স্বপ্নের প্রতি যাত্রা

স্বপ্নের প্রতি যাত্রা

4000 2667 Afreen Zaman Khan

নেতৃত্ব শব্দটি জানা থাকলেও, অজানা ছিল এর গভীর অর্থ। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেছি সাফল্যের, সাফল্যের জন্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাও বুঝেছি; হয়তো এটাও বলেছি যে একদিন লিডার হব। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো নিজের অজান্তেই দেখিয়েছি লিডারশীপ দক্ষতা কিন্ত বিওয়াইএলসি আমাকে দিয়েছে নেতৃত্বের গভীর উপলব্ধি। নেতৃত্বের কাজ হয়তো কিছুটা কঠিন, আসতে পারে আঘাত কিন্তু এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা। এই দক্ষতা অর্জনের আকাঙ্খা ও চেষ্টা ধরে রাখা আমি শিখেছি বিওয়াইএলসির কাছ থেকে।

ছোট থাকতে ইচ্ছা ছিল একদিন শিক্ষক হব। তখন ভেবেছি স্কুলে পড়াবো কিন্তু বয়সের সাথে, স্বপ্নটাও বড় হয়েছে। এখন আমার স্বপ্ন শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া গোটা দেশের মানুষের মাঝে, সেই শিক্ষা হবে স্বাস্থ্য নিয়ে শিক্ষা, পুষ্টি নিয়ে শিক্ষা। উন্নত করে তুলতে চাই এদেশের স্বাস্থ্য সুবিধা। এই প্রত্যাশায় আমি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োকেমিস্ট্রি এবং বায়োটেকনোলজি বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছি। অর্জন করেছি যথাযোগ্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। পড়াশোনার জগতে শীর্ষ স্থানেও অবস্থান করেছি। তবে এটাই তো শেষ নয়, এত বড় স্বপ্ন পূরণ করার জন্য দরকার পড়াশোনার বাইরের জগতেরও অভিজ্ঞতা। কাজেই বলা জেতে পারে যে আমার স্বপ্নটা স্বচ্ছ হলেও, সেই লক্ষ্যের প্রতি যাত্রাটা ছিল অস্পষ্ট।

২০০৯ সালে এ লেভেল শেষ করে বেশি দিন বসে থাকতে পারিনি। যোগ দিলাম নিজের স্কুলেই। ৬ মাস কাজ করলাম ও এন্ড এ লেভেল এক্সাম কোঅরডিনেটর হিসেবে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কাজ করলাম টিচিং অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে। এই ছোট খাটো কাজ গুলো আমাকে ভবিষ্যতের জন্য অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে। চতুর্থ বর্ষে এসে খোজ পেলাম বিওয়াইএলসির এ পি এল নামের ওয়ার্কশপটির। ফেসবুক এর মাধ্যমেই জানলাম এটার ব্যাপারে এবং একই সাথে জানলাম বিওয়াইএলসির ব্যাপারে। ব্যাপক নেটওয়ার্কিং ও অভিজ্ঞতা লাভ করার সুযোগ ছিল এই তিন দিনের ওয়ার্কশপের।

এপিএল এর তিন দিনের সেশনে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজের স্বপ্নের একটু কাছে পৌছালাম। লিডারশীপ শিখানোর পাশাপাশি এপিএল আমাকে দিয়েছে কর্মজীবন পরিকল্পনা করার ধারণা। এই অভিজ্ঞতা লাভ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষটাই সবচেয়ে আদর্শ সময়। আমি মনে করি আমার মত আর অনেক শিক্ষার্থীরাই এই তিন দিনের ওয়ার্কশপ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছে এবং জীবনে অগ্রগতি করার রাস্তাও পরিকল্পনা করতে পেরেছে।

মজার বিষয় হল যে এপিএল ওয়ার্কশপের এর পর বিওয়াইএলসির সাথে আমার সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন সময়ে তাদের থেকে সাড়া পেয়েছি অন্যান্য ওয়ার্কশপএর অরগানাইজিং কমিটিতে তে কাজ করার। পড়াশোনার কারনে এসব সুযোগ প্রায়ই হাতছাড়া হয়েছে তবে গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবার পর একটুও অপেক্ষা করিনি। খবর পেলাম যে বিওয়াইএলসি আয়োজন করছে বিশাল এক সামিটের। দেশ বিদেশ থেকে ৫০০ জন ডেলিগেট ও ৫০ জন স্পিকার দের নিয়ে বিশাল এক আয়োজন। এই সামিটের অরগানাইজিং কমিটিতে তে কাজ করার সুযোগ পেলাম। লিডারশীপ, কমিউনিকেশন, মার্কেটিং, অ্যাডমিনিসট্রেশন দক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখেছি এই কাজের মাধ্যমে।

শুরুতেই বলেছিলাম স্বপ্নটা অনেক বড়ো, কাজেই দক্ষতাও হতে হবে অসীম। প্রতিদিন একটু একটু করে অর্জন করছি দক্ষতা এবং এগিয়ে যাচ্ছি স্বপ্নের নিকট। এই যাত্রায় বিওয়াইএলসির অবদান হয়ে থাকবে সর্বদা অমূল্য।

 

২০১৪ সালে এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে।

আফরিন জামান খান ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের স্কুল অফ লাইফ সাইন্সে লেকচারার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেল্থ থেকে বায়োকেমিস্ট্রি এবং মলিকিউলার বায়োলজি বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন।    

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.