স্বাধীনতা: দুর্বার তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

স্বাধীনতা: দুর্বার তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

960 699 Zannatul Ferdous Miftah

শত আশার শততম টেস্ট ম্যাচ। টিভি পর্দার সামনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর টানটান উত্তেজনায় কোটি তরুণ। আর ওদিকে লংকান মাটিতে লড়ছে ওরা ক’জন – সাকিব, তামিম আর মুশফিক বাহিনী। অবশেষে এল বহুল প্রত্যাশিত সেই বিজয়। সিংহের ডেরায় গ্ল্যাডিয়েটরদের হারিয়ে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ালো বাংলার বাঘ। বিজয় উল্লাস ছড়িয়ে পরলো এ দেশের কোটি তরুণের চোখে-মুখে ফেইসবুকের নীল-সাদা পর্দায়, অলি-গলি পেরিয়ে রাজপথে টিএসসিতে। কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর কে রাস্তার পাশে রিকশা থামিয়ে বিজয় মিছিলে সামিল হওয়া ঘর্মাক্ত রিকশাওয়ালা কিংবা টং দোকানের চা বিক্রেতা – সে হিসেব নেবার কেউ নাই, এটাই তারুণ্যের শক্তি, এটাই তারুণ্যের স্বকীয়তা, এটাই তারুণ্যের সৌন্দর্য।

এ দেশের তরুণযুবা যেমন তাদের অদম্য সাহসিকতার চিহ্ন রেখে গেছে একাত্তরে, তেমনি রেখে যাচ্ছে আজও। তৎকালীন সময়ের সেরা সেরা সব রসদ নিয়েও সেদিন যেমন হানাদার বাহিনী ঘায়েল করতে পারে নি স্বাধীনতাকামী বাঙালী তরুণসমাজকে, তেমনি আজও হাজারটা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েও থেমে নেই মুক্তিপাগলের দল।

স্বাধীনতার ৪৬ বছরে বদলেছে স্বাধীনতার রূপ আর মুক্তির স্বাদ। একাত্তরের তরুণদের চোখে ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অধীন থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বপ্ন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের তরুণেরা দেখেছে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশটাকে তিল তিল করে গড়ে তোলার স্বপ্ন। আর একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা দেখি জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে বছরের পর বছর বাড়িয়ে মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির স্বপ্ন।

সাহস আর মনোবলের দিক থেকে যারা বুড়িয়ে গেছেন, তারা যখন একাধারে অভিযোগ করতে শুরু করেন, যত সব অপ্রাপ্তির খাতা খুলে নিয়ে বসেন, কোন কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে জানালে তাদের সমস্যার সমাধান হবে – তা নিয়ে ভাবেন, অকুতোভয় তরুণেরা তখন বিশ্বাস করে, “যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারি অমূল্য রতন।” এ দেশের সম্পদ সীমিত কিন্তু অভাব অসীম। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার আর নিজেদের মেধার প্রয়োগ ঘটিয়ে তরুণেরা নিজেরাই নিজেদের আশেপাশের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে এবং সমাধানের চেষ্টা করে। ব্যর্থতা আসে, বাধা-বিপত্তির দুর্যোগ আসে, আসে পরাজয়। কিন্তু তরুণেরা তো ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আবারও অগ্রসর হয় অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছতে। তরুণ বয়সে জবাবদিহিতার ভয় কম, আর তাই কাজের স্বাধীনতাটাও এ বয়সে একটু বেশি। শৈশব, কৈশোরের ছেলেমানুষি ভুলে তরুণ বয়সেই মানুষ বুঝতে শেখে ভালোমন্দের হিসেব। তাই এ বয়সটাতে তারা যাতে স্বাধীনতার সুষ্ঠু ব্যবহার করে ও স্বাধীনতার অপপ্রয়োগ না ঘটায় সেদিকে নজর রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার ধরণ পাল্টে এখন এমন সহজলভ্য এক আকার ধারণ করেছে যে পুরো দুনিয়া এখন হাতের মুঠোয়, স্মার্টফোনের এক ক্লিকেই। “আর্জেন্ট পোস্ট। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য এক ব্যাগ এ পজিটিভ রক্ত দরকার। কেউ দিতে আগ্রহী হলে দ্রুত কল করুন এই নম্বরে: +৮৮০১৭২৩৪..” – ফেইসবুকে নিজের হোমপেইজে এমন পোস্ট দেখে নি, এমন মানুষ কেউ নেই। আবার প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া সাইবার ক্রাইমের সংখ্যাটাও নেহায়েতই কম নয়। তরুণদেরকে অনুপ্রাণিত করতে হবে তাদের বিচারবোধ আর বিবেকের পরিচয় দিয়েই যাতে তারা কেবল ইতিবাচক কাজের জন্যই স্বাধীনতার প্রয়োগ ঘটায়, অন্যথায় নয়।

এ স্বাধীনতার মাসে দেশের সব ক’টি তরুণ হৃদয়ে দেশপ্রেম আর নৈতিক মূল্যবোধের চেতনা জেগে ওঠে, বছরের প্রতিটি দিন যদি তা অন্তরে লালন করেন আর প্রয়োজনমতো দেশের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনায় কাজ করে যায় – তবেই কেবল তরুণদের উল্লাস আজীবন স্থায়ী হবে।

Leave a Reply

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.