Monthly Archives :

September 2018

বাংলাদেশের তরুণরা মনে করে বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামের সংশোধন প্রয়োজন

1000 668 Sherazoom Monira Hasib

একটি দেশ গড়ার জন্য ও এর উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে দেশের তরুণ সমাজ। তাদের মতামত কে অগ্রাহ্য করে দেশের সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব নয়। ২৭, ২৮, ও ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পঞ্চম ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট কে সামনে রেখে ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে’র মাধ্যমে বিওয়াইএলসি জানতে চেষ্টা করেছিল, দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভাবনাগুলো। তারা স্বাধীনভাবে সেখানে তাদের মতামত জানায় এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক তরুণ মতামত প্রকাশ করে উন্নত দেশ গড়তে সবার আগে প্রয়োজন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলামের সংশোধন প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছয়টি শিক্ষা কমিশন গঠন হয়েছে এবং মোট দুটি শিক্ষা নীতি প্রণীত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গঠিত ছয়টি কমিশনে মধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন (ড. কুদরত-ই-খুদা) রিপোর্ট ১৯৭৪ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর শিক্ষা নীতি দুটি প্রণীত হয় ২০০০ সালে ও ২০১০ সালে। সর্বশেষ প্রণীত শিক্ষা নীতি ২০১০ অনুযায়ী, সবার শিক্ষার জন্য সমান সুযোগ থাকতে হবে। সেখানে প্রতিটি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমানভাবে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার কথা বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। যে কারনে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের মাঝে যে ধরনের প্রত্যাশা আছে তা অনেকাংশেই পূরণ হয়নি।

শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমনা পরিস্থিতি বুঝতে হলে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। এই পর্যায় টা হচ্ছে যে কারো শিক্ষা গ্রহনের মূল ভিত্তি। অথচ প্রাথমিক পর্যায়েই অনেকগুলো ধারা রয়েছে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে। যেমন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, ‘ইংলিশ ভার্সন’, মাদ্রাসা ইত্যাদি। যে কারনে শিশুদের মধ্যেই শিক্ষার তারতম্য হচ্ছে। আর এর ফলাফলস্বরূপ সবার মেধার বিকাশ সমানভাবে হচ্ছে না। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই শুধুমাত্র ফলাফলমুখী। অর্থাৎ, এখানে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে সবাই একটি ভালো ফলাফলের ব্যপারেই বেশি আগ্রহী। আর তার ফলশ্রুতিতে শিক্ষার মূল  উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রেই ব্যহত হচ্ছে। এটা বুঝানোর জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের কথা বলা যেতে পারে। প্রতি বছর অনেক বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ ফলাফল অর্জন করলেও ভর্তি পরীক্ষায় তারা ভালো করতে পারছে না। যদিও সেই একই সিলেবাস থেকে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে, কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীরা ভালো করতে পারছে না।

কেন তরুণরা কারিকুলাম পরিবর্তন করার কথা বলছে?

একইভাবে যে সকল তরুণ ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভেতে অংশ নিয়েছে, তারা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করার পরেও তাদের চাকরি পেতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা মৌলিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছে তাদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। তারা জানিয়েছে যথেষ্ট ভালো ফলাফল থাকার পরেও তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডাকা হচ্ছে না। আবার অপেক্ষাকৃত খারাপ ফলাফল নিয়েও কেউ কেউ ভালো কোথাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এর পিছনে তরুণরা দায়ী করছে বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতির বিভিন্ন পর্যায়ের কারিকুলাম কে। কেননা তারা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে তার সাথে চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার সাথে মিল থাকছে না।

এর পিছনে প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম  অনেক আগের এবং বর্তমান সময়ের সাথে সাথে তা পরিবর্তন করা হয় নি। কিন্তু একই সাথে চাকরির বাজারে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন চাকরির জন্য একাডেমিক পড়াশোনার বাইরেও অনেক কিছু জানা থাকা জরুরি যা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্যি বেশিরভাগ শিক্ষার্থী চাকরির জন্য দরকারি বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত থাকে না এবং অনেকটাই মুখস্থ নির্ভর পড়াশোনায় অভ্যস্থ। শুধুমাত্র চাকরির আবেদন করতে গেলেই তারা অনুধাবন করতে পারে যে তাদের একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে অনেক কিছু জানা প্রয়োজন। এছাড়াও অন্যান্য স্তরের কারিকুলাম নিয়েও তরুণরা চিন্তিত। তারা মনে করে শুধু মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কারিকুলাম পরিবর্তন করেই সামগ্রিক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব নয়। বরং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই সব কিছুতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।

কারিকুলামে কি ধরনের পরিবর্তন আনা যেতে পারে?

কারিকুলাম পরিবর্তনের একটি বড় অংশ হতে পারে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে তোলার উপযোগী করে কারিকুলাম প্রণয়ন। যদিও মাধ্যমিক পর্যায়ে এখন সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেটাকে আরও বেশি উন্নত করা প্রয়োজন। একই সাথে শিক্ষকদের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে যেন শিক্ষার্থীরা সজবোধ্যভাবে সব কিছু শিখতে পারে। পরিবর্তন টা সেখান থেকে শুরু হলে খুব সহজেই অন্যান্য পর্যায়েও শিক্ষার মানের পরিবর্তন অবশ্যাম্ভাবী।

আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান চাকরির অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ভবিষ্যতে কি ধরনের চাহিদা থাকতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কারিকুলামে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে শিক্ষার্থীদের লিডারশিপ, পাবলিক স্পিকিং, কমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয়ের উপরে সঠিক প্রশিক্ষন তাদেরকে চাকরি থেকে শুরু করে সব ব্যাপারেই সহযোগিতা করতে পারে। এছাড়াও যে সকল বিষয় পড়ানো হচ্ছে সেগুলোর প্রয়োগের ব্যাপারেও বাস্তব প্রশিক্ষন জরুরি।

 

যে ৭টি উপায়ে কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস কমাতে পারেন খুব সহজেই

1000 668 Sherazoom Monira Hasib

কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস অন্যতম একটি সমস্যা। যখন আপনি স্ট্রেসে থাকবেন, স্বাভাবিক কাজগুলো অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হবে, যার কারনে অফিসে আপনার সামগ্রিক পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যেতে পারে এবং চাকরিতে আপনার উন্নতি বাধাগ্রস্থ হতে পারে। অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না ঠিক কিভাবে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠা যায়। এর সমাধান কিন্তু খুব বেশি কঠিন নয়। আপনাকে শুধু কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে, আর মনে রাখতে হবে কাজের ব্যাপারে স্ট্রেস নেয়া কোনও সমাধান নয়। চলুন দেখে নেয়া যাক কিছু উপায় যা কাজের ক্ষেত্রে স্ট্রেস থেকে আপনাকে দূরে রাখবে।

১. কেন স্ট্রেস হচ্ছে তা খুঁজে বের করুন

কাজের ক্ষেত্রে স্ট্রেস হোক আর অন্য কোনও ক্ষেত্রে হোক, সবার আগে এর পিছনের কারনটা খুঁজে বের করা জরুরি।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় খুব ছোট ছোট ব্যাপার থেকে স্ট্রেস এর উতপত্তি। যেমন, আপনি হয়তো অফিসের কাজগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে পারছেন না আর তাই স্ট্রেস হয়ে যাচ্ছে। আবার এমন হতে পারে রাতে আপনার ভালো ঘুম হয়নি তাই সকালে অফিসে অনেক স্ট্রেস হচ্ছে কিন্তু আপনি হয়তো দায়ী করছেন অফিসের কাজের চাপকে। তাই কারণগুলো আগে খুঁজে বের করুন আর তারপরে এর সমস্যার ব্যাপারে মনোযোগ দিন।

২. রুটিন তৈরি করে কাজ করুন

প্রায় প্রত্যেকেরই একটা সাধারণ সমস্যা রয়েছে আর তা হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারা।  কখনও কি ভেবে দেখেছেন কেন এই ব্যাপারটা হয়ে থাকে? এর পিছনে প্রধানত যে কারনটা দায়ী তা হচ্ছে, আমরা কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই রুটিন মেনে চলি না। যে কোনও কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রধান উপায় হচ্ছে কাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা করে ফেলা। এর সুবিধা হচ্ছে, যখনই একটি করে কাজ শেষ হবে, আপনি অনেক বেশি আনন্দ পাবেন। এতে করে পরের কাজটা আপনি পূর্ণ উদ্যোমে শুরু করতে পারবেন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে সে রুটিনে যেন সময়ের ব্যাপারটা ভালো করে মানা হয়। এমনভাবে রুটিনটা করুন যাতে করে বিশ্রামের কিছু সময় পান। এই অভ্যাসটা একবার করে ফেলতে পারলে আপনার কাজগুলো নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে।

৩. আপনার সুপারভাইজরের সাথে কথা বলুন

আপনি হয়তো অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারনে কোনও কাজই করতে পারছেন না। ব্যপারটা যদি এমন হয়ে থাকে যে কাজের চাপ অনেক বেশি আর আপনি সময়ের মধ্যে সব শেষ করতে পারছেন না, সুপারভাইজরের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন কোন ব্যাপারগুলোতে আপনার সমস্যা হচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ দিনের পর দিন স্ট্রেস নিয়েই কাজ করে আর তা আরও খারাপ ফলাফল বয়ে আনে। শুরুতেই যদি আপনি এ ব্যাপারে সতর্ক না হোন তা আপনার কাজের মূল্যায়নে অনেক প্রভাব  ফেলবে। তাই স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই সেটা নিয়ে আপনাকে কথা বলতে হবে। চেষ্টা করুন নির্দিষ্ট একটা তালিকা করে ফেলতে যেখানে আপনি উল্লেখ করতে পারবেন ঠিক কোন বিষয়গুলো নিয়ে আপনার স্ট্রেস হচ্ছে। আরও ভালো হয় যদি আপনার কোনও সাজেশন থাকে আপনার সুপারভাইজরের কাছে যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে।

৪. নিজেকে অর্গানাইজড রাখুন

স্ট্রেস অনেকটাই মনের সাথে যুক্ত। আপনার মন যদি ফুরফুরে থাকে, স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রেস থেকে আপনি মুক্ত থাকতে পারবেন। আর মনকে ফুরফুরে রাখতে নিজেকে গুছিয়ে রাখার কোনও বিকল্প নেই। খেয়াল রাখুন যেন আপনার ডেস্ক সব সময় ই সুন্দর করে গুছানো থাকে। ব্যাপারটা যদি এমন হয় যে অনেক কাগজ এবং অফিসের আনুষঙ্গিক জিনিস টেবিলে পড়ে আছে, আপনার কাজে মন দিতে সমস্যা হবে। দিনের শুরুতেই আপনার ডেস্ক কে ভালোভাবে গুছিয়ে নিন যেন তাতে কোনও জিনিস এলোমেলোভাবে না পরে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ছোট ছোট টুল ব্যবহার করতে পারেন যা আপনাকে অরগানাইজড থাকতে সাহায্য করবে। কাজের লিস্ট তৈরি করার জন্য স্টিকি নোট ব্যাবহার করতে পারেন। যদি একটু ভিন্নতা আনতে চান, চেষ্টা করুন বিভিন্ন রঙয়ের স্টিকি নোট ব্যবহার করতে। ভিন্ন ভিন্ন কালারের কম্বিনেশন কাজের জায়গাটাকে একটি চমৎকার সাজ এনে দিবে যা নিঃসন্দেহে আপনার পছন্দ হবে।

৫. মাল্টিটাস্কিং থেকে দূরে থাকুন

বেশিরভাগ মানুষের স্ট্রেস শুরু হয় কাজ সঠিক সময়ে শেষ না করতে পারা থেকে। আর এর পিছনে অন্যতম কারন হচ্ছে একই সাথে অনেক গুলো কাজ করার চেষ্টা করা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে একসাথে দুইটা বা তিনটা কাজ করতে পারলে সেগুলো দ্রুত শেষ হবে। বাস্তবিকভাবে সেটা আসলে সম্ভব নয়। একসাথে একটার বেশি কাজ করতে গেলে আসলে কোনও কাজই পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে করা হয় না। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২.৫% মানুষ মাল্টিটাস্কিং করতে সক্ষম যা খুবই নগণ্য সংখ্যক। অর্থাৎ সব মানুষের এই ক্ষমতা নেই। কারন মানুষের ব্রেইন একসাথে দুটো কাজ করতে সক্ষম নয়। আর এর প্রেক্ষিতে সবগুলো কাজেই কিছু কিছু ভুল থেকে যায়। সেই একই কাজ আবার করতে হয় ভুলগুলো শোধরানোর জন্য। অথচ আপনি যদি কাজগুলো সময় অনুযায়ী ভাগ করে নিতেন, ব্যাপার টা অনেক সহজ হয়ে যেত। একটা করে কাজ শেষ হতো এবং আপনি মানসিক প্রশান্তি লাভ করতেন। তাই মাল্টিটাস্কিং থেকে সব সময় ই দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

৬. পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার

অফিস স্পেসে বেশিরভাগ মানুষ সবচেয়ে বেশি যে ব্যাপারটা অবহেলা করে তা হচ্ছে, পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার। অথচ সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ না করলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। একই সাথে সঠিক খাবার গ্রহণ না করলে তা আপনাকে অলস করে দিতে পারে। আমরা অনেকেই হয়তো জানি, টেক জায়ান্ট গুগল তাদের কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর খাবারের ব্যবস্থা রাখে। আর এটা করার কারন হলো তারা জানে কর্মীদের কর্মক্ষম রাখতে হলে তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার প্রয়োজন। আপনার অফিসে হয়তো সে রকম ব্যবস্থা না থাকতে পারে, কিন্তু চাইলেই কিন্তু আপনি স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিজেই করে নিতে পারেন। এতে করে শরীর কর্মক্ষম থাকবে আর কাজের প্রতিও মনোযোগ থাকবে। আর আপনার মেজাজও নিয়ন্ত্রণে থাকবে যা স্ট্রেস থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে। আর এর পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করুন।

৭. পরিমিত বিশ্রাম

একটানা লম্বা সময় কাজ করলে আপনি অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে যাবেন আর নিজেকে অবসাদগ্রস্ত মনে হবে। অনেকেরই একটা ভুল ধারণা আছে যে একটানা কাজ করলে সেটা দ্রুত শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, লম্বা সময় ধরে এক ই কাজ করতে গেলে খুব দ্রুতই তাতে বিরক্তি চলে আসবে। আর তাতে করে কাজটি যে ঠিকভাবে সম্পন্ন হবে না তা নিশ্চিত। তাই কাজের মাঝখানে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে। সে জন্য খুব বেশি সময়ের দরকার নাই। সম্ভব হলে প্রতি ২০ মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ড এর একটি ব্রেক নিতে পারেন। অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী সময় হয়তো একটু বেশিও লাগতে পারে। আর সে ২০ সেকেন্ড সময়ের মাঝে আপনি হালকা ব্যায়াম করতে পারেন বা চোখ বন্ধ করে চোখকে কিছুক্ষন বিশ্রাম দিতে পারেন। যে কোন কাজ সঠিক সময়ে শেষ করতে চাইলে আসলে এর বিকল্প নেই।

মনে রাখতে হবে কাজে স্ট্রেস থাকে মানে সেখানে আপনার পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই খারাপ হবে। তাই এ ব্যাপারে যত দ্রুত সচেতন হওয়া যায় ততই ভালো।

 

Do young graduates of Chattogram have enough opportunities in terms of education, extracurricular activities and career?

2016 1512 Maliha Shamsun

BYLC Chattogram organized its first BYLC Social on August 2, 2018, which discussed the question, “Do young graduates of Chattogram have enough opportunities in terms of education, extracurricular activities and career?”. The discussion was followed by music over tea and snacks.

Before the discussion took full form, a key problem that was identified uniformly by all was that irrespective of the number of opportunities available, young people don’t utilize the existing opportunities. The issue that graduate Abdullah Al Kaisar, co-founder of notable youth organizations like Team Chittagong and Traffic Chittagong, pointed out, “the core problem lies within institutions where they cannot understand the nature of the rapid change, which is why they are reluctant take new initiatives.  Youth also fail to utilize the opportunities they get on their way. This happens because even if they are given the exposure of attending programs or meeting resourceful people, they tend to move away from the purpose of their work. Because to them, “network” has a wrong connotation, they think networking is getting connected with high-profile people in Facebook, chatting and spending time online without being productive.”

Towhid Khan, Manager of BYLC Office of Professional Development (OPD), added, “the youth themselves don’t know what they are capable of doing. They have built their own barrier where they limit themselves from exploring; from knowing what they can get if they explored a totally different field. This leads them to limit themselves.”

Murshedul Alam, pioneer of Campaign Red, feels that culture also has to play a strong role in this matter. In comparison to Dhaka, due to geographical location, climate and the variation in lifestyle, there is less diversity. Another factor is where people fall behind and miss out on opportunities due to family barriers. Samsia Sifat, Assistant Manager of Operations, BYLC Chattogram, expressed concern that this protective nature of families causes the young people of Chattogram to be less confident.

When discussing solutions, the graduates along with the BYLC team concluded that young people must adopt three habits- appreciation, commitment and preparation. As our Assistant Manager of OPD, Arnab Saha mentioned, “Each of us has a role to play. The road towards success is not easy. In this journey of creating ourselves we should not give up. Rather create ourselves every day in a different way by building networks, and using our access to information”.

তরুণদের মতে বাংলাদেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব-এ সমস্যার প্রতিকার কি?

1000 525 Sherazoom Monira Hasib

যদি জিজ্ঞেস করা হয় বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি, নিশ্চিতভাবেই প্রত্যেকের উত্তর ভিন্ন হবে। কিন্তু তরুণরা কি ভাবছে দেশ নিয়ে আর তাদের কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? এসব ভাবনা জানতে বিওয়াইএলসি আয়োজন করেছিল ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে। সেখানে তরুণদের কাছ থেকে যে উত্তরগুলো পাওয়া গিয়েছে তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের মতে বাংলাদেশের সামনে এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বেকারত্ব সমস্যা। তথ্য ও পরিসংখ্যান একই কথা বলছে, অর্থাৎ বাংলাদেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের উপযুক্ত কাজ পাচ্ছে না। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের হারের দিক থেকে বাংলাদেশ তৃতীয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী হচ্ছে তরুণ। আর তাদের একটা বড় অংশই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না। আর এ ব্যাপারে ভয়াবহ তথ্যটি হচ্ছে, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩০%। অর্থাৎ উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করার পরেও মিলছে না কাজের সুযোগ বরং তাদের মাঝেই বেকারত্বের হার বেশি। এর পিছনের কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের প্রধান কারণ হচ্ছে শুধুমাত্র ফলাফল কেন্দ্রিক চিন্তা ভাবনা। আর যে কারনে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত অসংখ্য শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের মধ্যে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট ধারণা থাকে না। একই সাথে অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করে আসলেও তার প্রয়োগ সম্পর্কে যথাযত জ্ঞানের অভাব রয়ে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে একাডেমিক পড়াশোনার খুব বেশি দরকার না হলেও নির্দিষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন হয়। আর এক্ষেত্রেই বেশিরভাগ তরুণ পিছিয়ে পড়ে। দেখা গেল কারো একডামিক ফলাফল অনেক ভালো কিন্তু যে ন্যূনতম দক্ষতার প্রয়োজন তা তাদের নেই। এসব ব্যাপারে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মন্তব্য হলো, তাদের অনেক দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী তারা দক্ষ লোকবল পাচ্ছেন না। অর্থাৎ চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে একটা ‘গ্যাপ’ থেকে যায়। তবে এর পরেও চাকরির নতুন ক্ষেত্র যে খুব বেশি তা নয়। যে পরিমাণ তরুণ প্রতি বছর গ্রাজুয়েশন করে বের হচ্ছে সে পরিমাণ কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। সাউথ এশিয়ান নেটয়ার্ক ফর ইকোনোমিক মডেলিং এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান এখন যথেষ্ট ভালো হলেও, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি।

এ সমস্যা থেকে উত্তোরনের ব্যাপারে তরুণদের মধ্যে বেশ কিছু মতামত রয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মনে করে তাদের আসলে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে কিছু করার নেই। কেননা, বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কারিকুলাম আছে তা বেশ পুরাতন আর যুগোপোগী নয়। আর সে কারিকুলামের বাইরে কিছু করার চেষ্টা অনেক শিক্ষার্থীর মাঝেই থাকে না। কিন্তু একডেমিক পড়াশোনা শেষ করার পর তারা বুঝতে পারে শুধু গতানুগতিক নিয়মে শিক্ষাজীবন শেষ করে আসলে কর্মজীবনে ভালো করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে মোলিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার সুযোগ খুব ই কম। আবার চাকরি ক্ষেত্রে মৌলিক বিষয়ের চেয়ে ব্যবহারিক বা কর্মমুখী শিক্ষা বেশি প্রয়োজনীয়। এই উভয়মুখী সমস্যার কারনে বেকারত্বের হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ সমস্যা থেকে উত্তোরনের উপায় কি?

বেকারত্বের এই সমস্যা থেকে উত্তোরনের জন্য বেশ কিছু নেয়া পদক্ষেপ জরুরি যার অন্যতম হচ্ছে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নতি করা। একই সাথে তরুণদের জন্য এমন কিছু কিছু দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাতে করে তারা নতুন কাজগুলোর জন্য উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারে। চাকরিদাতা ও চাকরি প্রত্যাশীদের মাঝের এই গ্যাপ দূর করার জন্য বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কাজ করছে। যেখানে ৫ টি ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যম ও বয়সের তরুণদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে থাকে বিভিন্ন সেশন যেখানে তরুণদের ‘সফট স্কিলস’ বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হয়। এরকম আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তরুণদের জন্য কাজ করছে কিন্তু তা সবার জন্য যথেষ্ট নয়। আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণরা সরকারের পক্ষ থেকেও বেশি কিছু পদক্ষেপ আশা করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আরও বেশি সরকারি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশা হলো শিক্ষাব্যবস্থার বা কারিকুলামের উন্নতি সাধন করা।

তরুণদের এ সকল প্রত্যাশা ও বক্তব্যগুলো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে ২৭, ২৮, ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিওয়াইএলসির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট। যেখানে তরুণদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশা ও মতামত অনুযায়ী তৈরি হবে ‘ইয়ুথ ম্যনিফেস্টো’।

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.