Personal Journey

বিওয়াইএলসি ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ২০১৮: আমার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

1000 668 Sherazoom Monira Hasib

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি)’র আয়োজনে শেষ হয়ে গেল পঞ্চম ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট। যেহুতু বিওয়াইএলসি’তে থাকা অবস্থায় আমার জন্য এটাই প্রথম সামিট, শুরু থেকেই সামিট ঘিরে ছিল অন্যরকম প্রত্যাশা। সারা দেশ থেকে বাছাই করা ৪০০ তরুণ আসবে ইয়ুথ ম্যানিফেস্টো তৈরি করতে যা ছিল এক অন্যরকম আনন্দের ব্যাপার। তাই অপেক্ষাটা ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ন।

২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় সামিটের আনুষ্ঠানিকতা। বিওয়াইএলসি’র সবাই পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী ৭ টার মধ্যেই উপস্থিত হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। আর তার কিছুক্ষন পরেই আসতে শুরু করে সামিট ডেলিগেটরা। সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা শুরু করে রেজিস্ট্রেশন। দীর্ঘ সারি থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে ছিল নতুন কিছু শেখার উৎসাহ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন শেষ করে সবাই প্রস্তুতি নেয় প্রথম সেশনের জন্য।

প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা

সকাল ৯ টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠে ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ২০১৮’র। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিওয়াইএলসি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইজাজ আহমেদ। এ সময় তিনি দীর্ঘ দশ বছর ধরে তরুণদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এর পর পর ই কথা বলেন নাগরিক টিভির সিইও আব্দুন নূর তুষার। তিনি সামিট ডেলিগেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা যে ধরনের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতাম বাংলাদেশটা ঠিক তেমনই হয়েছে।” তিনি তরুণদের কে আরও বেশি দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। সামিট ডেলিগেটদের উদ্দেশ্যে আরও কথা বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ড. গওহর রিজভী। তিনি তরুণদের পরামর্শ দেন পারস্পরিক মত বিনিময় করতে যার মাধ্যমে তাদের জানার পরিধি বাড়বে। এই ব্যাপারটা আমাদের সবার জন্যই প্রযোজ্য। হয়তো আমরা বিভিন্ন বিষয়ে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু পরস্পরের মতামতের ব্যাপারে সম্মান প্রদর্শন করে যুক্তির মাধ্যমে আসলে সুন্দর একটা সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব। প্রত্যকের যে একটা আলাদা মতামত থাকতে পারে সেটার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাটাও প্রয়োজনীয়।

প্রথম সেশনের পরে ছিল চা বিরতি আর তার পরেই বহু আকাঙ্ক্ষিত প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সেশন, যেখানে তিনি কথা বলেছেন তরুণদের বক্তব্য কেন গুরুত্বপূর্ন সে বিষয়ে। সব সময়ের মতই তাঁর মনোমুগ্ধকর বক্তব্য দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করে রাখেন। বিভিন্ন গল্পে গল্পে তিনি তুলে ধরেন কিভাবে প্রাত্যাহিক জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করা যায়। এ সময় তিনি বলেন, “নেতা হতে হলে সবার আগে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। এমন একজন যার নির্দেশ শোনামাত্রই সবাই তা মেনে নেয়।” আমরা যদি বর্তমান পরিস্থিতির সাথে একটু তুলনা করি, দেখতে পাব বিশ্বাসযোগ্যতা আসলে সবাই অর্জন করতে পারে না। আর যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে আমরা কিন্তু সহজেই তাদের যে কোনও পরামর্শ মেনে নিচ্ছি। এর পিছনে কারণ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্য একজন ব্যক্তি কখনও না জেনে কোনও ব্যাপারে পরামর্শ বা নির্দেশ দেন না। আমাদের প্রায় সবার মধ্যে একটা ব্যপার কাজ করে, আর সেটা হলো যে কোনও সমস্যায় কর্তৃপক্ষ এগিয়ে না আসলে আমরা হয়তো সমস্যার সমাধান করতে পারব না। কিন্তু সামান্য উদ্যোগী হলে যে খুব সহজেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে সেটা আমরা ভাবি না। এ ব্যাপারে প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ জোর দেন এবং সবাইকে যার যার জায়গা থেকে সঠিক কাজটি করার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে আইস ব্রেকিং ও নেটয়ার্কিংসহ বেশ কিছু সেশন ছিল। প্রথম দিনের শেষ সেশনটি ছিল বিওয়াইএলসি প্রেসিডেন্ট ইজাজ আহমেদের। এ সময় তিনি কঠিন পরিস্থিতে পড়লেও কিভাবে নেতৃত্ব চর্চা করা যায় সে ব্যাপারে বক্তব্য দেন।

প্রথম দিনের শিক্ষা ছিল সব সময় কেউ না কেউ এসে কাজটা করে দিবে এটা না ভেবে বরং নিজে একটু উদ্যোগী হলে খুব সহজেই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। আর কোনও কিছুতে নিজে নেতৃত্ব দিতে চাইলে আগে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। অথবা আমাদের এমন কাউকেই নেতা নির্বাচন করা উচিত যাকে প্রশ্নাতীতভাবে বিশ্বাস করা যায়।

দ্বিতীয় দিনের অভিজ্ঞতা

দ্বিতীয় দিনের শুরুটা হয় প্রফেশনাল ডেভেলাপমেন্ট সেশনের মধ্য দিয়ে যেখানে বিওয়াইএলসি অফিস অফ প্রফেশনাল ডেভেলাপমেন্ট এর ডেপুটি ম্যানেজার ফারাহ চৌধুরী তরুণরা নিজের মতামত কিভাবে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ দেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং গুছিয়ে নিজের যে কোন বক্তব্য উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। অনেকেই হয়তো নিজের মতামত কিভাবে তুলে ধরতে হবে বা কোন উপায়ে তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিবে তা বুঝতে পারে না। আমার নিজের ক্ষেত্রেও যে ব্যাপারটি অনেকবার ঘটেছে। এই সেশনটি আসলে মনে যে ভয়গুলো ছিল সেগুলো দূর করতে সহায়তা করেছে।

দিতীয় দিনের চা বিরতির পর দুটি ভিন্ন সময়ে মোট চারটি সেশন ছিল। ডেলিগেটদের সামনে সুযোগ ছিল প্রথম ভাগের ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা’ ও ‘সার্বিক অন্তর্ভুক্তিকরন’ থেকে একটি এবং দ্বিতীয় ভাগের ‘ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান’ ও ‘তরুণদের জন্য নিরাপদ স্থান’ এ দুটি থেকে একটি করে মোট দুটি সেশন বেছে নেয়ার। প্রতিটি সেশনে আলোচনায় অংশ নেন বিষয় সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ।

এই সেশনগুলোর মধ্য থেকে আমার থাকার সুযোগ হয়েছিল ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা’ ও ‘তরুণদের জন্য নিরাপদ স্থান’ এ দুটি সেশনে। প্রথম সেশনটিতে কথা বলেন, টিচ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মায়মুনা আহমেদ, ১০ মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক, ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশনাল ডেভেলাপমেন্ট (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়) এর প্রভাষক শামনাজ আরিফিন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হুমায়রা আহমেদ। বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে আমাদের গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সাথে তারা গুরুত্ব দেন শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উপর। ১০ মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক বলেন, “ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশের তরুণদের জন্য এক বিশাল সুযোগ তাদের নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য।” এই সুযোগটি আসলে আমাদের আরও বেশি করে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা ভেবে দেখা জরুরি। নিজের স্মার্টফোনটা কাজে লাগিয়েও এখন অনেক কিছু শিখে ফেলা সম্ভব। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে অনেক বেশি ফ্রি রিসোর্স রয়েছে যা আমরা দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে পারি। একই সাথে নিজে থেকে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়াটাও জরুরি। আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের কিছু সময় বাঁচিয়েই আসলে আমরা দক্ষতা বাড়াতে পারি। এমনকি সেটার জন্য নির্ধারিত কোন সময় মেনে চলা জরুরি নয়। বরং আমাদের সুবিধাজনক সময়েই অনেক কিছু শিখে ফেলা সম্ভব।

দিনের অন্য সেশন যেটিতে ছিলাম তা হচ্ছে তরুণদের জন্য নিরাপদ স্থান। এই সেশনে কথা বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, দ্যা লিগ্যাল সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা আনীতা গাজী ইসলাম, এবং একশন এইড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর। এই সেশনটি সঞ্চালনা করেন বিওয়াইএলসি গভর্নর বডির সদস্য ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস এন্ড জাস্টিস এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মানজুর হাসান ওবিই। তরুণদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তারা সবাইকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন। সামিট ডেলিগেটরাও স্বীকার করে যে সবাই ই বিভিন্ন সময়ে আইন ভঙ্গ করি। অথচ আমাদের উচিত ছিল নিজে আগে আইন মেনে চলা। উদাহরণ হিসেবে বক্তারা পাইরেটেড সফটওয়্যারসহ বেশ কিছু জিনিসের কথা বলেন। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “নিরাপদ সড়কের জন্য পথচারীদের আইন মানা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “কাউকে পরামর্শ দেয়ার আগে নিজে সেটা ঠিকভাবে পালন করতে হবে, তাহলেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।” নিজেরা আইন না মেনে শুধু চালকদের দোষারোপ করে আসলেই সমস্যার সমাধান কখনও সম্ভব নয়। এমনকি বেশিরভাগ সরক দুর্ঘটনা পথচারীরা আরেকটু সাবধান থাকলে এড়ানো যেতো।

এ দিনই প্রথম তরুণরা ইয়ুথ ম্যানিফেস্টো তৈরির কাজ শুরু করে এবং এর রূপরেখা কেমন হতে পারে তা নির্ধারন করে। সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সামিটের দ্বিতীয় দিন। তবে আমার জন্য দিনটি ছিল নিজেকে শোধরানোর প্রতিজ্ঞা করার। কেননা জেনে হোক না জেনে হোক প্রায় প্রতিটি দিন বিভিন্ন আইন ভঙ্গ করে চলেছি। অথচ এই আমিই হয়তো প্রতিদিন কাউকে না কাউকে দোষারপ করে চলেছি আইন না মেনে চলার জন্য। এই উপলব্ধিটা কাজ করে যে আমার নিজের কারনেও হয়তো কারও না কারও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আর তাই প্রতিজ্ঞা ছিল নিজেকে শোধরাতে হবে আগে।

শেষ দিনের অভিজ্ঞতা

শেষ দিনটি ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততাময়। দিনের শুরুটা হয় দেশের সেবা করার শপথের মধ্য দিয়ে। প্রায় চারশত তরুণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সাথে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার প্রতিশ্রুতি জানায়। এরপরেই তারা ব্যস্ত হয়ে উঠে ইয়ুথ ম্যানিফেস্টোর চূড়ান্ত রূপ দেয়ার কাজে এবং তা দিনের মধ্যভাগের মধ্যেই শেষ হয়। এরপর বিওয়াইএলসি এক্স এর প্রোডাক্ট ম্যানেজার খালেদ সাইফুল্লাহ কথা বলেন একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী কর্মদক্ষতা নিয়ে। যেখানে তিনি একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে বিওয়াইএলসি এক্স এর তৈরি করা কোর্সগুলোর সাথে সবাইকে পরিচিত করিয়ে দেয়।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দের অংশগ্রহনে অন্যতম উল্লেখযোগ্য সেশন। সে সেশনে প্রত্যেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় তাঁরা তরুণদের কল্যাণে কাজ করবেন। এরপর তাঁরা ডেলিগেটদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তাঁরা তরুণদের আরও বেশি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা মতামত দেন রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই আসলে আরও বেশি তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। যে রাজনীতিকে অনেক সময় আমরা নোংরা বলে ফেলি সেটা ঠিক করতে হলেও তরুণদের আরও বেশি যুক্ত করা প্র সেশন শেষে রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দের সামনে তরুণদের তৈরি করা চূড়ান্ত ইয়ুথ ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করা হয় এবং প্রত্যেকের হাতে সেটির একটি করে কপি তুলে দেয়া হয়। এ সময় তাঁরা জানান এই ম্যানিফেস্টো তাঁরা নিজেদের দলের কাছে পৌঁছে দিবেন যেন তা তরুণদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

তিনদিনব্যাপী সামিটের সমাপনী বক্তব্য দেন দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজ আনাম। তাঁর সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে সামিট ডেলিগেটদের সামনে তিনি বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সম্মান পাবার প্রথম শর্ত হচ্ছে অন্যকে সম্মান করা। তুমি যদি কাউকে সম্মান কর দেখবে তারচেয়ে অনেক বেশি সম্মান তুমি পাবে।”  তাঁর এই একটি উক্তিই যদি বর্তমান সময়ে মেনে চলা হয় তাতেও আসলে আমাদের সমাজে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব। কেননা পারস্পরিক সম্মান থাকলে যে কোনও কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব। উনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে তিন দিনের এই তরুণদের মিলনমেলার।

সামিট হয়তো শেষ, কিন্তু এর শিক্ষাগুলো যদি মনে রাখা যায় এবং প্রয়োগ করা হয় তবেই আসলে সমাজে পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এই সম্মেলন তরুণদের মধ্যে এক বন্ধন তৈরি করে দেয়। তারা যখন বিদায় নিচ্ছিল তখনও চোখে মুখে ছিল প্রাপ্তির আনন্দ। কেননা তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, তারা তাদের দাবিগুলো সঠিক জায়গায় তুলে ধরতে পেরেছে। মাত্র তিন দিনের মাঝেই তাদের মাঝে এসেছে আমূল পরিবর্তন। তারা প্রত্যকেই এক একজন বদলে যাওয়া তরুণ যারা দেশের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ।

My Experience of the One Young World 2017 Summit in Colombia

960 720 Fahmida Zaman Ema

For someone who studied politics, 2017 has been anything but a year of hope. With Brexit and the election of Donald J. Trump, it became difficult for most people to trust our fellow human being’s judgments. So, when I was preparing to attend the One Young World Summit 2017 in Bogota Colombia, I was not looking to be optimistic about the world or restoring my faith in humanity.

Much to my surprise, however, the speakers, attending ambassadors, and everyone else I had the fortune to meet in Colombia, did just that. The young ambassadors’ works in health, peace, arts, business, politics, and societies have demonstrated that remarkable things can happen when we take responsibilities for our own societies and communities.

The One Young World Summit is a global gathering where young people and world leaders come together to share innovative solutions for world’s most pressing issues. The overarching theme of One Young World 2017 was reconciliation and the role of young people in propagating peace. The 1300+ participants from 194 countries gathered in Colombia’s capital, Bogota, to discuss the most pressing issues of the world today— global peace, the high and protracted incidence of unemployment, the acute social and economic obstacles faced by women, the environmental impacts of climate change, and the road to climate action.

It also outlined the struggle with disabilities and the burning desire for it to be taken more seriously by society. An overwhelming theme emerged while discussing viable actions for change: the role that entrepreneurship and technology access will play in circumventing these challenges.

I attended the OYW 2017 summit as a Dr. Mohammad Yunus delegate representing Bangladesh. I find it quite impossible to summarize the learnings from this gathering in one article. But, here are three things that made a lasting impact on my mind.

1. Never too young to lead: There is a narrative in our societies that young people are not equipped to lead because…“ well, they are young.” But, the world is currently home to the largest generation of young people in history. With half of the world’s population being under the age of 40, it is the ideas and talents of young people that will drive the success of achieving Sustainable Development Goals by 2030 as well as take us towards an inclusive and peaceful world in the long run. Kofi Annan, Ghanaian diplomat and former seventh Secretary General to the UN, said this in his keynote speech: “You are never too young to lead, act and take charge where you can.” Mr. Anan shared his experiences of peace negotiations and advocated for establishing trust between parties, being fully inclusive, and giving everyone a voice. Proving Mr. Anan’s point, the OYW summit championed young leaders from about the world who are doing more works towards a better world than many of our governments.

2. Business with a social conscience: Social entrepreneurship was another major theme of the One Young World Summit in Bogota. Right now, eight people hold the same amount of capital wealth as the bottom half of the world. This shocking fact shows how we live in a world of growing inequality. Moreover the rising social tensions and the rapidly digitizing global economy that is changing the global economy that is changing the way to live and work. Thus, there needs to be a fundamental change in the way that we conduct ourselves on this planet. Big business needs to set goals that benefit not just the company but the society as well. They need to commit to a more sustainable and equitable world.

Muhammad Yunus, a Nobel Laureate spoke of his social business model and his 3-0 goals to create a society free of poverty, unemployment and carbon emission. Young people are already prioritizing this agenda. For example, One Young World ambassadors working at Deloitte in France are collaborating with local non-profit partners on addressing youth unemployment. And there are so many impactful OYW Ambassador-led initiatives around the world! It’s time for the big business now to support and initiate such programs to fulfill their responsibilities towards societies and communities.

3. Stories matters for peace and reconciliation: The third day of the summit featured young activist whose lives have been destroyed by wars—from Rwanda’s genocide to Colombia’s civil war to Afghanistan’s chronic conflicts. By sharing his story, Rwanda’s Hyppotitle Ntigurirwa showed us peace and reconciliation is possible, no matter what happens. Hyppotitle Ntigurirwa who spoke about his experience during the Rwandan genocide in which 1 million people lost their lives in 100 days. His story was one of survival. From the refugee camps he lived in after the genocide, he went on a journey of peace which led him to forgive his father’s killers.

One of the sessions titled “The Future of Colombia” explores the impact of the 52 years Colombia conflict and brought together young Colombians from different perspectives, including former FARC rebels, former paramilitary members, and kidnapping victims share their experience of the conflict to bring to life the impact of war on young people. The personal stories shared by these participants enabled us, the listeners who may not have any idea about the lasting impact of the war on individuals, to understand and to support the efforts to maintain peace not only in Colombia but also in any war-torn society.

In the closing session of the 2017 One Young World Summit at Simon Bolivar Park in Bogota, Ron Garan, a former Astronaut said we are a common planer with a common goal, common population, and a common destination. With that statement, he encompasses the essence of the summit. Despite the chaos of Brexit and the divisive politics of Donald Trump, there is still scope for hope as long as the ideas and works of young people are being championed. I realized, the gathering of hundreds of exceptional young minds from virtually every sector in Bogota strengthened that hope.

Putting Theories into Practice: Leadership Reflection of a Young Researcher

1280 853 Makshudul Alom Mokul Mondal

Business schools are best known to prepare students to excel in the corporate hierarchy. Despite being trained in finance and marketing at the Institute of Business Administration, the leading business school of Bangladesh, I opted to venture into the rather uncharted field of development research. Motivated by my earlier orientation and engagement with the marginalized communities of Bangladesh, it was not a difficult choice given how I wanted my life and work to create values for others, particularly for those who often get forgotten. With immense interest to support government agencies to formulate inclusive policies and strategies, I joined a policy research outfit to contribute to the process of informed policymaking.

I joined The Institute for Policy, Advocacy, and Governance (IPAG), the then lesser known think tank in Bangladesh, as a Research Assistant with very little experience in economic and social research. In spite of being apprehended by the uncertainties and risks of failing, I took the challenge as an opportunity to explore, learn, and excel by not just doing what was required but always going the extra mile. I had the privilege of working directly with the Chairman, a Wharton graduate who has an unwavering penchant for maintaining international standards, and in the process, I got opportunities to put leadership theories into action.
My first challenge was to keep my purpose alive. Unlike sales or finance, research activities do not produce immediate results or impact. And thus, having patience to do things right and staying connected with the purpose was necessary. There were so many depressing days when I questioned my achievement of the day and failed to find any. The only solution was to be connected with my purpose and remind myself how my work would make the country and the world a better place to live.

My second challenge was to minimize theoretical and subject knowledge gap and to come up to speed to make meaningful contributions in policy analysis and recommendations. I was already communicating with experienced scholars and policymakers and I had very little scope for errors and complacency. While there is no shortcut to gaining knowledge, you can expedite the process by reading relentlessly and persistently. When I was struggling, my main source of motivation was my sincere interest and passion for knowledge.
The third challenge was to convey your thoughts and recommendations without alienating the recipient, particularly for a young researcher like me. Communication is key to policy changes because people do not question the message first, they question the messenger. There is no alternative but to establish your credibility so that they listen to your ideas. For that, you need to be an empathetic and compassionate communicator with a firm grasp of the issue at hand who understands and values people’s opinion and humbly puts forward thoughts backed by solid data and research. You will also need allies to help bolster and champion your ideas.

My last biggest challenge was that I didn’t want to work. Yes, I might seem very contradictory but its true. I have seen many people who work to tick off his responsibilities with questionable dedication, commitment, and loyalty to the organization for a month-end salary. This seemed a very narrow and bleak outlook to life. I didn’t want to work but I wanted to live in work. My vision was to create a legacy so that when I would leave others could get benefitted from my work and I might have also be considered as an inspiration for future young researchers who will create and disseminate knowledge for good.

If I am asked about my biggest success as a researcher, I would humbly say that I made small contributions to take IPAG to new heights where IPAG is now ranked among the top 50 leading international development think-tanks in the world published by Think Tanks and Civil Societies Program (TTCSP) at the Lauder Institute, University of Pennsylvania. As a recognition of my contribution, I was promoted as the youngest Fellow at IPAG and entrusted with leadership responsibilities.

Now, when I reflect, I realize how my initial leadership training guided me to achieve what I could. Theories are established out of realities and are often obsolete if not applied. Simple yet powerful precepts of leadership such as ‘knowing the purpose’, ‘being passionate about what we do’ and ‘creating value of others and leaving a noteworthy legacy’ surely guided me and will continue to take me to new heights. As a firm believer of what Tim Cook, CEO of Apple said about ethical leadership ‘leaving things better than you found them’, I hope to practice leadership to create values and make things better for everyone.

Makshudul Alom Mokul Mondal

Makshudul Alom Mokul Mondal, is a young researcher and also the co-founder of Youth Opportunities, one of the leading opportunity discovery platforms for youth across the world. Makshudul is also a Global Shaper at the Dhaka Hub, an initiative of the World Economic Forum (WEF). He is a graduate of BYLC BBLT 5 and was an Instructor of Leadership for several BYLC’s programs.

আমি, স্বপ্নের পথ যাত্রী

3600 2400 Mutasim Billah

যে স্বপ্নের মধ্যে সীমানা থাকে তাকে কি স্বপ্ন বলা যাবে? সে যাত্রাকে কি স্বপ্ন যাত্রা বলা যাবে যার কিনা শেষ আছে? শেষই যদি হবে তবে তা আর স্বপ্ন কেন?

ছোট বেলা থেকেই আমাদেরকে স্বপ্ন দেখানো হয়। বড় হয়ে আমাদের অর্জন কি হবে কিংবা কি হওয়া উচিত তা নিয়ে। সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে অনেক কিছুই বলা হয়, যেটি বলা হয় না তা হল নিজেকে চেনার কথা। অথচ যে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি তা পূরণ করতে হলে সবার প্রথম নিজেকেই যে চিনতে হবে সে উপলব্ধিটুকুই আমাদের নেই।

 আমার নিজেকে জানার যাত্রাটি শুরু হয় ২০১০ সালে যখন আমি বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশীপ সেন্টার নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নেতৃত্ব শেখা শিখতে আসি। ওখানে গিয়ে দেখলাম একটা রুমের মধ্যে আরো ৪২ জন শিক্ষার্থী আমার মত একই রঙের টি শার্ট গায়ে বসে আছে। তাদের সাথে বসে আমার অনুভুতি হল যে এখানে দেশ সেরা স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসা থেকে অসাধারণ সব মানুষজন বসে আছে। তাদের সাথে টিকে থাকার লড়াইটা আমার জন্য খুব কঠিন হবে। যতই দিন যাচ্ছে আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে সবাই কত কিছু জানে আর একেক জন জীবনের দৌড়ে আমার থেকে কত এগিয়ে।
 ঐ প্রোগ্রামেই উপলব্ধি করতে পারলাম যে আমিও পারি নিজের জীবন পরিবর্তনে অবদান রাখতে, যে অবদান হয়ত বদলে দিতে পারে আরো দশ জনের জীবন। বদলে দিতে পারে বাংলাদেশ।
 তখন থেকেই চিন্তা হতে থাকে যে, সবাই যদি নিজের ভাল চায়, অন্যের ভাল চায়, সর্বোপরি দেশের ভাল চায় তাহলে সমস্যাটা কোথায়? কেন আমাদের সেই স্বপ্নের বাংলাদেশের দিকে আমরা এগিয়ে যাই না?
 ধীরে ধীরে জেনে গেলাম, যে বাংলাদেশ কে নিয়ে স্বপ্ন আমাদের এক হলেও সেই সেই স্বপ্নকে আমরা শিক্ষা মাধ্যমের নামে তিনটি ভাগে ভাগ করে রেখেছি। যে মাধ্যমে থেকে আমরা একে অপরের ব্যপারে না জেনে হয়ত লালন করছি অনেক ভুল ধারনা। যার ফলশ্রুতিতে হয়ত তাদের মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে পারছি না। বুঝতে পারছি না তাদের অবদানকে যা তারা দেশের জন্য করে যাচ্ছে।

আমাদের অভিযোগের কোন শেষ নেই। নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত আমরা। কিন্তু কখনো হয়ত অনুভবই করি না যে আমাদের সমস্যার জন্য অনেকাংশে আমি নিজেরাই দায়ী। সেখানে তা সমাধানের জন্য আরেকজনের দিকে তাকিয়ে থাকলে এগিয়ে যাবো না কখনই। সমস্যার জন্য দায়ী করে আমরা সবসময় বলি আমাদের দেশে সঠিক নেতৃত্ব নেই। নেতৃত্ব নিয়ে যখনই কথা হয় আমরা কিছু সুমহান গুনাবলির কথা বলি। কিন্তু বলি না যে আমাদের জায়গা থেকে আমরা কি করতে পারতাম। না বলার কারনটা, হয়তো আমাদের মাঝে সে বিশ্বাসই নেই যে আমরাও পারি।

 সেই অনুভুতি থেকেই আমার পথ চলা শুরু। এরপর থেকে যতবার থেমে গিয়েছি, বারবার নিজেকে শুনিয়েছি ‘আমি পারি’। বিওয়াইএলসির ঐ প্রোগ্রামেই আমি শিখেছিলাম কিভাবে মানুষের সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে হয়। কিভাবে নিজের বক্তব্যটি কার্যকর ভাবে তুলে ধরা যায় মানুষের সামনে। এরপর থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছি কথা বলেছি মানুষের সামনে। চর্চা করেছি, নিজের কথা বলার দক্ষতা কে বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘ ৪ মাস পর যখন ঐ প্রশিক্ষণ শেষ হল তখন মনে হল এবার আমার পালা। যা শিখেছি তা কাজে লাগাতে হবে। আমিও এবার মানুষকে স্বপ্ন দেখাব। যারা আমার মতই আটকে আছে নিজের জীবনের গন্ডিতে তাদেরকে দেখাব কিভাবে তারাও পারে তাদের স্বপ্নকে সীমাহীন দিগন্তে ছড়িয়ে দিতে।
 এর পাশাপাশি একটা চিন্তা ছিল। আমি যে সুযোগ পেয়েছি তা সবাই পায় না, আর অনেকেই পেয়ে কাজে লাগায় না। ঐ সময়টাতে যারা সুযোগ পায় না তাদের জন্য খুব বেশি কিছু করার না থাকলেও সুযোগ ছিল যারা সুযোগ পায় তারা যেন তা কাজে লাগাতে পারে তাতে সাহায্য করা। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই শুরু করলাম নেতৃত্ব পড়ানো। বাংলাদেশের ভিন্ন আর্থ সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা তরুণপ্রাণদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নিজের ও অন্যদের মাঝে নেতৃত্বের গুনাবলি ছড়িয়ে দেয়াই উদ্দেশ্য। শুরু করলাম বিওয়াইএলসি’রই ১ মাসের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম দিয়ে।
সেই প্রোগ্রামে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়, পরিচয় হয় অনেকগুলো সুন্দর মানুষের সাথে। যাদের সাথে এখনো আমার যোগাযোগ আছে, যাদের কাছ থেকে এখনো অনেক কিছুই শিখি। সেখানে কারো জীবনে কোন সামান্য অবদান রেখেও যে তাদের জীবন বদলে দেয়া যায় সেটা নিজের চোখেই দেখতে পেয়েছিলাম। ২০১২ সালে ওই প্রোগ্রামের শেষে বিওয়াইএলসি’র সকল গ্র্যাজুয়েটদের নিয়ে গঠিত এলামনাই বিওয়াইএলসি গ্র্যাজুয়েট নেটওয়ার্ক – বিজিএন’র পরিচালনা কমিটির নির্বাচন। মাদরাসা মাধ্যম থেকে নিজে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচনে দাঁড়ালাম। সেদিন হেরে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই নির্বাচনটা আমাকে অনেক চিন্তার খোঁড়াক দিল। আসলেই যদি ভাল কিছু করতে চাই তবে কি একটি পদ খুব বেশি দরকার? নির্বাচনে জিততে পারি নি, তবে কি আমাকে দিয়ে হবে না?

বুঝতে পেরেছিলাম যে, যদি তীব্র ইচ্ছা থাকে তবে ঐ সব ছাড়াও এগিয়ে যাওয়া যায়, অন্যদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও যায়। তখন থেকেই চেষ্টা করেছি নিজেকে গড়ে তোলার। ২০১৪ সালে যখন আবার বিজিএন এর নির্বাচন হয় তখন আমি প্রতিনিধিত্ব করি বিজিএন প্রেসিডেন্ট এর পদটির জন্য। জানি না কোথা থেকে পেয়েছিলাম ঐ সাহস, তবে ঠিকই দায়িত্ব পেয়েছিলাম দেশ সেরা প্রায় ২৫০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে গঠিত বিজিএন’র প্রধান হিসেবে কাজ করার। নিজেকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পূরণ হল। তবে যুদ্ধ মাত্র শুরু। এত বড় দায়িত্ব পালনের কোন যোগ্যতা তখনও আমার হয়ে উঠে নি। নিজেকে গড়ে তোলার আসল কাজটা এবার যে করতেই হবে। যে কাজটা আজ অবধি করে যাচ্ছি। কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চাইনি কোনদিন শুধুমাত্র নিজেকে প্রমাণ দিতে চেয়েছি যে ‘আমি পারি’। আমি জানি আমি কোন জায়গা থেকে নিজেকে কোথায় নিয়ে এসেছি এবং কোথায় নিয়ে যেতে চাই।

 প্রতিদিন নিজের জন্য নতুন নতুন লক্ষ্য ঠিক করেছি। কারো সাথে প্রতিযোগিতা ছিল না, যা ছিল তা নিজের সাথেই। আমাকে যারা জীবনে বড় হতে শিখিয়েছেন আমি সব সময় তাদের মত হতে চেয়েছি। হতে চেয়েছি নিঃস্বার্থ, হতে চেয়েছি এমন একজন মানুষ যাকে যে কেউ তার উপকারে খুঁজে পায়। একটি একটি করে ধাপ এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
এই পথ চলার মধ্যেও আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরার মত অনেক কিছুই ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে হেরে যাওয়া, মানুষের অনুৎসাহিত করার মত কথা। অনেক কিছু। ২০১৫ সালে আমি দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচন করেছিলাম বিজিএন’র সভাপতি পদের জন্য। আগের ১ বছর নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করেছিলাম প্রতিষ্ঠানটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, চেষ্টা ছিল একে যেন হাজারো তরুণের স্বপ্ন পূরণের প্লাটফর্ম হিসেবে তৈরি করতে পারি। কিন্তু নির্বাচনে আমি হেরে গিয়েছিলাম। বিশাল ব্যবধানে। তখন যতটা না কষ্ট পেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি শিক্ষা, উপলব্ধি হয়েছিল। আমি অনেকটাই নিশ্চিত ছিলাম আমি জিতে যাবো। এখন আমি বুঝি, ঐ ঘটনাটার কারণে আমি ভুলে গিয়েছিলাম আমাকে অনেক শিখতে হবে।
 এরপর জীবনে আরো বেশ কিছু সুযোগ আমি পেয়েছি, পেয়েছি অনেক সম্মান। কিন্তু কখনো নিজের অতীত ভুলে যাই নি, নিজের শেখার আগ্রহকে দমে যেতে দেই নি কখনো। মনে হয়নি আমার জীবনের লক্ষ্য পূরণ হয়ে গেছে। কারন আমি জানি আমার স্বপ্নের কোন সীমানা নেই। আমাকে যেতে হবে অনেক দূর।
 অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমার অর্জন কি? আমি কখনো তাদের উত্তর দেই না। হাসি। কারন আমি জানি এবং বিশ্বাস করি যে আমার কাজই তাদের সে প্রশ্নের উত্তর। তবে যখন নিজের অজান্তে নিজের মনে এমন প্রশ্নের উদ্ভব হয় তখন নিজেকে বলি, কেউ যখন বলে আমার জন্য তার জীবনে সে স্বপ্ন দেখতে শিখেছে সেটি কি অর্জন নয়? যখন শত মানুষের সামনে দাড়িয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছে এবং সে কথায় কারো জীবন পরিবর্তন হয়েছে, তা কি সফলতা নয়?
 আমি এখনো কাজ করে যাচ্ছি, স্বপ্নের কাজ। পরিবর্তনের পথে হেঁটে চলছি আমি, স্বপ্নের পথ যাত্রী।

Expert’s Insights: An Interview with Arif Ainul Suman

3791 2464 Saanjaana Rahman

Arif Ainul Suman is the Executive Director, Corporate Banking, Standard Chartered Bank. A topper in his batch from IBA, Mr. Suman passionately pursued his career with leading multi-national financial institutions past 18-years in the arena of providing financing solutions and risk management for leading local corporate clientele. Besides providing Working Capital Solutions and Trade Finance Structuring, he has substantial experience in Specialized Financing and Advisory. He is considered a pioneer in power sector having been involved in raising financing for approximately 20% of country’s private sector generation capacity.

read more

Everyday Leadership: An Interview with Zainab Syed Ahmed

960 640 Noshin Noorjahan

Zainab Syed Ahmed is a graduate of BYLC’s Youth Leadership Bootcamp, 2015. Soon after the completion of the program, Zainab joined BYLC as an Executive in Curriculum Development team with the goal of inspiring the young generation to become leading change-makers in their fields; thereby, creating a positive change in the society. Since then, she co-instructed in four leadership training programs and facilitated in more than 15 programs including Building Bridges through Leadership Training, Building Bridges through Leadership Training Junior, Youth Leadership Bootcamp, and Art and Practice of Leadership. read more

একজন বাসন্তী দিদি এবং আমার শৈশব

600 423 Jamia Rahman Khan Tisa

মানুষ গড়ার কারিগর কথাটা শুনলে সবার আগে যার মুখটা আমাদের চোখে ভাসে তিনি হলেন শিক্ষক। মা বাবার পরে প্রতিটা মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখা মানুষদের তালিকায় প্রথমেই চলে আসে শিক্ষকের নাম। আমাদের জানার, বুঝতে শেখার সহযাত্রী হিসেবে তাদেরকে আমরা পাশে পাই সবসময়ই। তাদের অনুপ্রেরণায় আমরা স্বপ্ন দেখি, নিজেকে গড়ে তুলি।

read more

Eight days of class, learning for a lifetime— Three lessons from my time at Harvard Kennedy School

2177 1500 Almeer Ahsan Asif

Bangladesh Youth Leadership Center (BYLC) history has a deep-rooted bond with Harvard University. It was there that BYLC’s founder, Ejaj Ahmad, while completing his Masters, conceptualized the idea of a program that teaches adaptive leadership while bringing together young people from different backgrounds.  read more

Kickstart Your Designing Career

4000 2666 Jubair Islam

It is always difficult to determine what you are going to do next when you are just graduating. It could be more difficult if you are planning to switch from another academic discipline. During my undergrad, I was an engineer in the making. I enjoyed studying science but was more fascinated by creative designing. However, the stereotype of a starving designer haunted me whenever I thought about a future that way, and I did not want to starve. read more

Everyday Leadership: An Interview with Anik Sinha

5012 3648 Noshin Noorjahan

Over the years that I have been affiliated with BYLC, I met graduates who accomplished concrete goals at an age I deemed too young to achieve anything. I find their stories fascinating and look forward to learning about their perspectives towards life. read more

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.