টিমওয়ার্ক; কেন এবং কিভাবে

টিমওয়ার্ক; কেন এবং কিভাবে

1086 724 Jamia Rahman Khan Tisa

‘তোমরা তো একটা টিম এ কাজ করছো। টিমওয়ার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ  একটা ব্যাপার। টিমে কেউ যদি কোন ভুল করেও ফেলে সেটার জন্য তাকে হেয় করোনা, বরং তাকে শিখতে সাহায্য করো। লাভটা পুরো টিমেরই হবে।” আমাদের ডেমো প্রেজেন্টেশনের সময় একথাটাই বলেছিলেন বেসরকারি বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিটপীর চিফ অ্যাডভার্টাইজিং অফিসার অরূপ স্যান্যাল। কিছুদিন আগে ইউএনডিপি আয়োজিত একটা আইডিয়া ইনোভেশন কম্পিটিশনে আমি ফাইনালিস্ট হই। সেই সুবাদেই ইউএনডিপি থেকে আমাদের জন্য একটি ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করা হয় যেখানে আমরা প্রজেক্ট প্ল্যানিং এবং তা প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে হাতে কলমে শেখার সুযোগ পাই।

 

ওয়ার্কশপের প্রথম দিনেই আমাদের ৬টি টিম এ ভাগ করে দেওয়া হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হল আমি এমন একটা টিমে পড়লাম যেখানে আমরা কেউ কাউকে আগে থেকে চিনিনা এবং আমাদের সবার ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা। তারপর আরেকদফা অবাক করে দিয়ে জানানো হলো যে এই টিমেই আমাদের একটা আইডিয়া বের করতে হবে, প্রজেক্ট ডিজাইন করতে হবে এবং বিচারকদের সামনে প্রেজেন্টেশনও দিতে হবে। এর জন্য আমরা সময় পাবো দুদিনের ও কম। প্রথমদিকে আমরা কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পরে সব ঠিকঠাক মত সামলে নিতে পেরেছিলাম এবং বিচারক ও দর্শক জরিপে আমাদের টিম “জাগরণ” জিতে নিয়েছিলো ১ম রানার্সআপের পুরস্কার। পুরস্কার জিতে নেওয়ার বাইরে আমি সবথেকে দারুণ যে জিনিসটি আমি পেয়েছি তা হলো আমার টিম। অরূপ স্যান্যালের কথাটা আমাদের খুব কাজে লেগেছিলো।পুরস্কার না পেলেও আমার কোন আফসোস থাকতো না। কারণ আমার টিম আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।

এই লেখাটাতে আমি আমার টিমওয়ার্কের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চাই। আজকাল পড়াশোনা, চাকুরি, প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ সব ক্ষেত্রেই টিমওয়ার্ক লাগে। অনেক সময় দলের মানুষগুলো আমাদের আগে থেকেই পরিচিত থাকে আবার অনেক সময় থাকেনা। কিন্তু সঠিক টিমওয়ার্ক আপনার কাজকে দিতে পারে নতুন মাত্রা।আসুন প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক কেন টিমওয়ার্ক প্রয়োজন।

সমস্যার সমাধান পেতে
সমস্যা সমাধান করতে টিমওয়ার্কের বিকল্প নেই। একা সমস্যার সমাধান খুঁজতে গেলে আটকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সবাই মিলে সমস্যা সমাধান খুঁজলে সহজেই সমাধানে আসা যায়।

নতুন ধারণার জন্ম দেয়
একটি দলে নানা ধরণের মানুষ থাকে এবং তাদের চিন্তাভাবনায় থাকে ভিন্নতা। ফলে জন্ম নেয় নতুন নতুন ধারণা।

টিমওয়ার্কে বাড়ে মনোবল
আপনি যখন দলগতভাবে কাজ করবেন খুব স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে আর একা মনে হবেনা। দৃঢ় হবে মনোবল আর বাড়বে আত্মবিশ্বাস।

শেখার সুযোগ
দলের প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকেই কিছু না কিছু  শেখার আছে। যদি আপনার গ্রহণ করার মানসিকতা থাকে তবে টিমওয়ার্ক আপনার জন্য হতে পারে শেখার দারুণ মাধ্যম।

এতো গেলো টিমওয়ার্ক কেন দরকার সে কথা। এবার আসুন জেনে নিই কিছু বিষয় যা টিমওয়ার্কের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টিমওয়ার্কের সময় এই বিষয়গুলো মেনে চলাটা খুবই জরুরি।

সঠিক নেতৃত্বচর্চা
নেতৃত্বচর্চা মানে এই নয় যে আপনি নিজেই দলটির সর্বেসর্বা হয়ে উঠবেন। বরং সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করণ এবং মতামত প্রদানের মাধ্যমেই নেতৃত্বের চর্চা করা হয়।

গ্রহণ করার মানসিকতা
অন্যের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রহণ করার  মানসিকতা থাকতে হবে। গ্রহণ করার মানসিকতা থাকলে সমস্যাকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যায়, আর অন্যদের কাছ থেকে শেখাও যায়।

বৈচিত্র্য
বৈচিত্র্য একটি কার্যকরী দলের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।  দলের সদস্যদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা থাকলে নতুন নতুন ধারণা আসে, আসে ভিন্ন মতামত। আর টিমওয়ার্কের সময় বৈচিত্র্যকে সম্মান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কার্যকরী যোগাযোগ
দলের মধ্যে কার্যকরী যোগাযোগ থাকতে হবে। তা না হলে টিমওয়ার্ক করতে গেলে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকসময় দেখা যায় সদস্যদের মধ্যকার যোগাযোগ কার্যকরী না হওয়ায় দলটি ভেঙ্গে যায়।

সম্মিলিত উদ্দেশ্য
দলের সকলের সম্মিলিত উদ্দেশ্য এক হতে হবে। তবেই সেই লক্ষ্য সাধনে সবাই এক হয়ে কাজ করা যাবে।

দ্বন্দ্ব পরিচালনা
টিমওয়ার্কে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। কখনো কখনো বরং এটা ভালো। ধারণার বিপরীত দিকগুলো উঠে আসে। তবে দ্বন্দ্ব যদি আগ্রাসী আকার ধারণ করে তা ক্ষতিকর। তাই সঠিকভাবে দ্বন্দ্ব পরিচালনা করাও জানতে হবে।

পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দায়বদ্ধতা
সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।

সৃজনশীলতা এবং মতামতের স্বাধীনতা
সদস্যদের সৃজনশীলতা ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। টিমওয়ার্কের এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কাউকে হেয় করা যাবেনা
সবার সমান দক্ষতা থাকবে তেমনটা নয়। কিংবা সাবধানতা সত্ত্বেও ভুল হতেই পারে। এজন্য কাউকে ছোট করা যাবেনা। বরং তাকে তার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে হবে।

Leave a Reply

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.