সমস্যা যখন অ্যাডাপ্টিভ

সমস্যা যখন অ্যাডাপ্টিভ

3872 2592 Jamia Rahman Khan Tisa

বেশ ক’বছর আগের কথা। আমার এক আত্মীয়ের হার্টের অসুখ ধরা পড়লো। উনি সিগারেট খেতেন প্রচুর আর রিচফুড ছিলো উনার সবচেয়ে প্রিয়। সপ্তাহে তিনদিন গরুরমাংস না খেলে উনার চলতোই না। নামকরা প্রাইভেট কোম্পানির বড়কর্তা ছিলেন। মোটরগাড়িতে করে যেতেন অফিসে। ভূড়িটা দুলিয়ে যখন হাঁটতেন সে ছিলো এক দেখার মতন দৃশ্য।

বাইপাস সার্জারির পর ডাক্তার তাকে ঔষধ তো দিলোই। আরো দিলো কিছু তেতো উপদেশ। এবং সেগুলো তাকে মানতেই হবে যদি বেঁচে থাকতে চান। তা হলো আয়েশী জীবন ত্যাগ করে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। কমাতে হবে ওজন। ছাড়তে হবে গরুরমাংস, রিচফুড আর সিগারেট। উনি সাফ বলে দিলেন এর কোনোকিছুই তার দ্বারা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে মরে যাবেন তবুও পুরনো অভ্যাস তিনি ছাড়তে পারবেন না।

উনি চলছেন আগের মতই। সেই সাথে চলছে মেডিসিন ও। কিন্তু পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে ভালো নয় বরং গেলো খারাপের দিকে। হঠাৎ করেই তার শরীর একদিন ভীষণ রকমের খারাপ করলো। এবারে ডাক্তার ওনাকে বোঝালেন যে এভাবে আর কিছুদিন চললে উনি আর বাঁচবেনই না। টনক নড়লো তার। কিন্তু অভ্যাসগুলো বদলানো তার জন্য সহজ ছিলোনা। কারণ তিনি এগুলো ছাড়া চলতে অভ্যস্ত নন। তাছাড়া ব্যাপারটা টেকনিক্যাল নয়। বরং অ্যাডাপ্টিভ। এই সমস্যা চট করেই সমস্যার সমাধান করা যায়না। কারণ এইখানে অভিযোজনগত কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন।

তবুও তিনি পেরেছিলেন। কারণ তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন যে পরিবর্তন প্রয়োজন। বদলাতে হবে তাকে। রিচফুড, সিগারেট বিহীন জীবন আর নিয়মিত ব্যায়ামের সাথে তাকে খাপ খাওয়াতে হবে। এই বুঝতে পারা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে বদলে দিয়েছে আগের থেকে। অনেকটাই সুস্থ আছেন এখন।

পুরনো অভ্যাসগুলো ছেড়ে নতুন অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা খুব একটা সহজ কাজ নয়। একটা গাড়ির চাকা খারাপ হলে হয়তো খুব সহজেই সেটা সারিয়ে নেওয়া যায় কারণ এটা একটা টেকনিক্যাল সমস্যা। সমাধানটা সবার জানা এবং সহজ। অন্যদিকে যদি এমন হয় ড্রাইভারের চালানোতে ভুল থাকায় চাকা খারাপ হচ্ছে তবে কিন্তু কোনো টেকনিক্যাল সমাধানে কাজ হবেনা। ড্রাইভারের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে কারণ এটা একটা অ্যাডাপ্টিভ সমস্যা। এই সমাধান চট করেই করা যায়না।  সমাধানটা একটু কঠিনও বটে।

টেকনিক্যাল আর অ্যাডাপ্টিভ সমস্যার মাঝে সবচেয়ে বড়ো ফারাকের জায়গাটি হলো সমাধানে। টেকনিক্যাল সমস্যার সমাধান সবাই জানে কিন্তু অ্যাডাপ্টিভের বেলায় সমাধান খুঁজে বের করতে হয়।

এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে আলাদাও হতে পারে এই সমাধান। অ্যাডাপ্টিভ সমস্যার সমাধান যদি টেকনিক্যাল উপায়ে করা হয় তবে সেই সমস্যা ঘুরে ফিরে আবার আসে। অর্থাৎ স্থায়ী কোন সমাধান হয়না। যেমনটা হয়েছিলো আমার সেই আত্মীয়ের বেলায়। তিনি মেডিসিন নিয়ে হয়তো তার অসুখকে কিছুটা কমাচ্ছিলেন কিন্তু সমস্যা বারবার ফিরে ফিরে আসছিলো। আবার যখন তিনি নিজের মাঝে অ্যাডাপ্টিভ চেঞ্জ আনলেন  তখন তার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলো।

সমস্যার ধরণ বুঝতে পারাটা খুব জরুরী একটা ব্যাপার। এক গবেষণায় দেখা গেছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লিডারশীপ ব্যর্থ হয় কারণ লোকে সমস্যার ধরণটাই বুঝতে পারেনা। অ্যাডাপ্টিভ সমস্যার সমাধান করে টেকনিক্যাল উপায়ে। যার ফলাফল অস্থায়ী, কখনোবা শূন্য। অ্যাডাপ্টিভ সমাধানের বেলায় মানুষকে একধরণের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরিবর্তন গুলোর সাথে মানিয়ে নেওয়াটা একটু কঠিন ব্যাপার, কিন্তু অসম্ভব নয়। তাছাড়াও কখনো কখনো হতাশা আর ক্লান্তি আসে। অনেকটা এক্সপেরিমেন্ট করার মতন ব্যাপার এটা। কখনো নিজের উপর, কখনো চারপাশের পরিবেশের উপর। কিন্তু সাহস, অদম্য ইচ্ছা আর দক্ষতা থাকলে এই অ্যাডাপ্টিভ চ্যালেন্জের মোকাবেলা করা যায় খুব সহজেই। পাওয়া যায় সুদূরপ্রসারী দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল।

Leave a Reply

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.