“সাবধান! এখানে লিডারশিপ শেখানো হয়।”

“সাবধান! এখানে লিডারশিপ শেখানো হয়।”

1000 654 Ahmed Sabbir

কেন আপনার  লিডারশিপ শেখা উচিত?  

একটু চিন্তা করলেই  দেখবেন প্রতিদিন আমাদের সামনে নেতৃত্ব(লিডারশিপ) চর্চার সুযোগ আসে। ধরুন, আপনি কোনো মিটিংএ গিয়ে দেখলেন সবাই মিটিংয়ের মূল বিষয় বাদ দিয়ে অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আপনি ব্যাপারটা বোঝা সত্ত্বেও সবার সাথে গল্প চালিয়ে যেতে পারেন অথবা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে পারেন আপনারা কেন মিটিংএ বসেছেন। আপনার এই সিদ্ধান্ত একধরণের নেতৃত্ব চর্চা যা কাজকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে। এভাবে প্রতিদিনই আপনার কাছে সুযোগ আসে। হয়তো কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার, মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলার কিংবা কোনো অমীমাংসিত বিরোধ নিস্পর্তি করার। নেতৃত্ব চৰ্চার মাধ্যমে আপনি চাইলেই প্রতিদিন আপনার নিজের ও আশেপাশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু কাজটা  অতটা সহজ নয়। কারণ আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় আপনি কি এইসব কাজ করবেন নাকি অন্যরা কিছু মনে করবে ভেবে সবদিনের মতো আরো একটি সাধারণ দিন কাটাবেন? আপনি হয়তো ঝুঁকি নিতে চাননা, না চাওয়াটাই স্বাভাবিক।

মানুষ তখনই আপনার কাজে বিরক্ত হয়, যখন আপনি এমন কোনো কাজ করেন যা তাদের কাছে পছন্দের নয়। হয়তো আপনি এমন কোনো আইডিয়ার কথা বলবেন যা নিয়ে আগে কখনো কেউ চিন্তা করেনি, হয়তো আপনি আপনার সহকর্মী বা বন্ধুদের সততা, ব্যবহার বা মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন করেন, অথবা তাদের বাস্তবতার মুখোমুখি করান। নেতৃত্ব চর্চা আপনাকে এইধরণের অনেক অসুবিধা বা সমস্যায় ফেলতে পারে। নেতৃত্ব চর্চা বিপদজনক একটি কাজ, কারণ যখন আপনি নেতৃত্ব চর্চা করবেন তখন আপনি মানুষকে পরিবর্তনের কথা বলেন যা মেনে নেয়া সহজ নয়। আপনাকে মানুষের দীর্ঘ দিনের অভ্যাস, মূল্যবোধ, চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে এবং ফলাফল স্বরূপ  অধিকাংশ সময় আপনি  নিশ্চিত কোনো উপকারিতার নিশ্চয়তা দিতে পারবেননা। এছাড়া নেতৃত্ব চর্চা বলতে এমন কিছু অতিরিক্ত কাজ করা বুঝায় যা করার দায়িত্ব হয়তো আপনাকে কেউ দেয়নি কিন্তু আপনার মনে হবে আপনার করা উচিৎ। সে ক্ষেত্রে আপনি যখন কাজটি করতে যাবেন অনেক ক্ষেত্রে মানুষ আপনাকে পরাজিত, নিরুৎসাহিত বা অযোগ্য প্রমাণ করতে তাদের বুদ্ধি, মেধা, ও অর্থ কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যার অনেকগুলো পন্থা হয়তোবা আপনি চিন্তাই করতে পারবেননা।    

যখনি আপনার সামনে নেতৃত্ব চর্চার সুযোগ আসে তখন হয়তো আপনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন, কারণ যিনি তার সচরাচর কাজ থেকে বেরিয়ে এসে কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, এমনকি পরিবারে নেতৃত্ব চর্চা করেন, তিনিই জানেন ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে তাকে কত বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। আপনি যতই ভালো নিয়মকানুন অনুসরণ করুন বা আপনার কাজ ও কৌশল নিয়ে সচেতন থাকুন না কেনো ব্যর্থতা আসতে পারে। এমনকি আপনি যখন নিশ্চিন্তে থাকেন যে আপনি সঠিক পথে আছেন তখনও।  নেতৃত্ব চর্চা খুব ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। স্বাভাবিক জীবনযাপন করে কিভাবে নেতৃত্ব চর্চা করা যায়? কেন  এবং কিভাবে নেতৃত্ব চর্চা বিপদজনক?  এইসব বিপদে আপনি কি করবেন? কিভাবে আপনার নেতৃত্ব চর্চার আগ্রহকে জিইয়ে রাখবেন? আমরা সব সময় এইসব মৌলিক প্রশ্নের সম্মুখীন হই। এইসব ঝুঁকি নেয়ার প্রয়োজণীয়তা যেমন আমাদের বুঝতে হবে, একই সময়ে নেতৃত্ব চর্চার বিপদজনক দিকগুলো সম্পর্কেও আমাদের জেনে রাখতে হবে। নেতৃত্ব চর্চা নিয়ে অনেক বই বা বক্তা আপনাকে শুধু অনুপ্রেরনার কথাই বলবে কিন্তু এর মন্দ দিকগুলো হয়তো তুলে ধরবেনা। আমরা জানি কাজটা কত কঠিন। আমরা অনেক মানুষকে চিনি যারা ব্যাপারটা নিয়ে ভীত।    

আর এই ভয় দূর করার অন্যতম উপায় হচ্ছে নেতৃত্ব বিষয়ে সঠিক ও স্বীকৃত প্রশিক্ষণ। যা জন্মগত ভাবে  আপনার নিজের মধ্যে নিহিত নেতৃত্ব চর্চার দক্ষতা আর আগ্রহকে অনেক গুন বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশের প্রথম নেতৃত্ব বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে BYLC গত ৮ বছরের বেশি সময় ধরে তরুণদের সাহস, যোগ্যতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দানের জন্যে প্রস্তুত করে গড়ে তোলার কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নেতৃত্ব শিক্ষার বিশ্বমানের পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষকগণের সহায়তায় আপনিও পারেন আপনার নিজের নেতৃত্ব চর্চার দক্ষতাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে। নেতৃত্ব চর্চা  শেখার পাঠশালায় আপনাকে স্বাগতম।

(রোনাল্ড হেইফেজ’র “লিডারশিপ অন দি লাইন” বই অবলম্বনে )

 

আহমেদ সাব্বির, বিওয়াইএলসি’র বিবিএলটি  চতুর্থ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী। বর্তমানে বিওয়াইএলসি’র মার্কেটিং ও আউটরিচ বিভাগে কর্মরত।

 

 

Leave a Reply

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.