‘বাড়ি থেকে কাজ’ করার সময় নিচের ১০ টি টিপস মানছেন তো?

‘বাড়ি থেকে কাজ’ করার সময় নিচের ১০ টি টিপস মানছেন তো?

1920 1280 Hasib Al Mamun

কিছু মানুষ ‘বাড়ি থেকে কাজ’ করতে ভালোবাসেন, আবার কারো কারো এটা একদমই পছন্দ না। এই সময়ে আপনি বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকেন না কেন, হোক তা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত, আপনাকে কিন্তু বড় একটা সময় ঘরেই কাটাতে হচ্ছে। 

স্বাভাবিক কাজকর্মের উপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব শুরুর অনেক আগে থেকেই নতুন ধরনের এই কার্যপ্রক্রিয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস এনালিটিকস এর তথ্য মতে, ২০০৫ সাল থেকে এই সংখ্যাটি ১৭৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ৪৭ লক্ষ মানুষ কোন না কোন ভাবে (আংশিক হলেও) বাড়ি থেকে কাজ করছেন।

এখন যে ১০ টি টিপস এর কথা বলব সেগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি বাড়িতেই সুষ্ঠুভাবে কাজ করার মত টেকসই দাপ্তরিক পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন। করোনা ভাইরাসের কারনে সৃষ্ট অচলাবস্থা দীর্ঘ হোক বা স্বল্প, আশা করি এই পরামর্শগুলো আপনাকে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং আরও ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে।

 

১। কাজের শিডিউল ঠিক করে নিন

যখন আপনি নিয়মিত অফিসে যান, তখন সচরাচর একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে কাজ শুরু এবং শেষ করেন। তবে বাড়ি থেকে কাজ করার বেলায় এই বাধ্যবাধকতা কিছুটা শিথিল থাকে। কেউ দেখছেনা আপনি কখন কাজ শুরু করছেন বা ইতি টানছেন, সুতরাং এখানে দায়বদ্ধতার বিষয়টা একটু অন্যরকম থাকে। এতে করে কিছু মানুষের জন্য সঠিকভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে যায়। যারা অতিরিক্ত কাজের চাপের জন্য লম্বা সময় ধরে কাজ করে, তাদের জন্য ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা আরও কঠিন হয়।

যখনই আপনি কাজ শুরুর সময়টা ঠিক করছেন, তখন নিজের সকালের রুটিন সম্পর্কে ভালোভাবে ভেবে নিন। সাধারণত সুন্দরভাবে দিন শুরু করতে আপনি যে কাজ গুলো করেন যেমন নাস্তা করা, গোসল করা বা ব্যায়াম করা, সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখুন। আপনাকে রাতের রুটিন বিবেচনায় আনতে হবে। সারাদিন যেন মানসিক ও শারিরীকভাবে সুস্থ থাকেন, সেজন্য কিছুটা অবসর সময়ও বের করতে হবে। সব ভেবেচিন্তে যে শিডিউলটি বানালেন তা পরিবার/রুমমেটকে জানাতে হবে। অবশেষে সেটা আপনার কলিগদের জানান। ফলে তারা আপনার কাজের সময় সম্পর্কে জানবে এবং এর মধ্যেই আপনার সাথে মিটিং সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারবে।

 

২। মানানসই পোষাক পড়ুন

হয়তবা সারাদিন আপনার সাথে কারোর ই দেখা হবে না। তবুও যে পোষাক পড়ে ঘুমিয়েছেন সেটা পড়েই যদি কাজ শুরু করেন তাহলে মানসিকভাবেই কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলবেন। প্রথমদিকে হয়ত এভাবেও আত্মবিশ্বাসী থাকবেন, তবে সময়ের সাথে তা অতৃপ্তিতে পরিণত হবে। সব কাজ শেষ করেও হয়ত মনে হবে আপনি আসলে ঠিক সেভাবে কাজ করতে পারেন নি, যেভাবে করা উচিৎ ছিল।

পরিপাটি ফর্মাল পোষাক আপনাকে মানষিকভাবেই কাজের জন্য প্রস্তুত করে দিবে। এতে আপনি আরও আত্নবিশ্বাসী হবেন এবং দিনশেষে কাজের স্বার্থকতা খুজে পাবেন।

 

৩। সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখুন 

আপনার কাজের ধরণের উপর নির্ভর করে কনফারেন্স কল এবং ভার্চুয়াল টিম মিটিংয়ের মাধ্যমে আপনার কলিগদের সাথে যুক্ত থাকুন। কিন্তু আপনি যদি একা কাজ করেন অথবা মিটিংয়ে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন না থাকে তবুও সহকর্মীদের সাথে নিয়মিত ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। তাদের জীবন বা কাজের খোঁজখবর নিতে পারেন। এতে করে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার ফলে সহকর্মীদের মধ্যে যে দূরত্বের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা হ্রাস পাবে।

 

৪। কাজের ফাঁকে হাটাহাটি করুন  

বাড়ি থেকে কাজ করলে একটি সম্ভাব্য বিষয় হতে পারে যে আপনি আপনার সাধারণ জীবনযাত্রার তুলনায় একটু বেশি একঘেয়ে জীবনযাপন করবেন। বিশেষ করে যখন হঠাৎ করেই বাসা থেকে কাজ করা শুরু করবেন। এই একঘেয়েমি কাটানোর জন্য কিছুক্ষণ পরপর বারান্দা, উঠোন বা ঘরেই হাটাহাটি করুন। এতে করে আপনার চোখ একটানা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকানো থেকে বিশ্রাম পাবে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। 

হাটার সময় কাজের কথা সেরে নিতে পারেন। ১০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করতে পারেন যা মানসিক স্বাস্থ্য এবং কর্মক্ষমতার জন্য দরকারি। যেহেতু সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন সেহেতু একাকীত্ব দূর করতে ভিডিও কলে অন্যদের সাথে গল্প করতে পারেন।  

 

৫।  বাসাতেই ‘মিনি অফিস’ বানান

আপনি যেমন সকালে উঠে ঘুমের পোষাকেই কাজ শুরু করে দিতে চাইবেন না, তেমনি বিছানায় বসে কাজ করাও উচিত হবে না। ঘরেই অফিস করার জন্য একটা উপযুক্ত জায়গা বেছে নিন। এতে আপনি সহজেই বাসা আর অফিসের মধ্যে একটা সীমারেখা টানতে পারবেন।

এটা ঠিক যে সবাই কাজ করার জন্য এমন একটা প্রশস্ত আরামদায়ক জায়গা ভালোবাসে যেখানে বিশাল জানালা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো-বাতাস আছে। এমন একটা জায়গা নির্বাচন করুন যা কম কোলাহলপূর্ণ এবং কাজে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও কম। এছাড়াও, একটা আরামদায়ক চেয়ারও জোগাড় করে ফেলতে পারেন, সুন্দর ভাবে কাজ করার জন্য এটি চমৎকার একটি বিনিয়োগ হবে।

 

৬। মনোযোগ সরে যায় এমন কাজ হতে দূরে থাকুন

বাড়ি থেকে কাজ করার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায় এমন কাজগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা। মনে হয় প্রায় শেষ করে ফেলা উপন্যাসটা বুঝি ডাকছে। পছন্দের সিরিজটি বোধহয় অপেক্ষা করছে কখন তা দেখবেন। অপরিষ্কার কাপড়গুলো মনে হয় এখনই ধুয়ে দেয়া উচিৎ ইত্যাদি।

তবে আপনাকে যেটাই ডাকুক না কেন, ডাকে সাড়া দিতে যাবেন না। আপনার মনে হতেই পারে, “এই ছোট্ট একটা কাজ করব, কে বা জানবে?” কিন্তু একটা কাজই নিমিষে আপনাকে জড়িয়ে ফেলতে পারে অন্যান্য কাজে। তাই অন্য কোন কিছু না করাই ভালো। সারাদিনে কি করবেন তা আগেই ঠিক করে রাখলে এবং নির্ধারিত কাজের জায়গায় স্থির থেকে কাজ করলে আপনার মনযোগ বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম। যে কাজ আপনি অফিসে থাকলে করেন না, সে কাজ বাড়ি থেকে অফিস করার সময়ও করবেন না।

 

৭।  গান শুনুন

অনেকেরই বাসার পরিবেশ খুব শান্ত। তারা অফিসের কর্মচঞ্চল আবহটাকে মিস করেন। আবার অনেকের বাসাতেই ঠিক তার উল্টো চিত্র। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন কাজে এত শব্দ তৈরি হয় যে তাতে অফিসের কাজ ব্যাহত হয়। এক্ষেত্রে, কানে হেডফোন গুজে গান শোনা যেতে পারে। তাহলে বাইরের কোন আওয়াজ ই আসবে না। সেজন্য আপনার পছন্দমত বেছে নিন ইন্সট্রুমেন্টাল, প্রিয় শিল্পী বা ব্যান্ডের গান অথবা শুনতে পারেন অন্য যেকোন বাদ্যযন্ত্র।

 

৮। অফিসের সময় শুধু অফিস করুন

গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন, এমন সময় হঠাৎ আপনার রুমমেট, স্ত্রী বা মা এসে জিজ্ঞেস করল, “বাজার করতে যাওনি কেন? সারাদিন ঘরে বসে করলেটা কি?”

প্রশ্ন শুনে বাড়তি চাপ অনুভব করতে পারেন। বাড়ি থেকে কাজ করার অন্যতম সুবিধা হচ্ছে অফিসের ফাঁকে ঘরের কাজে সহযোগীতার করা যায়। তবে সেটা নিয়মিত করে পরিবারের প্রত্যাশা বাড়াবেন না। অফিস টাইমে শুধু অফিসের কাজই করা উচিত। অন্যথায় কোন কাজই শেষ করতে পারবেন না। বাইরের কোন কাজ করতে পারছেন না বলে অপরাধবোধ রাখবেন না। আপনি তাই করছেন যা করা উচিৎ।

 

৯। চেক ইন মিটিং দিয়ে কাজ শুরু করুন 

যখন দলের সবাই বাড়ি থেকে কাজ করছেন, তখন দিনের শুরুতেই চেক ইন মিটিং করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে কার কি কাজ এবং কোন সহকর্মীর কাছ থেকে দল কি প্রত্যাশা করছে, সেটা স্পষ্ট হয়। তবে মিটিং এর সময় ঠিক করার আগে সবার সাথে আলোচনা করে নেয়া জরুরী। সকলের সুবিধাজনক সময় এবং কাজের শিডিউল বিবেচনা করেই মিটিং এর সময় নির্ধারণ করা উচিত। এছাড়াও মিটিং এ অংশগ্রগণকারীদের টাইমজোন একই কিনা? কোন প্লাটফর্মে মিটিং হবে? ভিডিও নাকি অডিও মিটিং হবে? এসব বিষয়ও আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে। কেননা কেউই অপ্রস্তুত বা এলোমেলো অবস্থায় মিটিং এ অংশ নিতে চায় না।

একইসাথে, ভিডিও মিটিং সহকর্মীদের বন্ধন দঢ় করে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ায় । এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কাজ করা সবাইকে সমান্তরালে আনতেও এটা কাজ করবে। সবার সম্মিলিত প্রত্যাশা পূরণে কিভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং শুরুতেই বাড়ি থেকে কাজ করার এই টিপসগুলোও সকলকে জানাতে পারেন।

 

১০। ধৈর্য রাখুন

এই অস্থিতিশীল সময়ে আপনি সহজেই অবসাদগ্রস্থ বা দ্বিধান্বিত হয়ে যেতে পারেন। যতবেশি সম্ভব নিজের সাথে, সহকর্মীর সাথে এবং অন্যান্য সকলের সাথে ধৈর্যশীল আচরণ করুন। অন্যদের প্রতি নিয়মিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, এই অভ্যাস আপনাকে আরও ভালো নেতা হতে সাহায্য করবে। 

এমনকি যদি প্রতিষ্ঠানে, দৈনিক রুটিনে, অথবা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তনও ঘটে তারপরও চাপমুক্ত থেকে এবং সহনশীল হয়ে ধৈর্যের সাথে পরিস্থির মোকাবেলা করতে হবে। এটা আপনাকে অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগ সামাল দিতেও সাহায্য করবে।

যেহেতু আপনি এবং আপনার সহকর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছেন, মনে রাখবেন প্রত্যেক মানুষই একে অন্যের হতে আলাদা। প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন বাধা বিঘ্নের সম্মুখীন হবে যা হয়ত আমরা ভিডিও বা কনফারেন্স কলে দেখতে পাবো না। নিজের মত করে স্বাচ্ছন্দে কাজ করুন। অন্যকে বুঝুন এবং নমনীয় আচরণ করুন। এই পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিন। যদি এটা ক্ষণস্থায়ীও হয়, তবুও আপনি জানবেন যে আপনি পেরেছেন। 

 

   

  

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.