‘নিউ ইয়ার রেজোল্যুশন’ এ যোগ হোক নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস

‘নিউ ইয়ার রেজোল্যুশন’ এ যোগ হোক নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস

940 627 Jamia Rahman Khan Tisa

অবসরে আপনি কি করতে পছন্দ করেন? এই প্রশ্নটি করা হলে বেশিরভাগ লোকই যে উত্তরটা দেন তা হলো ‘বই পড়তে ভালোবাসি’। কিন্তু আদৌ আমরা কতজন সত্যি সত্যি বই পড়ি? চাইলে এই ছোট্ট কুইজটির মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন আপনি কতটা বইপাগল?

বই পড়াটা আসলে অনেকটা অভ্যাসের মতন। একবার যদি বইয়ের প্রতি ভালোবাসা খুঁজে পান তবেই বুঝবেন বইয়ের নেশা যে কতটা প্রকট হতে পারে।
সত্যি বলতে কি আমাদের সবারই নিয়মিত বই পড়া উচিত। এখনতো মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে ‘কেন’? আসুন জেনে নেওয়া যাক কিছু কারণ যার জন্য আপনার নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

১. বই পড়া বাড়ায় লেখার দক্ষতা
ভালো লেখক হওয়ার প্রথম শর্তই হলো বেশি বেশি পড়া। আপনি যত ভালো পাঠক হতে পারবেন, ততই ভালো লেখক হবেন। নিয়মিত বই পড়লে বাক্যের গঠন, শব্দের নিয়ে খেলা করার ব্যাপারগুলো আয়ত্ত্বে চলে আসবে। তখন নিজের লেখায়ও সেটা প্রয়োগ করতে পারবেন। সুতরাং লেখার হাত ভালো করতে চাইলে অবশ্যই পড়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আইইএলটিএস পরীক্ষায় রিডিং ও রাইটিং সেকশনে ভালো করতে চাইলে সপ্তাহে অন্তত একটি ইংরেজি বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

২. মানসিক চাপ কমায়

এটা গবেষণার দ্বারা প্রমাণিত যে বইপড়া মানসিক চাপ কমায়। ইউনিভার্সিটি অফ সাসেক্সের এক গবেষণায় দেখা যায় যে মানসিক চাপ সামলে ওঠার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো বই পড়া। টেলিগ্রাফ সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয় যে, কোনো ব্যক্তি  বইয়ের পাতা উল্টানো শুরুর করার  ছয় মিনিটের মধ্যেই মানসিক চাপ কমতে শুরু করে।

৩.স্মরণশক্তি বাড়ায়
নিয়মিত বই পড়লে স্মরণ শক্তি তো বাড়বেই পাশাপাশি কমবে আলঝেইমার কিংবা ডিমেনশিয়ার মত রোগের ঝুঁকিও। নিউরোলজি’ সাময়িকীতে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ওখানে বলা হয়, দীর্ঘ সময়ের বই পড়ার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধ বয়সে মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে। ‘নিউরোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখানো হয় যে যারা অনেক সময় ধরে বই পড়েন তাদের স্মৃতিশক্তি দীর্ঘদিন শক্তিশালী থাকে।   ২৯৪ জন ব্যক্তিকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছিলো।  মৃত্যুকালে তাদের গড় বয়স ছিল ৮৯। গবেষণায় দেখা গেছে , তাদের মধ্যে যারা অনেক বছর ধরে বই পড়া ধরে রেখেছিলেন, তাদের স্মৃতিশক্তি হারানোর হার যারা বই কম পড়েছেন তাদের থেকে কম।

৪.মনোযোগ বাড়ায়
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলে আজ পৃথিবী অনেকটাই আমাদের হাতের মুঠোয়। সহজেই। আমরা এখন একসাথে অনেক ধরণের কাজ করে থাকি যেমন ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ,  ইনস্টাগ্রাম, ইমেইল সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা একইসময়ে সক্রিয় থাকি। এতে করে একজায়গায়  আমাদের জন্য মনোযোগ ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে যায়।

আপনি যখন বই পড়েন তখন আপনার মনোযোগ একটি নির্দিষ্ট গল্পে বা আবহের মাঝে আবদ্ধ থাকে।

আপনি যখন বই পড়েন তখন আপনার মনোযোগ একটি নির্দিষ্ট গল্পে বা আবহের মাঝে আবদ্ধ থাকে। এতে করে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। সময় করে বই পড়তে না পারলে যে সময়টুকু কোথাও আসা যাওয়ার পথে ব্যয় করছেন সেই সময়টাতেই বই পড়তে পারেন। অফিসে যাওয়ার আগের সময়টাতে ১৫/২০ মিনিটের বই পড়া অফিসের কাজে আপনার মনোযোগ বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।  বিশ্বাস না হলে শুরু করেই দেখুন না!

৫. শব্দ ভাণ্ডার বৃদ্ধি
শব্দ ভাণ্ডার বাড়াতে বই পড়ার বিকল্প আর কিছুই নেই। আপনি যে ভাষায় শব্দ ভাণ্ডার বাড়াতে চান, বেশি বেশি সেই ভাষার বই পড়ুন। পরিবর্তনটা নিজেই টের পাবেন।

৬. ভালো ঘুম
ঘুমাতে যাওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়া সহ সমস্ত প্রযুক্তি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে কিছু ক্ষণের জন্য বইয়ের জগতে হারিয়ে যান, দেখবেন কি প্রশান্তির একটা ঘুম আপনি পাচ্ছেন। তবে হ্যাঁ, বইটয় যেন থ্রিলার কিংবা ক্রাইম ফিকশন না হয়।

৭. বই বাড়ায় সৃজনশীলতা
সৃজনশীলতা বাড়াতে বইয়ের জুড়ি নেই। একটি বই পড়ার সময় বহু দৃশ্য আমরা মনে মনে কল্পনা করি,  বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ আমাদের বিশ্লেষণ করতে হয়। এতে করে  আমাদের কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়, বাড়ে সৃজনী ক্ষমতা।

তবে আর দেরি কেন? বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন আজ থেকেই। ‘নিউ ইয়ার রেজোল্যুশন’ এ যোগ হোক নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। জানেনই তো। মনের জানালাগুলো খুলে দিতে বইয়ের কোনো জুড়ি নেই !

তথ্যসূত্র: হাফপোস্ট এবং লাইফহ্যাক

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ pelex.com

Leave a Reply

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.