Monthly Archives :

April 2018

কম সিজিপিএ নিয়ে যে ৭ টি উপায়ে ভাল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব

1280 836 Sherazoom Monira Hasib

প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় অনেক স্বপ্ন ও সে স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা নিয়ে। সবার মনেই থাকে ভাল কিছু করে পরিবার তথা দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসা। দুঃখজনকভাবে আমরা দেখতে পাই সবার পক্ষে খুব ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয় না। চার থেকে পাঁচ বছর পড়াশোনা করার পরে যখন কারো ফলাফল খারাপ থাকে, সেটা আসলেই হতাশাজনক।

কিন্তু আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, জীবন এখানেই থেমে থাকবে না। এক ই ব্যাচে কারো ফলাফল খুব ভালো হবে আর কারো একটু খারাপ হবে এমন টা খুব ই স্বাভাবিক। তাই ফলাফল যা আছে, সেটা নিয়ে কিভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় আমাদেরকে সেটা ভাবতে হবে। তাই চলুন আজকে জানার চেষ্টা করি কিভাবে প্রত্যাশিত ফলাফল না থাকলেও ভাল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা যায়।

নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করুন

আপনি যখন ফাইনাল ইয়ার বা শেষের দিকের সেমিস্টারে আছেন, তখন ই আপনি ধারণা করতে পারবেন আপনার সিজিপিএ আসলে কেমন হতে পারে। তাই আপনার উচিত হবে তখন থেকেই অন্যান্য দক্ষতা নিয়ে কাজ শুরু করা। সেটা হতে পারে আপনার ইংরেজী দক্ষতা, কথা বলার দক্ষতা, বিভিন্ন সফটওয়্যারে কাজ করতে পারার দক্ষতা ইত্যাদি।

ধরা যাক, আপনি ইংরেজীতে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছেন, সে ক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে প্রতিদিন কিছু সময় লার্নিং এর জন্য বরাদ্দ করা। অবশ্যই ভাল একটা প্রস্তুতির পর আপনার উচিত হবে দক্ষতা কতটুকু বৃদ্ধি পেল সেটা জানার জন্য সে সম্পর্কিত কোন একটি পরীক্ষা দেয়া। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আপনি IELTS পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। আর সেখানে যদি আপনার ভালো একটা স্কোর থাকে, নিশ্চিত থাকেন তা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ঠ গুরুত্ব পাবে। এমন কি আপনি খুব ভালো ভালো কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।

প্রতিষ্ঠিত কোন কোম্পানি তে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিন

একটি ভালো জব পাওয়ার জন্য এটি হচ্ছে সব চেয়ে কার্যকরী পন্থা। এমন কি, আপনার যদি খুব ভাল সিজিপিএ থাকে, তবুও আপনার উচিত হবে ইন্টার্ন হিসেবে কোথাও কাজ শুরু করা। এ ক্ষেত্রে সুবিধা হচ্ছে, আপনি সহজে ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাবেন। তারা আপনাকে কাজ করার সুযোগ এই জন্য দিবে কারন এন্ট্রি লেভেলের কাজের জন্য খুব বেশি স্কিলস দরকার হয় না। হয়তো আপনি সেখান থেকে টাকা আয় করতে পারবেন না, তবে এর চেয়েও বেশি কিছু পাবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সুবিধা টি পাবেন সেটি হচ্ছে কাজ সম্পর্কে জানার সুযোগ। আর যখন আপনি কোন কাজে দক্ষ, যে কোন প্রতিষ্ঠানে এক ই ধরণের কাজে আপনাকেই তারা প্রাধান্য দিবে। এমন কি এক ই জব পজিশনে, যার ফলাফল ভালো তার চেয়েও আপনার গুরুত্ব বেশি থাকবে কারন আপনি সে কাজ টা কিভাবে করতে হয় তা আগে থেকেই জানেন।

যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করুন

বর্তমান সময়ে যখন ই আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে এ জব এ এপ্লাই করছেন, সবার প্রথমেই তারা যে দক্ষতা আপনার কাছ থেকে প্রত্যাশা করবে তা হচ্ছে যোগাযোগ দক্ষতা। প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাভেদে যোগাযোগ দক্ষতা মানে এমন টা নয় যে শুধুমাত্র কথা বলতে পারার দক্ষতা। এখানে অনেক গুলো বিষয় জড়িত। আপনাকে এক ই সাথে একজন মনোযোগী শ্রোতা, একজন ভাল বক্তা ও কাউকে কনভিন্স করার মত দক্ষতা থাকতে হবে। সর্বোপরি, কারো সাথে যোগাযোগের জন্য যা যা প্রয়োজন সব ই জানতে হবে। আর এ জন্য আপনার উচিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই সে সব ব্যাপারে চর্চা করা।

নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করুন

বর্তমানে প্রায় সব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাতে তাদের বিভিন্ন রকমের কাজের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়। আর তাই প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কাউকে নিয়োগ দিতে চায় যার নতুন প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে অনেক ভালো ধারণা আছে। এর জন্য প্রথমেই আপনাকে যেটা করতে হবে তা হচ্ছে, আপনি যে ধরণের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান তাদের সম্পর্কে ভাল করে খোঁজ নিন। তাদের কি ধরণের প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার তার উপরে ভিত্তি করে আপনার নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। সেটা যে কোন নতুন প্রযুক্তি ই হতে পারে। চেষ্টা করুন যেন আপনার দক্ষতা গতানুগতিক ধারার চেয়ে বাইরে কিছু হয়। সেটার সাথে নতুন যে কোন প্রযুক্তির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার মত যোগ্যতা থাকতে হবে।

সুন্দর কভার লেটার তৈরি করুন

জব এপ্লাই এর ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে শুধু রিজিউমে দিয়েই আপনি জব টা পেয়ে যাবেন এই ধারণা সত্যি নয়। ভাল একটি রিজিউমে শুধু আপনার এতদিনের অর্জন গুলো ই নিয়োগদাতার সামনে তুলে ধরবে। কিত্নু জবটার জন্য আপনি ই কেন সব চেয়ে যোগ্য ব্যাক্তি তা বুঝানোর জন্য খুব ই ভালো মানের একটি কভার লেটার প্রয়োজন।

সেখানে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করুন আপনার দক্ষতা কিভাবে উক্ত জবের জন্য সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি জবের জন্য আপনাকে আলাদা করে কভাল লেটার লিখতে হবে। কখনও এক ই কভার লেটার একাধিক জায়গায় পাঠাবেন না। কেননা তাতে করে ইন্টারভিউ বোর্ড এ আপনার ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। চেষ্টা করবেন আপনি যে জবটাতে এপ্লাই করছেন তার সাথে মিল রেখে আপনার কভার লেটার টা তৈরি করতে।

গতানুগতিক ধারণার বাইরে কিছু করুন

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমরা প্রায় সবাই এক ই ধরণের জবের জন্য এপ্লাই করছি। আর তাতে করে একটি জব পোষ্টের বিপরীতে অনেক বেশি পরিমান প্রতিযোগী থাকে। কিন্তু আপনি খুব সহজেই একটি জব পেতে পারেন যদি একটু ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেন। এমন কিছু কাজ আছে যেখান আপনার ফলাফল এর চেয়ে দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আপনি যদি সেলস এ কাজ করতে চান, সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান টি গুরুত্ব দিবে আপনার বিক্রি করার মত কেমন দক্ষতা আছে সেটার উপরে। তারা জানতে চাইবে আপনি মানুষ কে কনভিন্স করতে পারেন কিনা। অর্থাৎ কোন পণ্য ক্রয় করার জন্য ক্রেতাকে উৎসাহিত করা। তারা মূলত জানতে চায় তাদের জন্য কি পরিমাণ বিক্রি করতে পারবেন বা কি পরিমাণ লভ্যাংশ এনে দিতে পারবেন তারা সেটা জানতে চাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে আপনার ফলাফল তেমন একটু ভূমিকা রাখবে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিক্রয় কর্মী নিয়োগ করে থাকে এবং তারা ফলাফলের চেয়ে দক্ষতার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য এমন কিছু প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিভিন্ন রিয়েলএস্টেট কোম্পানি, বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং এই রকম আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এই সকল ক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই আপনার দক্ষতা দিয়ে ভালো করার সুযোগ পাবেন যা অন্য কোথাও সম্ভব নয়।

নিজেকে ইন্টারভিউ এর জন্য প্রস্তুত রাখুন

আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখতে পাই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা জবে এপ্লাই করার পরে সেটা সম্পর্কে ভুলে যাই বা সেটার জন্য কোন রকমের প্রস্তুতি রাখি না। এতে করে দেখা যায় আমরা হয়তো কোন জব ইন্টারভিউ এর জন্য ডাক পেয়ে গেলাম যেটার জন্য আমাদের আসলে কোন প্রস্তুতি নাই। আর আপনি যদি আগে থেকেই ভালো করে প্রস্তুতি রাখেন, খুব সহজেই ইন্টারভিউ তে ভালো করতে পারবেন যা আপনাকে কম সিজিপিএ নিয়েও ভালো একটি জবে ঢুকার সুযোগ করে দিবে।

হয়তো আপনি ভাবছেন যে কিভাবে ইন্টারভিউ এর জন্য প্রস্তুতি নিবেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি বিওয়াইএলসি এর OPD বা অফিস অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট তে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আপনি একটি ইন্টারভিউ এর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সহ সেখানে কিভাবে নেগোসিয়েশন করতে হয় সেটাও জানতে পারবেন।

আরেকটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার যা আপনাকে মনে রাখতে হবে তা হচ্ছে, আপনার ফলাফল কেন খারাপ সেটা অবধারিতভাবেই আপনার নিয়োগকর্তারা জানতে চাইবে। আর আপনার উচিত হবে সেটার জন্য খুব ভালো একটি উত্তর প্রস্তুত করে রাখা। এ ক্ষেত্রে সব চেয়ে ভালো হয় যদি আপনি সত্যিকারের কারন টা ই সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন।
এটা সত্যি যে কম সিজিপিএ নিয়ে জব পাওয়া যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু যখন আপনি উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে ভাববেন ও তা পর্যালোচনা করে নিজেকে প্রস্তুত করবেন, ভালো একটি জব পাওয়া আপনার জন্য অনেকটা ই সহজ হয়ে যাবে।

যে ৫ টি কারনে ভালো চাকরি পেতে সিজিপিএ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ

1280 850 Sherazoom Monira Hasib

বর্তমানে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের বড় একটি অংশের মধ্যে প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সিজিপিএ খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। এই ধারনার কারনে, অনেকেই পড়াশোনায় খুব বেশি মনোযোগ দিতে আগ্রহী হয় না। ফলাফল স্বরূপ অনেকেই প্রত্যাশিত সিজিপিএ বা ফলাফল অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় তারা ক্রমাগত বিভিন্ন চাকরিতে এপ্লাই করে যাচ্ছে কিন্তু কোথাও তাকে ডাকা হচ্ছে না। এতে করে অনেক বেশি হতাশা কাজ করে এবং অনেকেই নিজের উপরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। কখনও কখনও হয়তো আর প্রত্যাশিত চাকরি পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না।

আপনি যদি সিজিপি এর ব্যাপারে এক ই রকম ধারণা পোষণ করে থাকেন, বলা যায় যে আপনি ই রকম বিপদে পড়তে পারেন। আজকে আমরা আলোচনা করব প্রত্যাশিত ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সিজিপিএ কেন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চলুন দেখি আসি ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ কারন যা থেকে আপনি ধারণা পাবেন কেন একাডেমিক লাইফের শুরু থেকেই সিজিপিএ এর ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরী।

১. শুরুর ধারণা
যখন আপনি কেবল পাশ করে বেরিয়েছেন, কোন বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা আপনার না থাকার ই বেশি সম্ভাবনা। তাই আপনার রিজিউমে তে কোন অভিজ্ঞতা যোগ করার সুযোগ থাকে না। আপনি হয়তো অনেক কাজেই পারদর্শী, কিন্তু একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আপনার রিজিউমে তে শুধু সিজিপিএ টা ই অনেক বেশি প্রাধান্য পাবে। আপনি হয়তো অন্যান্য দক্ষতা আপনার চাকরির আবেদনে যোগ করতে পারেন কিন্তু আপনার চাকরিদাতা প্রথমেই যে জিনিস টি লক্ষ্য করবে তা হচ্ছে আপনার ফলাফল। আর সেখানে যদি খুব ভাল কিছু না থাকে, ইন্টারভিউ বোর্ড এ আপনার ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

২. দায়িত্বশীলতা
যখন কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা চাকরির জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে, তারা কোন দায়িত্বশীল লোককেই নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু চাকরিদাতার আলাদা করে সুযোগ থাকে না এই ব্যাপারে পরীক্ষা নেয়ার। সেক্ষেত্রে তাদের কাছে একটি পথ ই খোলা আছে আর তা হলো আপনার রিজিউমে পরীক্ষা করা।

তাঁরা দেখবে আপনি শিক্ষাজীবনে কতটুকু দায়িত্বশীল ছিলেন। আর এ জন্য সবার প্রথমে তারা দেখবে আপনার ফলাফল কেমন। যখন আপনার ফলাফল অন্যদের চেয়ে ভাল, তখন ধরে নেয়া হয় যে আপনি শিক্ষা জীবনে আপনার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন বলেই আপনার ফলাফল ভাল। অর্থাৎ আপনি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে জানেন ও আপনার উপরে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। তাই আপনার উচিত এখন থেকেই আপনার সিজিপিএ এর ব্যাপারে সচেতন হয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া।

৩. মেধা যাচাই
হতে পারে আপনার মেধা অন্য সব চাকরি প্রত্যাশীদের চেয়ে বেশি। কিন্তু আপনাকে সেটা প্রমাণ করে দেখাতে হবে। সেটা তখন ই সম্ভব যখন আপনি ইন্টারভিউ বোর্ড এ ডাক পেয়েছেন। খারাপ ফলাফল নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ড এ ডাক পাওয়া বেশ কঠিন। চাকরিদাতা মেধা যাচাইয়ের জন্য অবশ্যই আপনার ফলাফল কে গুরুত্ব দিবে। তাই আপানার অন্যান্য মেধা থাকা সত্ত্বেও আপনি সেটা দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। আর ভালো সিজিপিএ এটাও প্রমাণ করে যে আপনি পড়াশোনায় ভাল ছিলেন অর্থাৎ মেধাবী ছিলেন। যদিও আপাতদৃষ্টিতে এটা অন্যায় মনে হয়, কিন্তু চাকরিদাতার কাছে এ ছাড়া আর তেমন কোন পথ খোলা নেই আপনার মেধা যাচাই করার।

৪. বিষয়ভিত্তিক পারদর্শিতা
যদি আপনি নির্দিষ্ট কোন দক্ষতা নির্ভর চাকরিতে আবেদন করেন, তখন সেই বিষয়ে আপনার ফলাফল অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। ধরা যাক, আপনি একটি বিপণন প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে তাতে আবেদন করেছেন। এখন উক্ত প্রতিষ্ঠান খুঁজে দেখবে বিপণন সম্পর্কিত বিষয়ে কার ফলাফল সব চেয়ে ভাল। তারা ধরে নিবে যার ফলাফল ভাল, সে সেই বিষয় নিয়ে ভাল করে পড়াশোনা করেছে। অর্থাৎ সে বিষয়ে তার জ্ঞান অন্যদের চেয়ে গভীর।

তাই আপনি যদি প্রত্যাশা করেন যে ভবিষ্যতে আপনার বিষয় সম্পর্কিত কোন চাকরি করবেন, তাহলে এখন থেকেই সে সকল বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া শুরু করেন। আর তাতে করে আপনার সিজিপিএ ও অনেক ভাল হবে এটা নিশ্চিত।

৫. চাপ সহনশীলতা
আপনার ফলাফল অনেক ভাল মানে এটা বুঝায় যে আপনি অনেক বেশি চাপ নিয়ে কাজ করতে জানেন। যখন আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, আপনাকে অনেক ধরনের কাজ দেয়া হবে। কখনও কখনও আপনার অ্যাসাইনমেন্ট থাকবে। বিভিন্ন সময়ে মিড বা সেমিস্টার ফাইনাল কিংবা ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা থাকবে এবং এই রকম আরও অনেক । যদি আপনার সিজিপিএ খুব ভালো রাখতে চান, এই সবগুলো কাজ আপনাকে সঠিক সময়ে করতে হবে।

আর তাই আপনার চাকরিদাতা খুঁজার চেষ্টা করেন এমন কাউকে, যে এই রকম অসংখ্য দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করে এসেছে। কারন একটি অফিসেও আপনাকে এক ই রকম ভাবে অনেক ধরণের কাজ করতে দেয়া হবে বা আপনি চাপে থাকতে পারেন। আর তাই আপনার চাকরিদাতা আপনার সিজিপিএ টা কে ব্যাবহার করবে চাপ সহ্য করার মানদণ্ড হিসেবে।

উপরের আলোচনা থেকে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে আমরা ফলাফল নিয়ে যেভাবে ভাবি, ব্যাপার টা অনেক ক্ষেত্রেই সে রকম নয়। খারাপ ফলাফল নিয়ে কেউ কেউ হয়তো অনেক কিছু করে ফেলতে পারে, তাই বলে সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব না ও হতে পারে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় সিজিপিএ ক্যারিয়ারের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ যা আপনাকে আর সবার চাইতে এগিয়ে রাখবে।

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.