বাংলাদেশের তরুণরা মনে করে বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামের সংশোধন প্রয়োজন

বাংলাদেশের তরুণরা মনে করে বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামের সংশোধন প্রয়োজন

1000 668 Sherazoom Monira Hasib

একটি দেশ গড়ার জন্য ও এর উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে দেশের তরুণ সমাজ। তাদের মতামত কে অগ্রাহ্য করে দেশের সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব নয়। ২৭, ২৮, ও ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পঞ্চম ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট কে সামনে রেখে ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে’র মাধ্যমে বিওয়াইএলসি জানতে চেষ্টা করেছিল, দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভাবনাগুলো। তারা স্বাধীনভাবে সেখানে তাদের মতামত জানায় এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক তরুণ মতামত প্রকাশ করে উন্নত দেশ গড়তে সবার আগে প্রয়োজন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলামের সংশোধন প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছয়টি শিক্ষা কমিশন গঠন হয়েছে এবং মোট দুটি শিক্ষা নীতি প্রণীত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গঠিত ছয়টি কমিশনে মধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন (ড. কুদরত-ই-খুদা) রিপোর্ট ১৯৭৪ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর শিক্ষা নীতি দুটি প্রণীত হয় ২০০০ সালে ও ২০১০ সালে। সর্বশেষ প্রণীত শিক্ষা নীতি ২০১০ অনুযায়ী, সবার শিক্ষার জন্য সমান সুযোগ থাকতে হবে। সেখানে প্রতিটি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমানভাবে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার কথা বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। যে কারনে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের মাঝে যে ধরনের প্রত্যাশা আছে তা অনেকাংশেই পূরণ হয়নি।

শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমনা পরিস্থিতি বুঝতে হলে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। এই পর্যায় টা হচ্ছে যে কারো শিক্ষা গ্রহনের মূল ভিত্তি। অথচ প্রাথমিক পর্যায়েই অনেকগুলো ধারা রয়েছে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে। যেমন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, ‘ইংলিশ ভার্সন’, মাদ্রাসা ইত্যাদি। যে কারনে শিশুদের মধ্যেই শিক্ষার তারতম্য হচ্ছে। আর এর ফলাফলস্বরূপ সবার মেধার বিকাশ সমানভাবে হচ্ছে না। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই শুধুমাত্র ফলাফলমুখী। অর্থাৎ, এখানে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে সবাই একটি ভালো ফলাফলের ব্যপারেই বেশি আগ্রহী। আর তার ফলশ্রুতিতে শিক্ষার মূল  উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রেই ব্যহত হচ্ছে। এটা বুঝানোর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের কথা বলা যেতে পারে। প্রতি বছর অনেক বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ ফলাফল অর্জন করলেও ভর্তি পরীক্ষায় তারা ভালো করতে পারছে না। যদিও সেই একই সিলেবাস থেকে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে, কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীরা ভালো করতে পারছে না।

কেন তরুণরা কারিকুলাম পরিবর্তন করার কথা বলছে?

একইভাবে যে সকল তরুণ ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভেতে অংশ নিয়েছে, তারা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করার পরেও তাদের চাকরি পেতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা মৌলিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছে তাদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। তারা জানিয়েছে যথেষ্ট ভালো ফলাফল থাকার পরেও তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডাকা হচ্ছে না। আবার অপেক্ষাকৃত খারাপ ফলাফল নিয়েও কেউ কেউ ভালো কোথাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এর পিছনে তরুণরা দায়ী করছে বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতির বিভিন্ন পর্যায়ের কারিকুলাম কে। কেননা তারা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে তার সাথে চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার সাথে মিল থাকছে না।

এর পিছনে প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম  অনেক আগের এবং বর্তমান সময়ের সাথে সাথে তা পরিবর্তন করা হয় নি। কিন্তু একই সাথে চাকরির বাজারে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন চাকরির জন্য একাডেমিক পড়াশোনার বাইরেও অনেক কিছু জানা থাকা জরুরি যা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্যি বেশিরভাগ শিক্ষার্থী চাকরির জন্য দরকারি বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত থাকে না এবং অনেকটাই মুখস্থ নির্ভর পড়াশোনায় অভ্যস্থ। শুধুমাত্র চাকরির আবেদন করতে গেলেই তারা অনুধাবন করতে পারে যে তাদের একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে অনেক কিছু জানা প্রয়োজন। এছাড়াও অন্যান্য স্তরের কারিকুলাম নিয়েও তরুণরা চিন্তিত। তারা মনে করে শুধু মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম পরিবর্তন করেই সামগ্রিক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব নয়। বরং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই সব কিছুতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।

কারিকুলামে কি ধরনের পরিবর্তন আনা যেতে পারে?

কারিকুলাম পরিবর্তনের একটি বড় অংশ হতে পারে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে তোলার উপযোগী করে কারিকুলাম প্রণয়ন। যদিও মাধ্যমিক পর্যায়ে এখন সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেটাকে আরও বেশি উন্নত করা প্রয়োজন। একই সাথে শিক্ষকদের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে যেন শিক্ষার্থীরা সজবোধ্যভাবে সব কিছু শিখতে পারে। পরিবর্তন টা সেখান থেকে শুরু হলে খুব সহজেই অন্যান্য পর্যায়েও শিক্ষার মানের পরিবর্তন অবশ্যাম্ভাবী।

আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান চাকরির অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ভবিষ্যতে কি ধরনের চাহিদা থাকতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কারিকুলামে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে শিক্ষার্থীদের লিডারশিপ, পাবলিক স্পিকিং, কমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয়ের উপরে সঠিক প্রশিক্ষন তাদেরকে চাকরি থেকে শুরু করে সব ব্যাপারেই সহযোগিতা করতে পারে। এছাড়াও যে সকল বিষয় পড়ানো হচ্ছে সেগুলোর প্রয়োগের ব্যাপারেও বাস্তব প্রশিক্ষন জরুরি।

 

Sherazoom Monira Hasib

Sherazoom Monira Hasib is currently working as an Executive in Communication team of BYLC.

All stories by:Sherazoom Monira Hasib

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Sherazoom Monira Hasib

Sherazoom Monira Hasib is currently working as an Executive in Communication team of BYLC.

All stories by:Sherazoom Monira Hasib
Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.