউই আসলে চাচ্ছে না যে কোটা বাতিল হয়ে যাক। সবার একটাই কথা, কোটা ব্যবস্থা দেশের সব পর্যায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন। বিশেষ করে, নারীদের ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কে দেশের মূল ধারায় অবশ্যই নিয়ে আসতে  হবে আর সেটার মাধ্যমেই সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.