লেখালেখি এবং নেতৃত্বচর্চা

লেখালেখি এবং নেতৃত্বচর্চা

683 683 Sabbir Jubaer

“Beneath the rule of men entirely great

The pen is mightier than the sword. Behold!

Take away the sword

States can be saved without it.”

১৮৩৯ সালে প্রখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার Edward Bulwer Lytton লিখে গিয়েছিলেন কেন তলোয়ারের চাইতে কলম বেশি শক্তিশালী

একসময় পৃথিবীর মানচিত্র পাল্টে যেতো তলোয়ারের জোরে। যার তলোয়ার যত বেশি ধারালো, তার ক্ষমতাও তত বেশি। তলোয়ারের জোরে এক রাজার পতন ঘটতো, অন্য রাজার ঘটতো উত্থান। তারপর একটা সময় আসলো যখন ধীরে ধীরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটলো। দেখা গেল তরবারির জায়গা দখল করে নিয়েছে কলম। সারা বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে দেখলো লেখনীশক্তি কেমন করে পুরো বিশ্বকে পাল্টে দেয়। কয়েকজন দার্শনিকের লেখালেখির ফলস্বরূপ ঘটেছিল ফরাসি বিপ্লব। সেই ফরাসি বিপ্লবের ঢেউয়ে আন্দোলিত হয়েছে সারা বিশ্ব

বিওয়াইএলসিতে বিবিএলটি ক্লাসে আমরা শিখেছি, আমাদের চারিদিকে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যেগুলোর সরাসরি কোন সমাধান নেই। সেগুলো সমাধানের জন্য নেতৃত্ব চর্চা করা প্রয়োজন। এই নেতৃত্ব চর্চা করার জন্য কোন পদমর্যাদা কিংবা ক্ষমতা থাকার প্রয়োজন নেই। আমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে আমাদের যে দক্ষতা বা শক্তির জায়গা আছে সেটা ব্যবহার করে সমাজে পরিবর্তন সাধন করতে পারি। লেখালেখি হতে পারে অনেকের শক্তির জায়গা। এর মাধ্যমেও সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

লেখালেখি কিভাবে সমাজ পরিবর্তনে সাহায্য করে?

লেখালেখি বিপ্লব ঘটায়। ভারতীয় উপমহাদেশ যখন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ তখন কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছে বিপ্লবে ঝাপিয়ে পড়তে লেখালেখি মানুষকে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়ে বাংলার মানুষ এ দেশের রূপ-সৌন্দর্য নতুন করে অনুভব করেছে এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে। লেখালেখি কোন জাতির ক্রান্তিকালে দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করে। ফরাসি জাতি যখন দ্বিধায় ছিল রাজতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের মধ্যে কোনটা বেছে নেবে। তখন একজন রুশোর লেখালেখি তাদের পথ বাতলে দিয়েছে। লেখালেখির মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়। সহমরণ প্রথা বন্ধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর লেখালেখির মাধ্যমে ভূমিকা রাখেন। বিধবাবিবাহ চালু করার ক্ষেত্রেও একইভাবে অবদান রেখেছেন।

সমাজে পরিবর্তন আনাতে হলে আগে নিজের সম্পর্কে জানা চাইলেখালেখির মাধ্যমে মানুষ নিজেকে বুঝতে শেখে। লিখতে গিয়ে মানুষ নিজের চরিত্রের প্রচ্ছন্ন দিকগুলো আবিষ্কার করে যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে ধরা পড়েনা।

আগে লেখালেখির চর্চা হতো প্রধানত ডায়েরী লেখার মাধ্যমে। রোজনামচা বলে যেটাকে। মানুষ রোজকার স্মৃতি টুকে রাখতেন ডায়েরীতে। কিন্তু সেই ডায়েরীকে বিবেচনা করা হতো গোপনীয় বস্তু। রাখা হতো লুকিযে। অন্য কারো সুযোগ ছিলনা সেখানে নজর বুলানোর। ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের কারনে ডায়েরি রাখার প্রবণতা কমে গিয়েছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্লগ। জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্লগে যেমন অনেকে লিখে থাকেন। অনেকে আবার ব্যক্তিগত ব্লগ পরিচালনা করেন। ব্লগের লেখা উন্মুক্ত সবার জন্য। পাঠক সেখানে কমেন্ট করে নিজের মতামত তুলে ধরতে পারেন। পছন্দ হলে লেখা শেয়ারও করেন

ব্লগের সবচেযে বড় সুবিধা হচ্ছে পাঠকই এখানে লেখক। সে কারনেই আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে নিজের একটি ব্লগ পরিচালনা করা। কারন এক্ষেত্রে আপনাকে অসাধারন কোন লেখক হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি হয়তো নিজেকে একজন বইপড়ুয়া হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোন সমস্যা নাই। একটা ব্লগ থাকলে আপনি নিজেও  লেখালেখি শুরু করতে পারেন। ব্লগ ব্যক্তিগত ডায়েরী হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে ঘটে চলেছে অসংখ্য ঘটনা। কোনটা মজাদার, কোনটা আবার দু:খেরঅনেক কিছু শেখার থাকে এসব ঘটনা থেকে। তাই এসব ঘটনা টুকে রাখলে ভবিষ্যতের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত থাকে।

কেউ লেখক হিসেবে জন্ম নেয়না। নিয়মিত চর্চা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তবেই লেখার মান উন্নত হয়।

এক্ষেত্রে ব্লগ খুব আদর্শ একটা মাধ্যম লেখার চর্চা করার। আগের লেখার সাথে পরের লেখার তুলনা করে নিজ লেখার উন্নতি খুব সহজেই বোঝা সম্ভব। তাছাড়া ব্লগিং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করে। আপনি কোন একটা চমৎকার বিষয়ে লিখলেন। পাঠক আপনার লেখায় তার মতামত তুলে ধরলো। আপনি তার উত্তর দিলেন। এভাবে লেখক-পাঠকের মধ্যে একটা চমৎকার মেল-বন্ধন গড়ে ওঠে।
মনের সূক্ষ্ণ অনুভূতি প্রকাশ করার চমৎকার মাধ্যম হচ্ছে লেখালেখি। মানুষের আনন্দ-বেদনা-দু:খ- আবেগের বিভিন্ন রূপ ফুটিয়ে তোলা যায় লেখনীর সাহায্যে। পরিশেষে, আপনি যখন দেখবেন আপনার লেখা পড়ে মানুষ উপকৃত হচ্ছে এবং মূল্যবান মনে করে শেয়ার করছে, তখন মানুষের উপকার করার অসাধারণ এক আনন্দ অনুভব করবেন।

1 comment

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Seo wordpress plugin by www.seowizard.org.