ওপিডি; পেশাগত উন্নয়নের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম

ওপিডি; পেশাগত উন্নয়নের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম

4000 2668 Jamia Rahman Khan Tisa

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করেই চাকুরিতে যোগ দিতে আমরা প্রায় সবাই ই চাই। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বেশিরভাগ সময় আমাদের কাটে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর বন্ধুবান্ধবের সাথে সময় কাটিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ হওয়ার আগে আমরা কেউই ক্যারিয়ার নিয়ে বিশেষ ভাবিনা। আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, বাছাই প্রক্রিয়া, প্রফেশনাল এটিকেট সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞানের প্রচুর ঘাটতি থাকে। ফলে আমরা পছন্দের চাকুরি বা ইন্টার্নশিপের সুযোগটি হারাই। কোন প্রফেশন বেছে নেবো সেটা নিয়েও আমরা সন্দিহান থাকি। কাজের পরিবেশ কেমন হবে সেটা নিয়েও অনেকের ধারণা থাকেনা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই বিষয়গুলোকে খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়ার ফলাফল পড়াশোনা শেষে আমাদের ভালো মতনই ভুগতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই ২০১৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশীপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি)র একটি অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে অফিস অফ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওপিডি)।

 

বিওয়াইএলসির বিভিন্ন লিডারশীপ ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া গ্র্যাজুয়েটরা ওপিডির বিভিন্ন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপে অংশ নিতে পারে। ওপিডির ব্যবস্থাপক আশফাক কবির জানালেন ওপিডির কার্যক্রমের তিনটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ, চাকুরির সুযোগ তৈরি এবং চাকুরিদাতাদের সাথে তরুণদের সংযোগ স্থাপন করিয়ে দেওয়া। প্রতিবছর ওপিডি থেকে দেশের বিভিন্ন সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বিওয়াইএলসি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তাদের ফিডব্যাক এবং বর্তমান চাকুরিবাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই আমাদের প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপগুলোর কারিকুলাম সাজানো হয়েছে। এখানে মূলত শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার বিষয়ক গাইডলাইন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা প্রদানের উপর জোর দেওয়া হয়। একটা ইন্টারভিউ কিভাবে কার্যকর করতে হয়, কিভাবে রেজিউমি এবং কভার লেটার লিখতে হয়, নেগোসিয়েশনের ধরণ কেমন হবে এ সমস্ত বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ থাকে ওয়ার্কশপগুলোতে।

 

ওপিডির প্রতিটি ওয়ার্কশপে দেশের ভিন্ন ভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা মানুষেরা অতিথি হিসেবে আসেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তাদের দৃষ্টিতে বর্তমান চাকুরিবাজার, প্রয়োজনীয় দক্ষতার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীরাও অতিথিকে প্রশ্ন করার সুযোগ পায়। এতে করে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মজীবন জীবন সম্পর্কে ধারণা পায়। নিজেদের কর্মজীবন পরিকল্পনা এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। ওপিডি ওয়ার্কশপের প্রশিক্ষণার্থী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরভী মোহনা জানালেন, “ওপিডি থেকেই আমি জেনেছি সিভি আর রেজিউমি এক নয়। এখান থেকে আমি চাকুরিবাজার সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পেরেছি।” আরেক প্রশিক্ষণার্থী বুয়েটের দিমিত্রি জানালেন, “ওপিডি ওয়ার্কশপে আমার জন্য সবচেয়ে সহায়ক ছিল ‘মক ইন্টারভিউ সেশন’ এবং ‘ইলিভেটর পিচ’। এই দুটি বিষয় সম্পর্কে হাতেকলমে জ্ঞান লাভের সুযোগ আমি পেয়েছি।”

 

শীর্ষস্থানীয় চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে ওপিডির উদ্যোগে প্রতিবছরই আয়োজিত হয় বিওয়াইএলসি ক্যারিয়ার ফেয়ার। যাতে সকল বিওয়াইএলসি গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। ক্যারিয়ার ফেয়ারে প্যানেল ডিসকাশন, রেজিউমি সাবমিশন ও তথ্য আদান প্রদানের সুযোগ থাকে। উপস্থিত থাকেন দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তারা। স্পট ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে অনেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে চাকুরি লাভের সুযোগ পায়। সবকিছু মিলিয়ে ক্যারিয়ার ফেয়ারে চাকুরিবাজারকে শিক্ষার্থীরা খুব কাছ থেকে দেখার ও জানার সুযোগ পায় যা তাদের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

Leave a Reply

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.