কমফোর্ট জোন কে না বলুন

কমফোর্ট জোন কে না বলুন

1000 639 Jamia Rahman Khan (Tisa)

আপনার লোকজনের সাথে কথা বলা প্রয়োজন কিন্তু আপনি তাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, নেটওয়ার্ক বাড়াতে অপরিচিত মানুষের সাথে যোগাযোগ প্রয়োজন সেখানেও আপনার মাঝে দ্বিধাবোধ কাজ করে। আবার দেখা যায় মিটিংয়ে হয়তো কিছু কথা আপনার নতুন একটা পরিচিতি দেয় কিন্তু আপনি সাহস করে কথাই বলতে চান না। এই ব্যাপারগুলি আমাদের কর্মক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ব্যাক্তিগতভাবে এই জিনিসগুলি আমরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।

নিজের “কমফোর্ট জোন” এর বাইরে যেতে আমরা কখনোই পছন্দ করি না। আমাদের অস্বস্তি লাগে, অকারণ অজানা ভয় আমাদের আটকে দেয়। অথচ কর্মক্ষেত্রে পা রাখার সাথে সাথে আমাদের এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় যেখানে মানিয়ে নেওয়াটা খুবই জরুরী। সত্যিকার অর্থে নতুন পরিবেশ, নতুন চ্যালেঞ্জের সাথে কাজ করার সাহস এবং ইচ্ছা না থাকলে অনেক সুযোগই আমাদের হারাতে হয়। এই ধরণের পরিস্থিতিতে যখন নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রশ্ন আসে তখন কি করা যেতে পারে?

প্রথমত, নিজের কাছে সৎ হওয়াটা খুব জরুরী যখন আপনি বড় কোনো কনফারেন্সে কথা বলার সুযোগ পেয়েও সেখানে কথা বলেন না তার কারণ কি শুধুই ভয় নাকি সময়ের অভাব? অথবা আপনার সহকর্মীর সাথে কোনো ব্যাপারে মনোমালিন্য হলো কিন্তু আপনি তার সাথে খোলাখুলি কথা বলতে পারছেন না । এর কারণ কি? আপনি কি ভাবছেন সে নিজ থেকে থেমে যাবে নাকি আপনিই দ্বন্ধকে ভয় পান? নিজের কাছে প্রশ্ন করুন। এই কারণগুলোর কোনটারই কি আদৌ যৌক্তিকতা আছে? কেউ যদি তার থেমে যাওয়ার পেছনে এই কারণগুলিকে দায়ী করতো, তাকে আপনি কি বলতেন? উত্তরটা কখনোই পরিস্কার নয়। কখনোই আপনি আপনার জড়তা বা ভয় কাটিয়ে উঠতে পারবেন না, যদি না আপনি আপনার উদ্দেশ্যের ব্যাপারে সৎ হন।

দ্বিতীয়ত, আচরণে পরিবর্তন আনুন। খুব কম লোকই আছে যারা কঠিন পরিবেশের মাঝে থেকেও কাজ চালিয়ে নিতে পারে। হয়তো আপনি কোনো বিষয়ে কথা বলতে ভয় পান, কিন্তু যখন বিষয়টির সম্পর্কে আপনি প্রচুর জানবেন তখন তা আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তাই কোনো বিষয়ে আলোচনা করার আগে কি বলছেন, কেন বলছেন তা জানুন। হয়তো আপনি নেটওয়ার্কিং করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এক্ষেত্রে কথা বলুন আপনার সহকর্মীর সাথে, মানুষজনের সাথে পরিচিত হউন। আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেই নিজের সাথে কথা বলুন। জানুন, আপনার কথা বলার কোন ভঙ্গিমাটি আকর্ষণীয়। ত্যাগ করুন মুদ্রাদোষ গুলি। আপনার আচরণের এইসব ছোটো ছোটো পরিবর্তন আপনাকে আপনার কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে আসতে অনেকখানিই সাহায্য করবে।

তৃতীয়ত, সুযোগগুলি চিনতে শিখুন এবং কাজে লাগান। নিজের কমফোর্ট জোন থেকে আপনাকে বের হতেই হবে। কোন উপায়ে আগানো আপনার জন্য সুবিধাজনক তা খুঁজে বের করুন। ধরা যাক, আপনি বহু মানুষের সামনে কথা বলতে পারেন না, আপনার অস্বস্তি লাগে। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে এক কোণায় যেয়ে বসে থাকেন কিন্তু অল্প মানুষজনের সামনে কথা বলাটা হয়তো আপনার জন্য সহজ। তবে সেটাই করুন। দেখবেন আপনার যোগাযোগ দক্ষতা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। আপনি অন্তর্মুখী স্বভাবের হতেই পারেন। সেটা দোষের কিছু না। তবে কর্মক্ষেত্রে আপনাকে বলতে হবে, নিজের কথাগুলোকে উপস্থাপন করতে জানতে হবে। নয়তো আপনি শুধু পিছিয়েই পড়বেন।

সবচেয়ে বড় কথা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে শিখুন। যতই কঠিন হোক না কেনো এটা আপনাকে করতেই হবে। ভেবে দেখুন, আপনার জীবনে নিশ্চয়ই অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো কাজ আপনাকে করতে হয়েছে কিন্তু যতটা ভয় আপনি পেয়েছিলেন বাস্তবে কাজটা তত কঠিন ছিলোনা।

এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বিখ্যাত প্রফেসর অ্যান্ডি মলিন্সকি তার জীবনের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন- “আমি পাবলিক স্পিকিং এ খুব কাঁচা ছিলাম। স্নাতক থাকাকালীন সময়ে এক শিক্ষক আমাদের পাবলিক স্পিকিং শেখাতেন আর ক্লাসে ছাত্ররা নোট নিতো। একদিন প্রফেসর বললেন তোমরা নোটগুলি জমা দাও আর এক এক করে বক্তব্য রাখতে শুরু করো। আর সবার মত আমিও ভয় পেলাম। কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার পর দেখলাম ব্যাপারটা তত কঠিন না যতটা আমরা ভেবেছিলাম। বরং নোট না থাকায় আমরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বলতে পেরেছিলাম আর তাতে স্বকীয়তা ছিলো। প্রফেসর যদি আমাদের এই পরিস্থিতিতে না ফেলতেন তবে হয়তো আমরা কখনোই বলার সাহস করতাম না আর ভালো বক্তাও হতে পারতাম না।”

শুধু পেশাগত জায়গাতেই নয় বরং ব্যাক্তিগত জীবনেও কমফোর্ট জোনে থাকতে চাওয়ার প্রবণতা আমাদের অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। ভয় আর অলসতার জন্য হারিয়ে যায় সম্ভাবনাগুলো। শুরু করাটাই আসল ব্যাপার। প্রথম দিকে হয়তো আপনি গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন না, হতাশা আসবে, আপনার কাজে ভুল হবে, বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ে যাবেন। মানিয়ে নিন। এটা খুবই স্বাভাবিক। বরং খুঁজে বের করুন কোথায় ভুল হয়েছে আর সেগুলি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করুন। একসময় কঠিন পরিবেশে কাজ করাটা আপনার জন্য আর কঠিন হবেনা। একসময় নিজেকে আবিস্কার করবেন সেই জায়গাটিতে যেখানে পৌছনোর স্বপ্ন আপনি দেখতেন।

2 comments

Leave a Reply

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.