এভরিডে লিডারশীপঃ সাগরের ক্রিয়েটিভ সোসাইটি

এভরিডে লিডারশীপঃ সাগরের ক্রিয়েটিভ সোসাইটি

1999 1330 bylc_blog_admin

ক্রিয়েটিভ সোসাইটি। নামটার মাঝেই কেমন একটা সৃজনশীলতার আঁচ পাওয়া যায়। তরুণ প্রজন্মকে যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনা  দক্ষতা, নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন ও উদ্বুদ্ধকরণ এবং মানসিক দক্ষতায় দক্ষ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৪ সালের ০১ লা নভেম্বর  “ক্রিয়েটিভ সোসাইটি”র প্রতিষ্ঠা হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে পড়ুয়া তিন বন্ধু আবু সাঈদ আল সাগর, আল-আমিন ইসলাম ও কাজী সানজিদুল ইসলাম শুভর প্রচেষ্টাতেই গড়ে উঠেছিলো এই প্ল্যাটফর্মটি।

কথা হলো প্রতিষ্ঠাতাদের একজন আবু সাঈদ আল সাগরের সাথে। সাগর ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশীপ সেন্টার আয়োজিত ইয়ুথ লিডারশীপ সামিটে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার বলের কাছ থেকে গ্রহণ করে ছিলেন ‘লিডারশীপ কনসেপ্ট অ্যাওয়ার্ড’। বর্তমানে বিওয়াইএলসির রংপুর বিভাগের ডিভিশনাল কোঅর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত বিজনেস কনফারেন্স ‘স্পাইক এশিয়া’তে করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। নেতৃত্ব চর্চা আর সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই শুরু করেছিলেন ক্রিয়েটিভ সোসাইটির যাত্রা।

সাগরের কাছে ক্রিয়েটিভ সোসাইটির মূল কাজ জানতে চাইলে বললেন ক্রিয়েটিভ সোসাইটির কার্যক্রমগুলো মূলত তিন ভাগে পরিচালনা করা হয়।

প্রথমত, সাপ্তাহিক সেশন। প্রতি সপ্তাহের শনিবারে সংগঠনের সাপ্তাহিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।  সেশনে সিটিজেনরা (ক্রিয়েটিভ সোসাইটির প্রত্যেক সদস্যকে ‘সিটিজেন’ নামে অভিহিত করা হয়) বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন মূলক, সহ-পাঠ্যক্রমিক শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নিজেদের যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনা  দক্ষতা, মানসিক দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

একটি জেনারেশনের জন্য A থেকে Z নামে ২৬ টি সেশন থাকে এবং এই সেশনগুলোতে সিটিজেনদের ১০ টি বিভিন্ন দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা হয়। একজন সিটিজেন সবগুলো সেশনে উপস্থিত থাকার মাধ্যমে নিজেকে ঐ ১০ টি  দক্ষতায় দক্ষ হলে, তাকে পরীক্ষার মাধ্যমে ‘ক্রিয়েটিভ সিটিজেন’ নামে ভূষিত করা হয় এবং তাকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয়ত, স্বেচ্ছাসেবা সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও শিক্ষামূলক ইভেন্ট। সিটিজেনদের সাংগঠনিক দক্ষতা, বাবস্থামূলক দক্ষতায় দক্ষ করতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন সেমিনার ( যেমন- বিদেশে পড়াশুনা বিষয়ে, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং সমাজ ও দেশের সবচ্চ উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারী কর্মকাণ্ডে  সহযোগীতামূলক ইত্যাদি), দক্ষতা উন্নয়নমূলক ওয়ার্কশপ (যেমন- ইন্টারনেট লিটারেসি, কম্পিউটারে দক্ষতামূলক, পেশাগত দক্ষতা বিষয়ক ইত্যাদি) ওবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজন (যেমন-শিক্ষাসফর) থাকে।

তৃতীয়ত, অনলাইন কার্যক্রম। ক্রিয়েটিভ সোসাইটির নিজস্ব ওয়েবসাইট ও স্যোশাল মিডিয়া পেজে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কন্টেন্ট, দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন সেমিনার, প্রতিযোগীতা, স্কলারশিপ ইত্যাদি তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তরুণদের এসবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হয় এবং এর মাধ্যমে তরুণরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। যে কেউ চাইলেই www.creativesocietybd.com ওয়েবসাইট থেকে সংগঠনের কার্যক্রমগুলো জানতে এবং সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে পারে।

আরও জানালেন ক্রিয়েটিভ সোসাইটির কিছু অর্জনের কথাও। ক্রিয়েটিভ সোসাইটির সদস্যরা করছেন দারুণ সব কাজ। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত ইয়ুথফেস্ট ২০১৬  প্রতিযোগীতায় ক্রিয়েটিভ সোসাইটির দুজন সদস্য আবু সাঈদ আল সাগর ও আল-আমিন ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন।  এছাড়াও ব্র্যাক আয়োজিত ‘আরবান ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০১৬’ তে ক্রিয়েটিভ সোসাইটির চারজন সিটিজেন কাজী সানজিদুল ইসলাম শুভ আবু সাঈদ আল সাগর, আল-আমিন ইসলাম ও তাসফিয়া সরকার অংশ নেন এবং জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ইউএনডিপি আয়োজিত আইডিয়া উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ‘ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ’ এ  ক্রিয়েটিভ সোসাইটির সিটিজেন বৃষ্টি ও তার দল জিতে ২য় রানার্স আপ পুরস্কার।

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? সাগর জানালেন- দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়েটিভ সোসাইটির শাখা স্থাপনের মাধ্যমে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে চান তারা। একটি ‘আইডিয়া জেনারেশন ল্যাব তৈরী যেখানে তরুণরা নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন করবে। এছাড়াও ক্রিয়েটিভ সোসাইটি কাজ করবে তরুণ শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম চাকুরী বা আয়ের সুযোগ, ইনটার্নশীপ ও স্কলারশীপের সুযোগ তৈরী করার জন্য। সাগরের চোখে প্রত্যাশা আর আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক।

বর্তমানে ক্রিয়েটিভ সোসাইটিই সাগরের ধ্যানজ্ঞান। নিজের বহু পরিশ্রম আর ভালোবাসায় গড়া এই প্ল্যাটফর্মটাকে এগিয়ে নিতে চান অনেকদূর। হতে চান একজন সফল উদ্যোক্তা । সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছেন নিরন্তর। সাগরের জন্য শুভকামনা। শুভকামনা ক্রিয়েটিভ সোসাইটি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সদস্যের জন্য।  তারুণ্যের নেতৃত্বেই আসবে পরিবর্তন।

 

1 comment
  • অসাধারণ আইডিয়া। বেরোবির মতো একটা নতুন ক্যাম্পাসে এরকম ইনোভেটিভ একটি আইডিয়া শত তরুণকে আলোকিত করবে। শুভকামনা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.