যে ৬টি কারণে আপনার অবশ্যই ক্যারিয়ার ফেয়ারে যাওয়া উচিৎ

যে ৬টি কারণে আপনার অবশ্যই ক্যারিয়ার ফেয়ারে যাওয়া উচিৎ

4332 2888 Jamia Rahman Khan Tisa

ক্যারিয়ার সচেতন তরুণ তরুণীদের জন্য ক্যারিয়ার ফেয়ার একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম। এখানে যেমন চাকুরি বা ইন্টার্নশিপ লাভের সুযোগ থাকে তেমনি পাওয়া যায় ক্যারিয়ার সম্পর্কিত অনেক দিকনির্দেশনা। অনেক সময় আমরা মনে করি যে ছাত্রাবস্থায় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষে ক্যারিয়ার ফেয়ারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ধারণাটি একেবারেই সঠিক নয়। কেননা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনটি থেকেই। ক্যারিয়ার প্ল্যানিং সম্পর্কে ভালো গাইডলাইন পেতে চাইলে অবশ্যই ক্যারিয়ার ফেয়ারে আপনাকে যেতে হবে। আসুন জেনে নিই কিছু কারণ যে জন্য আপনার অবশ্যই ক্যারিয়ার ফেয়ারে যাওয়া উচিত।

১.চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ
একসাথে এতো সংখ্যক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাছে থেকে জানার ও দেখার সুযোগ ক্যারিয়ার ফেয়ার ছাড়া আপনি আর কোথাও পাবেন না। ক্যারিয়ার ফেয়ারে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগ সহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। তাদের কাছ থেকে সেই প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পর্কে যেমন জানা যায় তেমনি সেখানে কাজের সুযোগ সম্পর্কেও জানা যায়।

২.নেটওয়ার্কিং
ক্যারিয়ার ফেয়ারে শুধু যে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা থাকেন এমন তো নয়। বরং আপনার মতই আরও অনেক ক্যারিয়ার সচেতন তরুণ তরুণীর সমাগম ঘটে সেখানে। তাই নেটওয়ার্কিং এর সুযোগটাও থাকে বিস্তৃত।

৩.প্যানেল ডিসকাশন

প্যানেল ডিসকাশনে বক্তাদের ক্যারিয়ার বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন করার সুযোগ থাকে

অনেকসময় ক্যারিয়ার ফেয়ারে প্যানেল ডিসকাশনের আয়োজন করা হয়। ডিসকাশনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল বিভিন্ন ব্যক্তিরা। তারা বর্তমান চাকুরিবাজার, ভবিষ্যৎ এবং তরুণদের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। এতে করে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গাইডলাইন এবং দিকনির্দেশনা পেতে সুবিধা হয়।

৪.চাকুরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা লাভ
নিয়োগদাতারা আসলে কেমন লোক চাচ্ছেন, প্রার্থীর মাঝে কোন দক্ষতাগুলো তারা খুঁজছেন এই সমস্ত বিষয় খুব কাছে থেকে জানতে পারবেন ক্যারিয়ার ফেয়ারে গেলে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা তো তাদের চাহিদার কথা তুলে ধরেনই, পাশাপাশি প্যানেল ডিসকাশনের বক্তাদের বক্তব্য শুনেও চাকুরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।

৫.‘ইলেভেটর পিচ’ চর্চা
‘ইলেভেটর পিচ’ মানে হলো ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মাঝে এমনভাবে নিজের সম্পর্কে কিছু বলা যাতে করে শ্রোতা আপনার সম্পর্কে আগ্রহী এবং আপনার সম্পর্কে তার মনে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। যদিও ব্যাপারটা খুব কঠিন কিন্তু নিয়মিত চর্চায় এটি অনেকখানিই সহজ হয়ে যায়। নেটওয়ার্কিংকে ফলপ্রসূ করতে চাইলে ইলেভেটর পিচ  এ দক্ষ হওয়াটা খুব জরুরি। ইলেভেটর পিচ চর্চার একটা দারুণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে ক্যারিয়ার ফেয়ার যদি আপনি সেটাকে কাজে লাগান ঠিকমতো।

৬.চাকুরি বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ

স্পট ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে পেতে পারেন চাকুরি বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ

আপনার রেজিউমি যদি নিয়োগকর্তার পছন্দ হয় তবে আপনার জন্য তারা স্পট ইন্টারভিউ এর ব্যবস্থা করবে। এটি ক্যারিয়ার ফেয়ারের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক।যদি নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী যোগ্যতা আপনার মাঝে থাকে তবে পেয়ে যেতে পারেন কোন চাকুরি বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ।আর যদি চাকুরি বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ নাও পান তবুও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। স্পট ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে আপনি কতটা যোগ্য, আপনার ইন্টারভিউ দক্ষতা কেমন, কোন কোন জায়গায় আরও উন্নতি প্রয়োজন সেগুলো জানাতে পারবেন।

তবে আর দেরি কেন? খোঁজ রাখুন কোথাও ক্যারিয়ার ফেয়ার হচ্ছে কিনা। যোগ দিন আর যাচাই করে নিন নিজেকে। ক্যারিয়ার গাইডলাইন তো পাবেন ই। বোনাস হিসেবে নিজের মাঝে সম্ভাবনা থাকলে হয়তো পেয়ে যেতে পারেন দারুণ কোন সুযোগ।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.